পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক-সন্তু লারমা

প্রকাশ:| শনিবার, ২৮ নভেম্বর , ২০১৫ সময় ০৬:৩৫ অপরাহ্ণ

শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন না করায় পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে বলে দাবি ওই অঞ্চলের জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার (সন্তু লারমা)। জুম্ম জনগণের বঞ্চনা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি কোনো তোয়াক্কা না করে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ও অস্ত্র শক্তি ব্যবহার করে স্থানীয়দের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দমনপীড়ন করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জনসংহতি সমিতির উদ্যোগে শনিবার রাজধানীর হোটেল সুন্দরবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সন্তু লারমা এমন মন্তব্য করেন।

হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে সন্তু লারমা বলেন, ‘সরকার যদি অস্ত্র শক্তি ব্যবহার করে জুম্ম জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দমনপীড়ন করতে থাকে, তাহলে পেছনে ফেরার কোনো উপায় থাকবে না। জুম্ম জনগণ আরো কঠোর ও কঠিন কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।’

জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, জুম্ম জনগণ তাদের জাতীয় অস্তিত্ব ও আবাসভূমি সংরক্ষণের স্বার্থে আত্মবলিদানে ভীত না হয়ে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে বদ্ধপরিকর। আর যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য সরকার তথা শাসকগোষ্ঠীই দায়ী থাকবে।

তবে জনসংহতি সমিতি আশা করে, সরকার তথা দেশের শাসকগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামের এই বাস্তবতাকে সম্যকভাবে অনুধাবন করে রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেবে।

জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, আইইডি নির্বাহী পরিচালক নুমান আহমেদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার বিভাগের দীপায়ন খীসা প্রমুখ।

এদিকে শান্তি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ২ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় রাঙামাটি জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে এক গণসমাবেশের কর্মসূচির ঘোষণাও দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।


আরোও সংবাদ