পালংখালীতে এস্টেটে গুলিবর্ষন: অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেফতার-১০

প্রকাশ:| সোমবার, ১২ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া :
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ক্রাইম জোন খ্যাত হিসেবে পরিচিত সন্ত্রাসের জনপদ আঞ্জুমান পাড়া গ্রামে ওয়াকফ এস্টেটের জায়গা জবরদখল ও পাকাধান লুটপাট করতে গিয়ে কয়েক শত রাউন্ড গুলিবর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে মহিলা সহ ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাশ্ববর্তী লোকজন এগিয়ে এসে আহদের উদ্ধার করে উখিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবি সদস্য ও পুলিশ সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র সহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল খায়ের ও তদন্ত ওসি কায় কিসলু বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ও বিজিবি’র অতিরিক্ত সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে। গতকাল (১২ ডিসেম্বর) সোমবার বিকেলে ৫টায় দিকে এ ঘটনাটি ঘটেছে। সন্ধার পর থেকে পালংখালী আঞ্জুমান পাড়া এলাকায় টানটান উত্তেজনা ও থমথম অবস্থা বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসীরা বলেন, পালংখালী ইউনিয়নের মরহুম মৌলভী আব্দুল লতিফ আনোয়ার চৌধুরী ওয়াকফ এস্টেটের জমি ও চিংড়িঘের দখল নিয়ে দু’গ্র“পের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। বিশেষ করে উক্ত ওয়াকফ এস্টেটের মতোয়াল্লি দাবী নিয়ে লতিফ আনোয়ার চৌধুরী প্রকাশ খোকা মিয়া ও সোহেল মোস্তফা চৌধুরী প্রকাশ সোহেল মিয়া মধ্যে তীব্র দ্বন্দ চলে আসলেও সাধারণ গ্রামবাসী, প্রজা ও চাষীদের সমর্থনে খোকা মিয়া এস্টেটের দেখভাল ও পরিচালনা করে আসছে। কক্সবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন জুয়েল বলেন, গতকাল বিকেলে সোহেল মোস্তাফা চৌধুরীর নেতৃত্বে শতাধিক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অর্তকিত অবস্থায় আঞ্জুমান পাড়া ওয়াকফ এস্টেটে ঢুকে ব্যাপক গুলি বর্ষন করে ও লুটপাট চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাড়াটিয়া ও চিহিৃত অস্ত্রধারীরা মুহু মুহু গুলি বর্ষন করে এলাকা রনক্ষেত্র পরিণত করে। সন্ত্রাসীদের তান্ডব ও গুলির শব্দে নিরহ জনগণ এলাকা ছেড়ে পালাতে থাকে। এসময় ওয়াকফ এস্টেটের অফিস দখল করে নেওয়ার অপচেষ্টা লিপ্ত ছিল সোহেল বাহিনীর অস্ত্রধারীরা। বাঁধা দিতে গিয়ে আহত হয় কেয়ারটেকার আবুল মনজুর প্রকাশ আলী মনজুর (৫৫), অফিস সহকারী শাহারাজ হোসেন (৪৫) সহ ৮/৯জন মহিলা। স্থানীয় মেম্বার সোলতান আহমদ বলেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা রাজত্ব কায়েম, প্রকাশ্য গুলিবর্ষন করে তান্ডবলীলা চালিয়ে শতশত মন পাকাধান লুটপাট চলাকালে খবর পেয়ে আঞ্জুমান পাড়া সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবি সদস্যরা আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে অভিযান চালায়। অভিযান কালে সোহেল মোস্তফা চৌধুরী প্রকাশ সোহেল মিয়া (৫৫), শফিকুল ইসলাম প্রকাশ মতিয়া (৪৫), মোরশেদ (৩০), আবু বক্কর (২৭), সাদ্দাম হোসেন (২৮), আক্তার (৩২) সহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ৩টি অবৈধ অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে উখিয়া থানার ওসি জানান। অপর একটি সূত্রে জানিয়েছে সোহেল মিয়াকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীরা জানান, প্রায় ৯৫০ একর বিশিষ্ট ওয়াকফ এস্টেটের জমিতে চাষাবাদকৃত পাকাধান লুট করার জন্য সশন্ত্র হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটাতে ব্যাপক গুলাগুলি ঘটনায় এলাকায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতি মারাত্বক অবনতি দেখা দিয়েছে। ওয়াকফ এস্টেটের মোতায়াল্লি লতিফ আনোয়ার চৌধুরী প্রকাশ খোকা মিয়া বলেন, ১০/১২ দিন ধরে কক্সবাজারের কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী ক্যাডার নিয়ে আমার ওয়াকফ এস্টেটে হামলা চালিয়ে আমাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করছিল। আমি বিষয়টি টের পেয়ে গত শুক্রবার উখিয়া থানার ওসি কে অবহিত করে ওয়াকফ এস্টেট থেকে কৌশলে চট্টগ্রামে চলে আসছি। ইতি মধ্যে সোহেল মোস্তাফা চৌধুরী স্থানীয় কতিপয় রাজনৈতিক নেতাকে ম্যানেজ করে ও প্রশাসনের কর্মকর্তার সাথে আতাঁত করে আমার অংশীদারিত্ব ওয়াকফ এস্টেটটি দখল করতে গতকাল ন্যাক্কারজনক ভাবে অস্ত্রধারীরা সশন্ত্র হামলা চালিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি এ ব্যাপারে হাইকোর্টে সোহেল মোস্তফা চৌধুরীর মোতায়াল্লির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট-পিটিশন মামলা ও একই সাথে ১৬৪ ধারা চেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) বরাবরে আবেদন করা হয়।
এ প্রসঙ্গে সোহেল মোস্তফা চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উক্ত ওয়াকফ এস্টেটের বৈধ মোতায়াল্লি। বর্তমানে এলাকায় মারাত্বক আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অবনতি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার উখিয়া সার্কেল আবদুল মালেক মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ রিপোর্ট লেখাকালীন পর্যন্ত উখিয়া থানা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।