পারকি বিচে বাড়ছে পর্যটক, সাথে বাড়ছে শংকাও

প্রকাশ:| বুধবার, ১ মার্চ , ২০১৭ সময় ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

ইমরান এমি.আনোয়ারা:
আনোয়ারা উপজেলায় অবিস্থত পারকি সমুদ্র সৈকতে দিন দিন বাড়ছে পর্যটকের পথচলা। বিভিন্ন ছুটির দিন, শুক্রবারসহ প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত দেখে আসছে পারকি বিচে। বছরের শুরু থেকেই ফেব্রুয়ারি মাসেই চলছে পর্যটকদের আগমন। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মিল কলকারখানার শ্রমিকরা জোটবদ্ধভাবে আসছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। দেশের ২য় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রাম শহরের দক্ষিনে কর্ণফুলি নদীর মোহনা নিয়ে শংখ নদীর মোহনা পর্যন্ত ৮কিলোমিটার বিস্তৃত বালুচর। শহরের সন্নিকটে হওয়ায় সৈকতে সারা বছরই উপচে পড়া ভিড় থাকে পর্যটকদের। বিশেষ করে ১৯৯১ এর ঘুর্ণিঝড়ের পর কর্ণফুলির মোহনা থেকে দক্ষিনে প্রায়ই দেড় কিলোমিটার ঝাউ বাগান সৃজন করা হয়।এর পর থেকে সৈকতে পর্যটকের আগমন বাড়তে থাকে । বর্তমানে সৈকতে বেসরকারি খাতে গড়ে উঠেছে লুসাই পার্ক এন্ড রিসোর্ট, একটি মসজিদ, প্রয়াত আনোয়ারা আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর প্রচেষ্টায় প্রথম প্রশস্ত সড়ক নির্মিত হয়, জিলা পরিষদেও মাধ্যমে করা হয় শৌচাগার। সর্বশেষ ২০১২ সালের শেষের দিকে আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর প্রচেষ্টায় পারকী সমুদ্র সৈকত এলাকা পরুয়াপাড়া ও ফুলতলি মৌজা নিয়ে গেজেট নোটিফিকেশনর মাধ্যমে পর্যটন এলাকা হিসেবে সরকারি ভাবে স্বীকৃত পায়। ২০১৫ সালের শেষের দিকে ভূমিপ্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এম পি পারকি সমুদ্র সৈকতে বিদ্যুৎতায়ন করেন। এক গুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে একনেক বৈঠকে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফেনি সরকারী কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চকরিয়া, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষা সফরে এসেছে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। তারা ঝাউ বাগান, সমুদ্র সৈকত ও লুসাই পার্কে অবস্থান করে সারাদিন ঘুরে বেড়াচ্ছে সৈকতে।
সম্প্রতি পারকি বিচে শৃঙ্খলা আগে থেকেই আরো উন্নতমানের হওয়ায় পর্যটকরা নির্দ্বিদায় চলতে কোন অসুবিধায় পড়ছে না। চট্টগ্রাম বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও স্থানীয় চেয়ারম্যান এম.এ কাইয়ুম শাহ নেতৃত্বে প্রতিমাসে চালানো হয় অবেধ স্থাপনা ও অসামাজিক কার্যকলাপ উচ্ছেদ অভিযান।যার কারনে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে দেশের দি¦তীয় এ সমুদ্র সৈকত। চট্টগ্রাম শহরের কাছে হওয়ায় দ্রুত সময়ের মধ্যে পর্যটকরা চলে আসছে সমুদ্র সৈকতে।
যদিও আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালালেও সাম্প্রতিক সময়ে অদৃশ্য কারনে তা এখন আর চালানো হয় না, যার কারনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। যার কারনে অসমাজিক কার্যকলাপ বন্ধ হলেও বন্ধ হচ্ছে না ইয়াবা ব্যবসা আর বখাটেদের উৎপাত। তাছাড়া সৈকতে ব্যবসায়িরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে মাদকদ্রব্য, বিশেষ করে স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল শাহ’র দোকানে চলে ইয়াবার জমজমাট আড্ডা। যার কারনে শংকিত স্বপরিবারে আসা পর্যটকরা। সৈকতে ট্যুরিস্ট পুলিশের দাবি জানান আগত পর্যটকরা। তারা জানান জনপ্রিয় এ সমুদ্র সৈকতে প্রশাসনিকভাবে নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করলে আরো জনপ্রিয় হবে পারকি বিচ।
এই মুহুর্তে স্বল্প বিনিয়োগে সৈকতে বিরাট উন্নয়নে ভূমিকা রাখার যথেষ্ট সুযোগ আছে বলে জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলা বিচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম.এ কাইয়ুম শাহ বলেন, এই সুযোগকে কাজে লাগাতে দরকার আন্তরিকতা ও স্বদিচ্ছা। বায়তুল মামুর মসজিদকে ডানে রেখে সৈকতে নামতেই হাতের ডানে ও বাঁয়ে অনেক খাস জমি আছে। এখানে ১একর একটা পুকুর করে ১ একর নিচু জমি ভরাট করে পার্কিং ব্যবস্থা করলে সুবিধা পাওয়া যাবে বহুমুখী। যেমন সৈকত এলাকায় চারদিকে নোনা পানি, সেইখানে একটা পুকুর খনন করলে সারা বৎসরই বৃষ্টির জমানো মিষ্টি পানি সবাই ব্যবহার করতে পারবে। পার্কিংয়ে আগত পর্যটকদের গাড়ী রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যার ফলে কোন গাড়ী সৈকতে নেমে পর্যটকের ভোগান্তি কারন হবে না। পুকুর ও পার্কিং লিজ দিয়ে ৬লক্ষ টাকার অধিক পাবে সরকার।
এই ছোট্ট উদ্যোগটি নিয়ে কাজ করলে পারকী বীচে সুপেয় পানির অভাব পূরন হবে,পরিচ্ছন্নতা হবে সৈকত, নিরাপত্তা পাবে পর্যটক,সমস্ত গাড়ীর নিরাপত্তায় একটি পার্কিং পাওয়া যাবে।একটি উদ্যোগ অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।