‘পার্লামেন্ট-গণমাধ্যম দখল করেছে সরকারও কিনে ফেলবে ব্যবসায়ীরা’

প্রকাশ:| শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

সরকার কিনবে
‘এক শতাংশ লোকের কাছে যদি দেশের ৫০ শতাংশ অর্থ জমা থাকে। তাহলে তো দেশে ভয়ানক বিপত্তিটা ঘটে যাচ্ছে। সেই বিপত্তি থেকে ত্রাণ পাওয়ার জন্য আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। তা নাহলে ওরা বসত তো কিনেছে ফেলেছে। পার্লামেন্টও কিনে ফেলেছে। সরকার কিনে ফেলবে ওরা।’ সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন জাসদের কার্যকরী সভাপতি এবং সংসদ সদস্য মাঈনুদ্দিন খান বাদল।

সাংসদ বাদল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্বের এক শতাংশ মানুষ পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের সম্পদের মালিক। বাংলাদেশের অবস্থাও একইরকম। বর্তমানে সংসদে ২৪০ জন ব্যবসায়ী। তারা পার্লামেন্ট দখল করে ফেলেছে। রাজনৈতিক অঙ্গন, সংবাদপত্রেও তাদের প্রভাব। তাহলে সাধারণ জনগণ কোথায় যাবে। জনগণের কথা সাংবাদিকদের তুলে ধরতে হবে।’

গণমাধ্যমে ব্যবসায়ীদের নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বাদল বলেন, ‘দেশে টেলিভিশন চ্যানেল, পত্রিকার মালিকানা, সংবাদ পত্রের নীতির সাথে সাংবাদিকদের ভুমিকা থাকছে না। তাই গণমাধ্যমে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হচ্ছে না।’

‘সংসদে মুক্তকণ্ঠে দুই একটা কথা বলতে চাই। কিন্তু বলতে গেলেই দেখি অনেকের ক্ষমতার মুখ ভারি হয়ে যায়। কথা বলতে গেলে প্রতিকুলতার শিকার হই। যতক্ষণ জীবন আছে ততক্ষণ বলতে চাই। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ’

বাংলাদেশের মোট জিডিপির অধিকাংশ চট্টগ্রাম থেকে। ৭ বছর আগে যেকথা বলেছি। আজও সে কথা বলছি। কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণের কথাও সাতবছর আগে বলেছি। এ টানেল যদি সাত বছর আগে হতো তাহলে চট্টগ্রামবাসী তথা বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হতো, বলেন সাংসদ বাদল।

সত্য কথা বলতে না পারলে দেশের ক্ষতি হবে বলে মন্তব্য করে সাংসদ বাদল বলেন, ’ আমি নিজের চোখে দেখেছি। সেই স্মৃতি চোখ এখনও মুছে যায়নি। দালালরা এমন আচরণ করেছে, আকাশ বলেছে শেখ মুজিব, বাতাস বলেছে শেখ মুজিব, নদী বলেছে শেখ মুজিব। কিন্তু একদিন যখন পাল্টে যায় তখন কাউকে চিৎকার করতে দেখিনা। আমরা তখন বিরোধী দল করতাম। সেসময় আমি কর্মীদেরকে নির্দেশ দিয়ে দিয়েছিলাম, রেলস্টেশনে চিকা মার। বঙ্গবন্ধুর বিরোধীতা করি। কিন্তু তার নিদারুন হত্যাকা- মানিনা।

ওই চিকা মারতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন পূর্বদেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক নাসির উদ্দিন চৌধুরী। ধরা পড়ে তিনি সেসময় সীমাহীন অত্যাচারের শিকারও হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিরোধীতা করার কারণে আমার সহকর্মী দোহাজারীর খসরুকে সেনাবাহিনী মেরে ফেলেছে। বঙ্গবন্ধুর বিরোধীতা করেছি। কিন্তু মিথ্যাচার করিনি। বহু দালাল দেখেছি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তারা একটি শব্দ উচ্চারণ করেনি। আজকে যেন সে ধরণের আরেকটা পরিণতি না হয়। আপনাদের কলম, ক্যামেরা সতর্ক থাকতে হবে। জনগণকে সতর্ক করার কাজে আমরা আপনাদের (গণমাধ্যম) সহযোগিতা চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে জাসদের চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা নেতাদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে মাঈনুদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘১০-২০ বছর নয়, গড়ে ৪০ বছর ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছে জাসদ নেতারা। জীবন যুদ্ধে তারা ক্লান্ত। কিন্তু পরাজিত হয়নি। হারায়নি জীবন পথ।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাসদ এর দক্ষিণ জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম মন্টু, সাধারণ সম্পাদক স্বপন চৌধুরী, উত্তর জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ভানু রঞ্জন চক্রবর্ত্তী, সাধারণ সম্পাদক এসএম আখতারুল আলম। জাসদ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বাবু প্রমুখ।