পানির চেয়ে ২ফুট বেশি উচু বাধ টিকবে কিভাবে?

প্রকাশ:| রবিবার, ২২ মে , ২০১৬ সময় ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

বাঁধ যদি হয় ৮ ফুট, আর পানি যদি আসে ৬ ফুট হয়ে সেই বাঁধ টিকবে কীভাবে?’ বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াতিনি বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলের বাঁধগুলো ঠিক না হওয়ার কারণে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে এত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ।

রোববার সন্ধ্যা ৭টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।  সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।

উপকূলীয় অঞ্চলের বাঁধগুলো দুর্যোগ মোকাবেলায় যথেষ্ট কার্যকর নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাঁধগুলো আরও সুরক্ষীতভাবে করতে হবে। এটা শুধু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রণালয়ের কাজ না। এক্ষেত্রে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, উদ্যোগী হতে হবে।

তিনি ‘রোয়ানু’ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সংস্থার কর্মীদের সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘তারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় দু লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। সহজে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে চায় না।তবুও যেভাবে মানুষকে বুঝিয়ে এনেছে তার কৃতীত্ব সবার। এটা না হলে হতাহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেত। ’

মন্ত্রী সিভিল সার্জনকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ‘অন্যান্য সংস্থার লোকেরা আমাদের দলীয় কর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্যোগ মোকাবেলা কাজ করেছে।কিন্তু দুর্যোগে আহতদের চিকিৎসার জন্য বারবার চিকিৎসকদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও পায়নি। ’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এরকম দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য জলবায়ু সুরক্ষায় আরও কাজ করতে হবে আমাদের। পরিবেশে প্রতি যত্মবান হতে হবে।না হলে প্রকৃতি তার বিরুপ আচরণ করবে।’

রোয়ানুর প্রভাবে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা মানুষও যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য আমাদের বিশেষ নজর দিতে হবে। ’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সোমবার বাঁশখালীর ঘূর্ণিঝড় কবলিত এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ ও অর্থ দেবেন।  এসময় ঘূর্ণিঝড়ে মারা যাওয়া প্রত্যেক সদস্যদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা ও আহতদের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহয্য তুলে দেবেন তিনি। পরদিন মঙ্গলবার তিনি কক্সবাজার জেলার ঘূর্ণিঝড় কবলিত এলাকা পরিদর্শন করবেন।