পাসপোর্ট তদন্তে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ

প্রকাশ:| সোমবার, ১ ডিসেম্বর , ২০১৪ সময় ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

পেকুয়া প্রতিনিধি>>
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়নে পাসপোর্টের আবেদনপত্র তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নামে ডিএসবির কনস্টেবল শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পেকুয়ার ৭ ইউনিয়নের অসংখ্য পাসপোর্ট আবেদনকারী ভূক্তভোগীরা। পাসপোর্ট আবেদনকারীরা এখন তার কাছে অসহায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পেকুয়ার রাজাখালী এলাকার বাসিন্দা ও কক্সবাজার পাসপোর্ট অফিসের চিহ্নিত দালাল রিয়াজ উদ্দিন রাজু সাথে রয়েছে শাহিন মিয়ার বিশেষ দহরম-মহরম সম্পর্ক। এ ছাড়াও আরো কয়েকজন পাসপোর্ট অফিসের দালালের সাথে শাহিন মিয়ার সু-সম্পর্ক রয়েছে। এসব দালালের কাছ থেকে প্রতিনিয়িতই মোটা অংকের মাসোয়ারা নেন তিনি।

অভিযাগ রয়েছে, ওই ডিএসবি কনস্টেবলের বিরুদ্ধে স্থানীয় চিহ্নত মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা, চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসাসহ স্থানীয় বিভিন্ন মামলার আসামী চিহ্নিত বিএনপি-জামায়াতের কিছু নেতাদের সাথে দারুণ সখ্যতার ও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা যারা বিভিন্ন মামলার আসামী তাদের পাসপোর্টের পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ওই কনস্টেবল শাহিন মিয়া। বিভিন্ন চোরাই মোটর সাইকেল কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলা থেকে এনে পেকুয়ার বিভিন্ন জনের কাছে চড়াদামে ও বিক্রির অভিযাগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অপকর্ম উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা অবগত হয়েও ডিএসবি কনস্টেবল শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারনে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। স্থানীয়রা জানান, এ দাপুটে কনস্টেবল কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার আজাদ মিয়ার কাছের লোক পরিচয় দেওয়ায় সংম্লিষ্ট কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস ও করেনা। গত কয়েক মাস পূর্বে কনস্টেবল শাহিন মিয়াসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে টইটং ইউনিয়নের পোরদিয়া গ্রামের প্রাবাসী উসমান গণি মনুর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম লিলি বাদী চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি চাঁদাবাজীর মামলা করেছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিন বছর পূর্বে পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) এর কনস্টেবল হিসেবে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ এলাকার বাসিন্দা শাহিন মিয়া পেকুয়া থানায় যোগদান করেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ডিএসবি কনস্টেবল শাহিন মিয়া পেকুয়া থানায় যোগদান করেই শুরু করেন নানান অপকর্ম। পেকুয়া থানার সাবেক ওসি মো. হাবিবুর রহমানকে গত ৭/৮ মাস পূর্বে পেকুয়া চৌমুহুনী ষ্টেশনে লাঞ্চিত ও করেছিল ওই কনস্টেবল শাহিন মিয়া। প্রতিটি পাসপোর্টের আবেদনপত্র তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নামে তিনি ২হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০হাজার টাকা পর্যন্ত। কোন পাসপোর্ট আবেদনকারী তার দাবীকৃত টাকা না দিলে পাসপোর্ট আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। এদিকে গোপন সূত্রে জানা গেছে, কনস্টেবল শাহিন মিয়ার পেকুয়া থানায় যোগদান করার পর থেকে পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়নের ঠিকানা উল্লেখ করে প্রায় ২০-৩০ জন রোহিঙ্গা নাগরিক পাসপোর্ট পেয়েছেন। এর পিছনে নেপথ্যে রয়েছে, রাজাখালীর বাসিন্দা ও কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের চিহ্নিত দালাল রিয়াজ উদ্দিন রাজুর সাথে শাহিন মিয়ার গোপন আঁতাত! রোহিঙ্গা নাগরিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের লেনদেন করে দালাল রাজু তার এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে এসব রোহিঙ্গা নাগরিকের পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে ডিএসবি কনস্টেবল শাহিন মিয়াকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করেছেন। স্থানীয়রা রাজাখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে গত দুই বছর ধরে যারা আবেদন করে পাসপোর্ট পেয়েছেন; এসব পাসপোর্টধারীদের ঠিকানা যদি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলে সত্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবী করেছেন।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে পেকুয়া থানায় কর্মরত ডিএসবি কনস্টেবল শাহিন মিয়ার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযাগ সরাসরি অস্বীকার করে জানান, পাসপোর্ট তদন্ত করে প্রতি্েবদন দেওয়ার নামে তিনি কাউকে আর্থিকভাবে হয়রানী করছেনা। চোরাই মোটর সাইকেলের ব্যবসার সাথে ও জড়িত নাই বলেও দাবী করেন।

এ বিষয়ে টেলিফোনে অবহিত করা হলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কান্তি নাগ এ প্রতিবেদককে বলেন, পেকুয়া থানায় কর্মরত ডিএসবি কনস্টেবল শাহিন মিয়ার নানা অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।