পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় ফুটবললীগ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

প্রকাশ:| শনিবার, ২২ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ০৭:৩৪ অপরাহ্ণ

বান্দরবানে আয়োজক কমিটির বিরুদ্ধে
বান্দরবান প্রতিনিধি ॥
বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় ফুটবললীগ নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পাতানো ম্যাচ খেলার অভিযোগের ক’দিন পরেই আয়োজক কমিটির বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছে খেলোয়ারেরা। আজ শনিবার বিকালে জেলা স্টেডিয়ামের লীগের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলতে নেমে না খেলেই মাঠ ছেড়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা দল। খেলায় ওয়াক টাইম দিয়ে সম্প্রীতি বান্দরবান দল’কে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
খেলোয়াররা জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা দলের সঙ্গে সম্প্রীতি বান্দরবান দলের মধ্যে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচে বহিরাগত অভিযোগে নাইক্ষ্যংছড়ি দলের সেরা ৩ জন খেলোয়ার’কে বাদ করে দেয়া হয়। বিগত চারটি ম্যাচে খেলার পর হঠাৎ সেমিফাইনালে তিন খেলোয়ার’কে বহিরাগত অজুহাতে খেলতে না দেয়ায় না খেলে মাঠ ত্যাগ করেন নাইক্ষ্যংছড়ি দল। মধ্যমপাড়া টিমের চেয়ারম্যান আকাশ এবং আর্মী পাড়া টিমের সদস্য রতন’সহ অংশ নেয়া কয়েকটি দলের কর্মকর্তারা বলেন, মৌখিক এবং লিখিতভাবে নাইক্ষ্যংছড়ি দল-জেলা পুলিশ দলের বিরুদ্ধে পাতানো ম্যাচ খেলা’সহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে আমরাও লীগ পরিচালনা কমিটি’কে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। লীগের শুরু থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি দলের অভিযুক্ত খেলোয়ার’রা ম্যাচ খেলে আসছেন অভিযোগ দিয়েও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কিন্তু সম্প্রীতি বান্দরবান দলের সঙ্গে খেলা পড়ায় নাইক্ষ্যংছড়ি দলের খেলোয়াররা বহিরাগত অবৈধ হয়ে গেছেন। আয়োজক কমিটি’তে রোটারী ক্লাবের টিম সম্প্রীতি বান্দরবান দলের সদস্যরা জড়িত থাকায় নিয়মনীতির বেলায় স্বজনপ্রীতি ঘটনা ঘটছে। নাইক্ষ্যংছড়ি দলের টিম ম্যানেজার মোহাম্মদ জসিম বলেন, লীগের শুরু থেকে যারা খেলে আসছেন তারাই সেমিফাইনালে খেলতে এসেছেন। বহিরাগত অবৈধ খেলোয়ার হলে অন্যান্য ম্যাচগুলো কিভাবে খেলেছেন। একই ফুটবল লীগে একই খেলোয়ার একবার বৈধ (স্থানীয়) এবং আরেকবার অবৈধ (বহিরাগত) প্রমানিত হওয়ার বিষয়টি আয়োজক কমিটি নিষ্ঠা নিয়ে স্বাভাবিকই প্রশ্ন উঠে। আয়োজক কমিটির দু’ধরণের আচরণ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নিয়মনীতি পরিপন্থি। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করে পার্বত্য মন্ত্রণালয় ফুটবললীগ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব লক্ষি পদ দাশ এবং লীগ নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি সেক্রেটারী মংহ্নচিং মারমা জানান, কোনো দলের পক্ষে পক্ষপাতের কোনো সুযোগ নেই। মৌখিক অভিযোগ করলেও নাইক্ষ্যংছড়ি দলের বিপক্ষে এতদিন কোনো টিমই লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি। সম্প্রীতি বান্দরবান দলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে অভিযুক্ত তি খেলোয়ার বহিরাগত প্রমানিত হওয়ায় তাদের’কে বাদ দেয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগেই লীগ পরিচালনা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত নাইক্ষ্যংছড়ি দল’কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এদিকে শনিবার বিকালে ফুটবল খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শক ভীড় জমায়। দুটি দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ খেলা না হওয়ায় দর্শকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে খেলোয়ারদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে দর্শক ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মাঠ ছাড়েন নাইক্ষ্যংছড়ি দল উভয় দলের খেলোয়াররা।
প্রসঙ্গত: গত ত্রিশ অক্টোবর জেলা স্টেডিয়ামে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় ফুটবললীগ আরম্ভ হয়। লীগে জেলার দশটি দল অংশ নিয়েছে। লীগের প্রথম সেমিফাইনালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা দল এবং জেলা পুলিশ দলের মধ্যেকার খেলা পাতানো ম্যাচ ছিল অভিযোগ খেলোযারদের।


আরোও সংবাদ