পাহাড়ের নিচ থেকে বসবাসকারীদের সরানোর নির্দেশ বিএসসি’র

প্রকাশ:| রবিবার, ১৯ জুলাই , ২০১৫ সময় ০৩:১৭ অপরাহ্ণ

নগরীর লালখান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের নিচে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের দ্রুত সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি।
বিএসসি
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে মন্ত্রী লালখান বাজার পোড়া কলোনি এলাকায় পাহাড়ের নিচে দেওয়াল ধসে তিনজন নিহতের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদও ছিলেন।

মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার ‍টাকা করে অনুদান দেয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়া হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চাল-ডাল দেয়ারও ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী লালখান বাজার পোড়া কলোনি এলাকায় পাহাড়ের নিচে যেসব মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে তাদের দ্রুত সরিয়ে নেবার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের নিচ থেকে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয়ার জন্য ব্যবস্থা নিতে বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রীর একান্ত সচিব নিয়াজ মোরশেদ নিরু বাংলানিউজকে বলেন, মন্ত্রী মহোদয় দ্রুততার সাথে ‍পাহাড়ের নিচ থেকে বসবাসকারীদের সরাতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া নগদ টাকা, চাল-ডাল দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

লালখান বাজারের পর মন্ত্রী আমিন কলোনিতে পাহাড় ধসের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বলে জানান নীরু।

লালখান বাজার পোড়া কলোনিসহ আশপাশের এলাকায় পাহাড়ের নিচে বসবাস করে এমন পরিবারের সংখ্যা জেলা প্রশাসনের হিসেবে ৬০০। এদের মধ্যে দু’শ পরিবারকে জুন মাসে বর্ষণের সময় সরিয়ে নেয়া হয়। বাকি আরও চার’শ পরিবারকে স্থানীয় শহীদনগর স্কুলে সরিয়ে নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) দিনগত রাত দুইটার দিকে আমিন কলোনিতে শাহজাহান মিস্ত্রীর ঘরে পাহাড় ধসে পড়লে একই পরিবারের তিন ভাই-বোনের প্রাণহানির এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এরা হল, আরাফাত হোসেন ফরিদ (১২), উম্মে সালমা (৫) ও বিবি মরিয়ম (২)।

এর আগে রাত রাত দেড়টার দিকে লালখান বাজারের পোড়া কলোনি এলাকায় দেয়াল ধসে মরিয়ম বেগম (৩০) তার মেয়ে সুরাইয়া (২) এবং একই এলাকার আঁখির (৫) প্রাণহানি হয়।

বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ও দেওয়াল ধসে গত ৮ বছরে প্রায় ২০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে ২০০৭ সালের ১১ জুন স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসে চট্টগ্রামে ১২৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট লালখানবাজারের মতিঝর্ণা এলাকায় পাহাড় ধসে মারা যান ১১ জন, ২০০৯ ও ২০১০ সালে নগরীর পাহাড়তলী, সিআরবি, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে মারা যান আরও ১৫ জন।

২০১১ সালের ১ জুলাই পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৮ জনসহ বাটালি পাহাড়ের রিটেইনিং দেয়াল ধসে ১৭ জন মারা যান। ২০১২ সালে ১৭ জুন নগরীর ফিরোজ শাহ কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় ২৩ জন মারা গেছেন। ২০১৩ সালে পাহাড় ও দেয়াল ধসে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৫ জনের।

২০০৭ সালে পাহাড় ধসের ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি ২৮টি কারণ নির্ধারণ করে ৩৬টি সুপারিশ প্রণয়ন করে। তবে সুপারিশগুলো আজ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নগরীর ১১টি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ৬৬৬টি পরিবার বসবাস করছে। এর মধ্যে নগরীর একে খান মালিকানাধীন পাহাড়ে ১৮৬ পরিবার, ইস্পাহানি পাহাড়ের দক্ষিণ পাশে হারুন খানের পাহাড় ও বায়তুল আমান সোসাইটির কাছে পাহাড়ে ৫টি, কৈবল্যধাম বিশ্ব কলোনি পাহাড়ে (পানির ট্যাংক) ২৭টি, লেকসিটি আবাসিক এলাকার পাহাড়ে ১২টি, আকবর শাহ আবাসিক এলাকা পাহাড়ে ২২টি, পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে সিটি কর্পোরেশন পাহাড়ে ১১টি, ফয়েজ লেক আবাসিক এলাকার কাছে পাহাড়ে ৯টি, ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট অ্যাকাডেমির উত্তর পাশে মীর মোহাম্মদ হাসানের মালিকানাধীন পাহাড়ে ৩৮টি, নাসিরাবাদ শিল্প এলাকা সংলগ্ন পাহাড়ে ৩টি, জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি সংলগ্ন পাহাড়ে ৩৩টি, মতিঝর্ণা ও বাটালি হিল পাহাড়ে ৩২০টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। এ ১১টি পাহাড় ছাড়াও আরো ১৪টি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রয়েছে।

চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি পাহাড়গুলোতে প্রভাবশালীদের সহায়তায় নিম্ন আয়ের লোকজন অবৈধভাবে বসতি গড়ে তোলে। প্রতি বছরই চট্টগ্রামে পাহাড় ও মাটি ধসে বিভিন্ন এলাকায় লোকজন মারা যায়।