পাকিস্তানকে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে-পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রাম

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদশুধু ক্ষমা প্রার্থনার দাবি নয়, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার জোর দাবি উচ্চারিত হয়েছে চট্টগ্রামে পেশাজীবী জনতার এক বিশাল মানববন্ধন সমাবেশ থেকে।

পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে এ মানববন্ধন সমাবেশ থেকে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথসহ আন্তর্জাতিক সংঘ বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলেছেন চট্টগ্রামের মানুষ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন ও সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণীর পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠক, প্রতিনিধিত্বশীলরা এমন দাবি জানান। একইসঙ্গে ঢাকায় পাকিস্তান অ্যাম্বেসি ঘেরাওয়ের সময় গণজাগরণ মঞ্চকে বাধা দেয়া, তারানা হালিম এমপিসহ গণজাগরণের নেতাকর্মীদের ওপর লাঠি চার্জের নিন্দাও জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।

পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রাম সভাপতি প্রফেসর ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন- পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সভাপতি শহীদ উল আলম, সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক রাজনীতিবিদ আ জ ম নাছির উদ্দিন, পেশাজীবী নেতা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রামের প্রাক্তন সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন, পেশাজীবী নেতা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের প্রাক্তন ডিন প্রফেসর ড. গাজী সালাউদ্দিন, বর্তমান ডিন হোসাইন কবির, চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ সেকান্দর চৌধুরী প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মহসীন চৌধুরী, রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট সুনীল সরকার, পেশাজীবী নেতা প্রকৌশলী সাদেক মোহাম্মদ চৌধুরী, প্রকৌশলী এম এ রশিদ, ড. বীনু কুমার দে।

মানববন্ধনে একাত্তরের মতোই আরেক নতুন যুদ্ধে পাকিস্তানি শকুন ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা দেশজুড়ে পাকিস্তানি এজেন্টদের নৈরাজ্য সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রগতির জয় হবেই। অতীতেও কোনো প্রতিক্রিয়া জয়ী হয়নি। এখনো হবে না। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন হয়ে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

দেশ এবং মানুষের নিরাপত্তার জন্য রাজনীতির নামে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী সংগঠন ও জড়িতদের বিরুদ্ধে যথার্থ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান পেশাজীবী নেতারা।

তারা বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে আমরা একাত্তরে ফিরে গেছি। এক নতুন যুদ্ধে উপনীত হয়েছি। এ যুদ্ধ মানবতার পক্ষে সন্ত্রাসের বিপক্ষে। স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী ও তাদের প্রভু পাকিস্তানি দোসরদের বিপক্ষে। জাতি একাত্তরে ফিরে যেতে চায় না। নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে এই যুদ্ধে জয়ী হতেই হবে। আমরা জয়ী হবো।’

বক্তারা আরো বলেন, ‘একাত্তরে এদেশের নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে পাকিস্তানিরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল আর এখন সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তাদের দোসররা আন্দোলনের নামে ত্রাস করছে।’


আরোও সংবাদ