পাঠ্যসূচিতে ট্রাফিক আইন অন্তর্ভুক্তের দাবি

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ২৩ মে , ২০১৮ সময় ১০:১৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, ‘যানজট সমস্যা বর্তমানে নাগরিক কর্ম ব্যস্ততায় অন্যতম একটি সমস্যা। যানজটের কারণে আমাদের শ্রমঘন্টা বিনষ্ট হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে আমাদের প্রত্যেককে স্ব স্ব অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ’

বুধবার (২৩ মে) নগরের জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সামাজিক সংগঠন নান্দনিক আয়োজিত ‘নগর উন্নয়ন ও নাগরিক ভাবনা’ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে ‘যানজট কিভাবে কমানো যায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, নাগরিক, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, বাংলাদেশ রেলওয়েসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহল বর্তমান এই সমস্যার উপায় নির্ধারণে পরিকল্পনা করছে। ট্রাফিক আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে নাগরিকদের অসচেতনতা রয়েছে। এজন্য মাইন্ডসেট পরিবর্তন করা জরুরি। ট্রাফিক আইন বা শৃঙ্খলা নিয়ে জনসাধারণ অনেকেই ওয়াকিবহাল নয়। এর নেপথ্যে কারণ এ বিষয়ে আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করতে পারে। পাঠ্যসূচিতে ট্রাফিক আইন,ট্রাফিক সচেতনতা বিষয়ে পাঠ অন্তর্ভূক্ত করা দরকার। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক থেকে সর্বোচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে ট্রাফিক সচেতনতা, শৃঙ্খলা বিষয়ক পাঠ অন্তর্ভ‍ুক্ত করা সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, নগরের বিভিন্ন রাস্তার মাঝখানে রেলগেইট রয়েছে। ট্রেন আসার সময় রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল মহাব্যবস্থাপকের সাথে আলোচনা হয়েছে। বটতলী রেলওয়ে স্টেশনকে পাহাড়তলীতে স্থানান্তর করা, দোহাজারী-নাজিরহাটমুখী মেইল ষোলশহর থেকে চালুকরণের ব্যাপারে কথা হয়। তিনি এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার আশ্বাস দেন।

সিটি মেয়র পুরো নগরের বাস সার্ভিসকে এক ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসা, কমপ্রিহেনসিভ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পিত নগর বিন্যাস বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মত প্রকাশ করেন।

গোলটেবিল বৈঠকে প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, রোড নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, পথচারীদের জন্য ফুটপাত অবমুক্তকরণ, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন অপসারণ করা, দ্রুত ও শ্লথ গতির যানবাহনের জন্য সড়কে স্বতন্ত্র মার্কিং লেইন চালু করা, সড়ক সংলগ্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরিয়ে নেয়ার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেন।
নান্দনিক সংগঠক তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় বৈঠকে এস এম তৈয়ব, নাসরিন সুলতানা পারুসহ অনেকে মতামত ব্যক্ত করেন।