পাকিস্তানে তিন হাজার সেনা মোতায়েন করছে চীন

প্রকাশ:| রবিবার, ১৩ মার্চ , ২০১৬ সময় ১০:০৮ অপরাহ্ণ

পাকিস্তানে তিন হাজার সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। তিন হাজার কিলোমিটার লম্বা চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের নিরাপত্তার জন্যই পাকিস্তানে এই সেনা পাঠাচ্ছে বেইজিং। ওই করিডোরের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানও তৈরি করেছে বিশেষ বাহিনী। তাতে প্রায় ১১ হাজার সৈন্য থাকছে। এদিকে পাকিস্তানে এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে চীনা সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।

পাকিস্তানে তিন হাজার সেনা মোতায়েনের করছে চীনচীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর এমন এলাকার মধ্য দিয়ে গিয়েছে, যার প্রায় পুরোটাই ঝুঁকিপূর্ণ। পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে ইরানের কাছাকাছি গোয়াদর বন্দর থেকে করিডোর শুরু। বালুচিস্তানে আছে উপজাতি বিদ্রোহীদের নানা তৎপরতা। তাই অর্থনৈতিক করিডোরের যে অংশ বালুচিস্তানের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, সেই অংশের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় আছে ইসলামাবাদ ও বেইজিং।

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের নিরপাত্তাও সেখানে যথেষ্ট অনিশ্চিত। গিলগিট বাল্টিস্তান ছেড়ে করিডর ঢুকছে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে। কাশগড় শহরে পৌঁছে করিডর শেষ হচ্ছে। চিনের এই জিনজিয়াং প্রদেশও সন্ত্রাস কবলিত। পূর্ব চীনের বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে জিনজিয়াং। জনসংখ্যার একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে এই সম্প্রদায়ের অনেকেই অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন। তাই জিনজিয়াং প্রদেশেও করিডর খুব সুরক্ষিত নয়।

এই পরিস্থিতির কথা ভেবেই চীন তিন হাজার সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তানে। এই অর্থনৈতিক করিডোরটি চীনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দর দিয়ে চীন সরাসরি আরব সাগর তথা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছে যেতে পারবে। পশ্চিম এশিয়া থেকে জ্বালানি তেল এবং পেট্রোলিয়াম আমদানি করতে চীনকে দীর্ঘ সামুদ্রিক পথ পাড়ি দিতে হত।

চীনের পাঠানো তিন হাজার সেনার সঙ্গে করিডোরে মোতায়েন থাকবে পাকিস্তানের নিজস্ব বাহিনীও। শুধু করিডরের নিরাপত্তার জন্যই পাকিস্তান তিনটি বিশেষ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড বানিয়েছে। প্রতিটিতে তিনটি করে রেজিমেন্ট। অর্থাৎ মোট নয় হাজার সেনা। এ ছাড়াও গঠন করা হয়েছে দু’টি বিশেষ আর্টিলারি রেজিমেন্ট। অর্থাৎ আরো দুই হাজার সেনা। সব মিলিয়ে ১১ হাজারের বাহিনী।

পাকিস্তান হঠাৎ সৈন্যসংখ্যা বাড়ানোয় ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে ভারতের মূল প্রতিবাদ, পাকিস্তানে চীনা সেনা মোতায়েন নিয়ে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রীর দাবি, করিডরের নিরাপত্তার নামে আসলে ভারতের পশ্চিম সীমান্তেও নিজেদের সেনা মোতায়েন করতে চায় চীন। গিলগিট-বাল্টিস্তানে চীনা সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়ায় ভারত আরও রুষ্ট। ওই অঞ্চল কাশ্মীরের অংশ। সেই এলাকা নিয়ে বিতর্ক মেটানোর আগেই পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সেখানে সেনা পাঠিয়ে দেয়াকে চীনের অনধিকার প্রবেশ হিসেবেই দেখছে ভারত।