পাট চাষের জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব দিয়েছে শ্রীলঙ্কা

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ০৮:৫১ অপরাহ্ণ

শ্রীলঙ্কার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ পুত্তালামে দীর্ঘ মেয়াদে জমি লিজ নিয়ে পাট চাষের জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব দিয়েছে শ্রীলঙ্কা।h=r

সরকারি সংবাদ সংস্থা- বাসস জানায়, শুক্রবার কলম্বোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মহিন্দা রাজাপাকসের মধ্যে বৈঠকে এ প্রস্তাব দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সরকার প্রধানদের বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য বর্তমানে কলম্বোয় অবস্থান করছেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের অনাবাদী জমিতে পাট, ধান, শাক-সবজি প্রভৃতির মতো বিভিন্ন কৃষি পণ্য উৎপাদনের আগ্রহ দেখান।

শেখ হাসিনা বলেন, শ্রীলঙ্কায় কৃষি শ্রমিকের স্বল্পতা এবং কৃষি পণ্যের উচ্চমূল্যের কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা এদেশের কৃষিখাতে বিনিয়োগে আগ্রহ বোধ করতে পারেন।

উভয় নেতা উত্তর শ্রীলঙ্কায় মৎস্য খাতে সহযোগিতার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করে বলেন, বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা সেখানকার মজাপুকুর সংস্কার করে চাষোপযোগী করে তুলতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সভার (সিএইচওজিএম) চমৎকার আয়োজন এবং তাকে (প্রধানমন্ত্রী) আমন্ত্রণ জানানোর জন্য শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সরকার মহামতি বৃদ্ধের পবিত্র চুল শ্রীলঙ্কায় প্রদর্শনের জন্য সেদেশের প্রেসিডেন্ট মহিন্দা রাজাপাকসে’র অনুরোধ বিবেচনা করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সব সময় সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার লড়াইকে সমর্থন জানিয়ে এসেছে।

শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশে ২৫ বছর পর প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে দেশটির রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তামিল জনগোষ্ঠির অংশগ্রহণের সূচনা হবে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন, রাজনৈতিক সমঝোতা ও বিরোধ নিষ্পত্তি উদ্যোগ শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থার ভিত্তি রচনা করবে এবং দেশটির সমঝোতার উদ্যোগকে ফলপ্রসূ করবে।

প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে ‘সিএইচওজিএম-২০১৩’তে যোগদানের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এ্যাম্বাসেডর-এ্যাট-লার্জ এম. জিয়াউদ্দিন, মুখ্য সচিব এম. ওয়াহিদ উজ জামান এবং প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী বন্দরনায়েকে মেমোরিয়াল ইন্টারন্যাশনাল কন্ফারেন্স হলে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জন কের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, কমনওয়েলথ উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ উর্ধ্বে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরো আশা প্রকাশ করেন যে, সিএইচওজিএম-২০১৩ চলমান ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেখ হাসিনা মত প্রকাশ করেন যে, কমনওয়েলথকে আগামী ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ফিজির নির্বাচনের ব্যাপারে তৎপরতা অব্যাহত রাখবে।