বিক্ষোভের মুখে সেন্ট স্কলাসটিকা স্কুল বন্ধ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:০৩ অপরাহ্ণ

সেন্ট স্কলটিকানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন পাথরঘাটা সেন্ট স্কলাসটিকা স্কুল অভিভাবকদের বিক্ষোভের মুখে শনিবার (২৩ জানুয়ারি) পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব ও ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডের মোহাম্মদ ইসমাইল বালি এ ঘোষণা দেন। বুধবার দুপুর ১২টায় পাথরঘাটা কাউন্সিলর কার্যালয়ে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে এ ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে সভা অনুষ্ঠিত হবে।

স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণে নিয়োজিত শ্রমিকেরা ক্ষুদে ছাত্রীদের মুখ চেপে ধরে অশোভন আচরণের খবর জানাজানি হলে অভিভাবকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় স্কুলের মাইকে অভিভাবকদের শান্ত থাকার জন্য বারবার অনুরোধ জানান দুই কাউন্সিলর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করেন পুলিশ সদস্যরাও।

এ সময় অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষে বক্তব্য দেন সিস্টার প্রভা মেরি। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ কতটা সত্য জানি না।’ একথা বলার পরপরই অভিভাবকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর তিনি ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করেন এবং বলেন, ‘এখানে এলাকার জনপ্রতিনিধিরা আছেন। তারা যে সিদ্ধান্ত দেবেন তা-ই হবে।’

হাসান মুরাদ বিপ্লব তার বক্তব্যে বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে এবং যারা ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে, নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি না হলে অভিভাবকরা তাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

অভিভাবকদের অভিযোগ, সেন্ট স্কলাসটিকায় ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। এখানে এমনিতে পুরুষ অভিভাবকদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয় না। কিন্তু বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কোনো ঘেরা ছাড়াই নির্মাণকাজ করছে। ওই শ্রমিকদের হাতে প্রতিদিনই ছাত্রীরা অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছে। ক্লাসে ফিরে ক্লাসটিচারকে অভিযোগ দিলে তিনি ঘটনাগুলো চাপা দিতে বলেন, কাউকে বলতে নিষেধ করেন। এমনকি ঘটনা ধামাচাপা দিতে ক্লাসে সব ছাত্রীকে একটি করে বিস্কুটের প্যাকেট দেওয়া হয়।

অ্যাডভোকেট অশোক কুমার দাশ নামের একজন অভিভাবক বলেন, ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে। ৬০০ টাকার মাসিক বেতন ৯০০ টাকা করা হয়েছে। প্রতিবছর ২-৩ হাজার টাকা করে ভবন তৈরির জন্য চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। ৭ তলা ভবন তৈরি হয়েছে একটি, যেখানে লিফট রাখা হয়নি।

অশীতিপর বৃদ্ধা গোপীনাথের নাতনি পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। এ বৃদ্ধার অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে মেয়েরা জিম্মি হয়ে থাকে। চুন থেকে পান খসার জো নেই। শাস্তি আর শাস্তি। টিসি দেওয়ার ভয়। এবার অবুঝ শিশুদের প্রতি যারা অবিচার করেছে তাদের শাস্তি চাই।

কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব বাংলানিউজকে বলেন, এখানকার অভিভাবকদের ক্ষোভের কথা আমি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র, জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অবহিত করবো। এক দেশে দুই আইন চলতে পারে না। এখানে স্কুল ড্রেস, বই-খাতা থেকে শুরু করে মাসিক বেতন পর্যন্ত প্রতিটি খাতেই বেশি বেশি আদায় করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা ছাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি।