‘‘পাকিস্তান এখনো ১৯৭১ সনের পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে পারেনি’’

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ০৮:২৯ অপরাহ্ণ

পরাজয়আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন চট্টগ্রামের কর্মী সভায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বাংলাদেশে পাকিস্তান দূতাবাস ‘কাসিম বাজার কুঠি’ উল্লেখ করে বলেন, তাদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশেকে অস্থিতিশীল করা। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করা। বৃহস্পতিবার, বিকেলে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনষ্টিটিউট হলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে সভাপতিত্বে করেন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন চট্টগ্রামের সভাপতি, সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন।

শাজাহান খান আরো বলেন, পাকিস্তান এখনো ১৯৭১ সনের পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে পারেনি। তাই তারা এখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। বাংলাদেশ ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে এটা পাকিস্তানের সহ্য হচ্ছে না। তারা এদেশীয় দোসরদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। তাকে হত্যা করতে চায়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধুলিসাত করতে চায়। বেগম খালেদা জিয়া এবং জামায়াতে ইসলামী মিলে তাই ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানি নাগরিক দিয়ে গঠিত হামিদুর রহমান কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছিল ১৯৫ সেনা কর্মকর্তা যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত। সে সময় পাকিস্তান বলেছিল তাদের দেশে নিয়ে বিচার করবে। আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফেরত নিয়ে যাবে। ৪৪ বছরেও বিচার করেনি । কাউকে ফিরিয়ে নেয়নি। কোনো পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট ক্ষমা চায়নি। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে শাজাহান খান বলেন, তোমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখনি। তোমাদের সামনে অন্য এক যুদ্ধ। বাংলাদেশে পাকিস্তানি এজেন্ট খালেদা-জামায়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে, বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে নানা রকম বিভ্রান্তিমূলক কথা বলা হচ্ছে। ত্রিশ লাখ লোক না কি মারা যায় নি। বুদ্ধিজীবীরা নাকি নির্বোধ! এর বিরুদ্ধে আইন হবে। হলোকাস্ট ডিনাইয়াল ল’ হবে। যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করবে তাদের রেহাই নেই।

সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল তারা আজও সক্রিয়। তরুণ প্রজন্মকে সচেতন হতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, অন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমত কাদির গামা ও আলাউদ্দিন মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের চট্টগ্রাম জেলা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ ও নগর কমান্ডার মো. শাহাবুদ্দিন, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা সফর আলী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এজাজ ইউসুফী, শিক্ষক সমিতির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ লকিতুল্লাহ, শিক্ষক ইদ্রিস আলী, প্রকৌশলী মো. হারুন, বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি মজিবুল হক খান, নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সদস্য, আব্দুল মান্নান ফেরদৌস, মিলি চৌধুরী, চসিক কাউন্সিলর এ এফ কবির আহমেদ মানিক ও যুব নেতা দিদারুল আলম মাসুম। সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিক কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমদ মঞ্জু, নাজমুল হক ডিউক, জিয়াউল হক সুমন, আবদুল কাদের, হাসান মুরাদ বিপ্লব, জহুরুল আলম জসিম, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, বকতিয়ার উদ্দিন খান, ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, ডা. তিমির বরন চৌধুরী এড. চন্দন তালুকদার, এড. আইয়ুব খান, শেখ মোহাম্মদ ইসহাক, মঞ্জুরু হোসাইন, মো. ইসা ও সিটি কলেজ ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রমুখ।