পাখির অভয়ারণ্য ও ক্যাবল কারে কিছুটা সময়…

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:২৬ অপরাহ্ণ

:: শরীফুল ইসলাম রুকন ::

swnদেশী পাখির মধ্যে শালিক, বাবুই, দোয়েল, শ্যামা, ঈগল, শকুন, বুলবুলি, পেঁচা, হলদে পাখি, টুনটুনি, টিয়া, ঘুঘু, মাছরাঙা, বক ও সাদা বক; বিদেশি পাখির মধ্যে রয়েছে, পলিক্যান, সোয়ান, রিং ন্যাক, ইলেকট্রাস প্যারট ও মেকাউ।

এসব পাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলা হয়েছে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শেখ রাসেল এভিয়ারী ওbird ইকোপার্কে। শুক্রবার নিউজচিটাগাং২৪ডটকম পরিবারকে নিয়ে ঘুরে এলাম দেশি-বিদেশি পাখির এ অভয়ারণ্য।

শুধু পাখির অবয়ারণ্যই নয়; এই ইকোপার্কে রয়েছে দেশের দীর্ঘতম রোপওয়ে (ক্যাবল কার)।

শুক্রবার দুপুরের খাবার গ্রহণের পর আমাদের অপেক্ষা ছিল ক্যাবল কারে ছড়ার! দুইটা ২৫ মিনিটের দিকে ক্যাবল কারের ইঞ্জিনিয়ার যখন ইলেকট্রিক সুইচ অন করলেন, তখন কর্তৃপক্ষের সিগন্যাল পেয়ে আমাদের টিমের সদস্যরা একে একে ক্যাবল কারের দিকে ছুটলেন।

যাত্রা শুরু করতেই দ্রুত গতিতে সম্মুখপানে ছুটল ক্যাবল কার। পলকেই চলে গেল ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার পথ। পাহাড়ি প্রকৃতির কোল যেন আছড়ে পড়ছে আধুনিক ‘ক্যাবল কারে’। সে কারে বসেই সবাই অবলোকন করা যাচ্ছে বিস্তৃত প্রকৃতি। অপরূপ দৃশ্য দেখে একের পর এক ক্যামেরায় ক্লিক দিয়ে ছবি তুলেছেন সবাই। এই বিরল অভিজ্ঞতার পাশাপাশি মুগ্ধও হয়েছেন নিউজচিটাগাং২৪ডটকম পরিবারের প্রতিটি সদস্য।

ক্যাবল কারে ছড়ে পার্কের উপরে দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশ ছুঁয়ে ও নিচে দৃষ্টিনন্দন লেক আর সবুজ অcarরণ্য দেখা যায়। ঠিক এই দুয়ের মাঝখানে ভূমি থেকে প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতায় বসে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছিল নিউজচিটাগাং২৪ডটকম পরিবার। বাতাসের ওপর ভেসে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাওয়ার এ ব্যবস্থা সত্যিই অসাধারণ!

প্রতি সেকেন্ডে ৩.৫ মিটার হাই স্পিডে লোয়ার স্টেশন থেকে ১.২ কিলোমিটার দূরত্বের আপার স্টেশনে পৌঁছুতে রোপওয়ের একটি কেবিনের সময় লাগে সর্বোচ্চ সাত মিনিট। আসা-যাওয়ায় সময় লাগবে পনের মিনিট। রোপওয়ের প্রতিটি কেবিনে ৬ জনের সিট রয়েছে। মোট ১২ টি কেবিন লোয়ার স্টেশন থেকে আপার স্টেশনে আসা-যাওয়া করে।

ক্যাবল কারএদিকে পাখিদের অভয়ারণ্য তৈরি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি এটিকে গড়ে তোলা হয়েছে একটি আকর্ষণীয় ও আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে। কোদালা বনবিটের ২১০ হেক্টর বনভুমি জুড়ে পার্ক এলাকার ব্যাপ্তি।

পার্কের অভ্যন্তরে রয়েছে বিভিন্ন গাছের সমাহার। বট, অশ্বথ, পাকুর, আমলকি, ডুমুরসহ বিভিন্ন ফল ফলাদির গাছ বনায়নের মাধ্যমে পাখির জন্য গড়ে তোলা হয়েছে অভয়ারণ্য, যেখানে তাদের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা। তৈরি করা হয়েছে একটি মনোরম কৃত্রিম লেক ও দ্বীপ। লেকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে। যেন পাখির মিলন মেলা। পাখির কলকাকলিতে এলাকা মুখর।
ক্যাবল কার

 
পার্কের অভ্যন্তরে সড়ক, লেক, রিটার্নিং ওয়াল, গেস্ট হাউজ, ফুট ব্রিজ, গুহা, পাখি, ময়ূর ও হরিণসহ বিভিন্ন দেশি বিদেশি পাখি বিচরণের খাঁচা, অ্যামিউজমেন্ট, গোলঘর, দোলনা, স্লিপিং পয়েন্ট রয়েছে।

ক্যাবল কারক্যাবল কারশেখ রাসেল এভিয়ারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বড়ুয়া বলেন, পার্কটি আয়তনে এশিয়ার বৃহৎ পাখি সংগ্রহশালা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকৃতি এবং পাখিদের জীব বৈচিত্র্য বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া ক্যাবল কারে চড়তে বিনোদনপ্রেমীদের ভিড়ও বাড়ছে। এখানে আসা পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।