পার্চিং পদ্ধতিতে পোকা দমন করে আড়াইহাজারের কৃষকরা উপকৃত

প্রকাশ:| রবিবার, ২৭ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ০৭:৩১ অপরাহ্ণ

পার্চিং পদ্ধতীতে পোকামাকড় দমন করে এবার আড়াইহাজার উপজেলার কৃষকরা বেশ উপকৃত হয়েছে। এবছর ১০৫৬০ হেক্টর জমিতে অন্যান্য বছরের তুলনায় বোরো ধানের ফলনও হয়েছে আশাতীত।

ইতিমধ্যেই ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকের ঘরে ঘরে আনন্দ। গত কয়েক বছর ধরে আড়াইহাজার উপজেলার চাষীদের কাছে ধান ক্ষেতে পোকামাকড় দমনের জন্যে পার্চিং পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উপজেলার ৩০ টি ব্লকে পার্চিং পদ্ধতিতে পোকামাকড় দমনের চিত্র চোখে পড়ে।

স্থানীয় কৃষি অফিসের ব্লক সুপারভাইজাররা এই পদ্ধতিটি প্রচলনে ভূমিকা রেখেছেন। ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের হাত থেকে ফসলকে রক্ষার জন্য প্রয়োজন পার্চিং ও বাদামি গাছ ফড়িং ( বিপিএইচ) থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজন লাইনিং।

আড়াইহাজার উপজেলা কৃষি অফিসের মতে , পার্চিং দুই ধরনের হয়ে থাকে। জীবন্ত পার্চিং ও মৃত পার্চিং । জীবন্ত পার্চিং হল ধৈঞ্চা শনপাট। মৃত পার্চিং হল বিভিন্ন প্রকার ডালপালা। তবে ফসলের জন্য জীবন্ত পার্চিং বেশ কার্যকর পদ্ধতি। কারণ জীবন্ত পার্চিং যেমন পাখির জন্য আশ্রয়কেন্দ্র হয় তেমনি গাছের ডালপালা মাটিতে পড়ে সার হয়।

আর লাইনিং হচ্ছে সঠিকমাপে সঠিকবাবে সারি করে চারা লাগানো। সাধারণত ধানের চারা ৯ ইঞ্চি বাই ৬ ইঞ্চি মাপে সারি করে লাগাতে হয়। আবার ১৪ সারি পর পর এক সারি ফাঁকা রাখতে হয় অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যার জন্য। এতেকরে ফসলে বাদামি গাছ ফড়িং এর আক্রমন কম হয়।

পার্চিং বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আব্দুল কাদের বলেন, ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে পার্চিং এর গুরুত্ব অপরিসীম। সাধারণত ধানের বীজতলা করার সময় ধৈঞ্চাবীজ আলাদা লাগাতে হয়। পরে ধানের চারা রোপনের পর ঐ জমিতে হেক্টর প্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টি করে ধৈঞ্চার গাছ লাগাতে হয়। ধান ফসলের ধৈঞ্চা গাছে ফিঙে , বুলবুলি , শালিকসহ বিভিন্ন প্রকার পরভোজী পাখি বসে। বিমেষ করে একটি ফিঙে পাখি। সারাদিনে ৩০ টি করে ক্ষতিকারক পোকার মথ , ডিম , ক্রিড়া খেয়ে থাকে।

কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে , বর্তমান বোরো মৌসুমে ধান ফসলের শতভাগ জমিতেই পার্চিং ও লাইনিং এর কাজ সম্পন্ন করেছে কৃষি বিভাগ। কৃষকরা এসব পদ্ধতিতে আগ্রহী হয় মাঠ পর্যায়ে এর সুফলগুলো তুলে ধরে তাদের উৎসাহ প্রদান করে এ কাজটি সম্পন্ন করেছে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। এর জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কর্মরত আছেন।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে , ধান ফসলে লাইনিং ও পার্চিং এর কাজ শতভাগ পূরন করবেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। আড়াইহাজার উপজেলার ৩০ টি ব্লকে এখনো শতভাগ লাইনিং ও পার্চিং হয়নি। মাত্র ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে , রসুলপুর , পাঁচরুখি , বাজবী , কালিবাড়ি , পাঁচগাঁও , বিনাইরচর , নরিংদী , ব্রাক্ষন্দী , প্রভাকরদী , ঝাউগড়া , ফতেপুর ব্লকের বগাদী , কালির হাট ও জারাকান্দি এলাকায় লাইনিং ও পার্চিং চোখে পড়ে। এ বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০৯০০ হেক্টর। বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১০৫৬০ হেক্টর জমিতে।

বর্তমানে উপজেলার ফতেপুর , নৈকাহন , মাহমুদপুর , মোল্লারচর , তিলচন্ডি , বল্লভদী , উচিৎপুরা , বিশনন্দি , খাগকান্দা , নয়নাবাদ , খালিয়ার চর , ঝাউকান্দি ও হাইজাদী ব্লকে পার্চিং এর কাজ চলছে।