পাকিস্তানে সরকারের সঙ্গে সবরকমের সংলাপ স্থগিত করেছে পিটিআই

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট , ২০১৪ সময় ০৮:২১ অপরাহ্ণ

পাকিস্তানে সরকারের সঙ্গে সবরকমের সংলাপ স্থগিত করেছে দেশটির আন্দোলনরত সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

ইমরান খানরাজধানী ইসলামাবাদের পুলিশের মহাপরিচালক আফতাব চিমাকে সরকারি নির্দেশে পদচ্যুত করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে পিটিআই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও পিটিআই’র সঙ্গে আন্দোলনরত আওয়ামী তেহরিকের (পিটিআই) প্রধান ও বিতর্কিত আধ্যাত্মিক নেতা তাহির উল ক্বাদরি অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনার টেবিল উন্মুক্ত থাকার কথা জানিয়েছে।

ইসলামাবাদের রেড জোনে (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা) পিটিআই ও পিটিআই কর্মীদের অবস্থান সরিয়ে নিতে অভিযান চালানোর নির্দেশ পালনে অপারগতা প্রকাশ করায় আফতাবকে ইসলামাবাদ পুলিশ প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে পিটিআই এবং এ কারণেই তারা সংলাপ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সকালে সরকারি পক্ষের সঙ্গে এক দফা আলোচনা হলেও আফতাবের পদচ্যুতির খবরের পর সবরকমের সংলাপ স্থগিত করেছে পিটিআই।

পিটিআই প্রধান ইমরান বলেন, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ পদত্যাগ করা না পর্যন্ত আমি এখান থেকে (পার্লামেন্টের সামনে অবস্থান) সরবো না।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি নওয়াজের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি, সরে যাও, নওয়াজ সরে যাও!’

এর আগে, চলমান অচলাবস্থ‍া নিরসনে পিটিআই‘র সহ-সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশীর নেতৃত্বে সরকারের সঙ্গে ইসলামাবাদের একটি হোটেলে প্রথম দফা সংলাপে বসে ইমরানের দল। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও কার্যালয় এবং পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাসের রেড জোনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিল পিটিআই।

বিকেলে দ্বিতীয় দফায় সংলাপে বসার কথা ছিল পিটিআই ও সরকারপক্ষের। কিন্তু ইসলামাবাদ পুলিশ প্রধান আফতাবের পদচ্যুতির খবর জানার পরই সবরকমের আলোচনা-সংলাপ স্থগিত করে ‍আন্দোলনরত দলটি।

আগাম নির্বাচন ও দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবিসহ বিক্ষোভকারীদের ৬টি দাবির মধ্যে প্রথম দাবিই হলো প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তার ভাই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পদত্যাগ।

দাবি আদায়ে নওয়াজ সরকারকে বাধ্য করতে ‍আন্দোলন জোরদারের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে অবস্থান স্থলে নেতাকর্মীদের দলে দলে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন ইমরান খান। তিনি বলেছেন, নয়া পাকিস্তান সৃষ্টিতে এবং প্রকৃতি স্বাধীনতা ভোগে এই গণআন্দোলনে শামিল হতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে রেড জোনে ২ লাখ লোকের জমায়েত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইমরান।

সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রেড জোন ও এর আশপাশে বুধবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার ইমরান ও ক্বাদরি সমর্থক অবস্থান করছিলেন।

নওয়াজের পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান সংসদে
পিটিআই ও পিএটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজের পদত্যাগ দাবি করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান সংসদ।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত আলোচনার পর সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস হয় এবং সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।

ইমরান-ক্বাদরিকে আদালতে তলব
এদিকে, সংবিধানবহির্ভূতভাবে সরকারের পদত্যাগ দাবি করায় ইম‍রান খান ও তাহির উল ক্বাদরিকে বৃহস্পতিবার আদালতে তলব করা হয়।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দু’জনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত করছেন।

ইমরান-ক্বাদরির ওপর অসন্তুষ্ট অন্য বিরোধী দলগুলো
গত নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে নওয়াজ শরিফ সরকারের পদত্যাগ দাবি করে নতুন নির্বাচন চেয়ে ইমরান-ক্বাদরিরা আন্দোলনে নামলেও তাদের এ দাবিতে সংহতি নেই অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের। এমনকি ইমরান-ক্বাদরিরা অন্য বিরোধী দলগুলোকে রাজপথে নামার আহ্বান জানালেও তারা উল্টো ইমরান-ক্বাদরিদেরই আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিরোধী দলগুলো চাইছে না, ইমরান-ক্বাদরির এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কোনো অসাংবিধানিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক।

সেনাবাহিনীর ভূমিকা অস্পষ্ট
স্থানীয় সংব‍াদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পিএটি ও পিটিআই সমর্থকদের বিক্ষোভ ইসলামাবাদের রেড জোন অভিমুখে রওয়ানা দিলে ওই এলাকার সুরক্ষায় ৭শ’ সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়।

সেনাবাহিনীও বিক্ষোভকারীদের সংসদ, সরকারি ভবন ও রেড জোটে অস্থিরতা সৃষ্টির ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

কিন্তু এ সেনা সদস্যরা দায়িত্ব পালনকালেই বুধবার ভোরে রেড জোনে প্রবেশ করে সংসদ ভবনের বাইরে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। এসময় বিক্ষোভকারীদের কোনো রকমের বাধা দিতে দেখা যায়নি সেনা সদস্যদের।

পাকিস্তানের ইতিহাসের দুই তৃতীয়াংশ সময়ই সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে গেছে বলে ইমরান-ক্বাদরিদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদজুড়ে অজানা শঙ্কা ডানা মেলছে। বিশেষ করে নওয়াজের পদত্যাগের ঘোষণা আসা না পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের অবস্থান, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হামলার ঘোষণায় এ শঙ্কা বেড়ে চলেছে দ্রুত।


আরোও সংবাদ