পারমাণবিক অস্ত্র বর্জনের জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

পারমাণবিক অস্ত্র বর্জনের জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (ন্যাম) আয়োজিত পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেছেন।

তিনি বলেন, “পারমাণবিক অস্ত্রগুলোকে এখনও আরো বেশি প্রাণঘাতী করার লক্ষ্যে শাণিত করা হচ্ছে এবং বিপুল সংখ্যায় মজুদ গড়ে তোলা হচ্ছে। তাই মানবজাতি ও একমাত্র বসবাসের স্থান পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ গুরুত্বপূর্ণ।”

পারমাণবিক অস্ত্র সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা কি এক মুহূর্তের জন্যও এমন একটি বিশ্বের চিন্তা করতে পারি না, যা আমরা আমাদের সন্তান ও নাতি-নাতনীদের জন্য রেখে যেতে চাই। আমরা যদি তা করি, তাহলে একটি সার্বজনীন ও স্বতঃর্স্ফূত সাড়া হবে একটি পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত বিশ্ব গড়ার জন্য কাজ করা।”

তিনি বলেন, “তিনটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের নিকটে অবস্থান হওয়ার কারণে এসব মারাত্মক অস্ত্রের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ বাংলাদেশের রয়েছে।”

হিরোশিমা ও নাগাসাকির ভয়ঙ্কর পরিণতির কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “হিরোশিমা ও নাগাসাকির ভয়ঙ্কর অবস্থা মানবজাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছিল এবং সেই ঘটনার ফলে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত প্রথম জাতিসংঘ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। কিন্তু পরিণামের কথা চিন্তা না করে বিপুল সংখ্যক মানুষ আত্মঘাতী মনোভাব পোষণ করছে।”

তিনি বলেন, “আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা কি ধ্বংসের আতঙ্কে তাড়িত একটি বিশ্বের দিকে এগিয়ে যাবো, নাকি আমাদের জ্ঞান ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানব সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নত একটি বিশ্বের দিকে এগিয়ে যাবো।”

১৮৫টি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত দেশ সর্বসম্মতিক্রমে শান্তির পথ বেছে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ সংখ্যাগরিষ্ঠের নিরাপত্তার ব্যাপারে সংবেদনশীল না হয়ে দুঃখজনকভাবে ধ্বংসের পথ বেছে নিয়েছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “বিশ্বের অনেক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পারমাণবিক অস্ত্রের বিপদ উপলব্ধি করেছিলেন। তাই ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণে পারমাণবিক যুদ্ধের অভিশাপ থেকে বিশ্বকে রক্ষা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।”

বিশ্বের একমাত্র স্থায়ী বহুপাক্ষিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনাকারী সংস্থা ‘কনফারেন্স অন ডিসআর্মামেন্ট (সিডি)’ কয়েক দশক ধরেই অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই সংস্থাটি এখন পারমাণবিক অস্ত্রের উপকরণ উৎপাদন ও মজুদ নিষিদ্ধ করে একটি বৈষম্যহীন এবং আন্তর্জাতিক ও কার্যকরভাবে যাচাইযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারে।”

দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল ঘোষণা করারও আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলো এ সংক্রান্ত প্রটোকল অনুমোদন করলে তা সম্ভব হবে।”

বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রতিটি অধিবেশনে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করে আসছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

এটিটি ও প্রটোকল সই

প্রচলিত কয়েকটি অস্ত্র ব্যবহারে বিধি-নিষেধ আরোপে জাতিসংঘ অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি (এটিটি) এবং ‘এক্সপ্লোসিভ রিমান্টস অব ওয়ার’ সংক্রান্ত একটি প্রটোকল স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দফতরে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে স্বাক্ষর করেন। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করল।

জাতিসংঘ আন্ডার সেক্রেটারি মাইগুয়েল সেরপা সোয়ের্স অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

২০০৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রচলিত অস্ত্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ঐতিহাসিক অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি (এটিটি) প্রস্তাব গৃহীত হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও পদস্থ কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।