পাকশীতে উজাড় হচ্ছে রেলের শতবর্ষী গাছ

প্রকাশ:| শনিবার, ১২ জুলাই , ২০১৪ সময় ১০:৩৯ অপরাহ্ণ

শতবর্ষী গাছপাবনার পাকশী এলাকায় রেলের শতবর্ষী গাছ রাতের অাঁধারে কেটে নিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি দুর্বৃত্ত চক্র। দুই থেকে তিন সপ্তাহে প্রায় অর্ধশত গাছ কেটে নিয়েছে ওই চক্র। তারা নিজেদের সরকারদলীয় লোক পরিচয় দিয়ে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে এসব মূল্যবান গাছ কাটা চললেও পুলিশ কিংবা রেল কর্তৃপক্ষ কিছুই করতে পারছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। খবর বিডিনিউজের।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পাকশী রেল হাসপাতালের পেছনে, মেরিনপাড়ার ভাগাড়ের কাছে, বাবুপাড়া, গেস্ট হাউসের পেছনে, চায়না কটেজের পাশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রেলওয়ের অন্তত অর্ধশত গাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা জানান, উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ভারতের কলকাতার সঙ্গে বাংলাদেশের (তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত) উত্তরের জেলাগুলোর সংযোগের জন্য পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় অফিস প্রতিষ্ঠা করা হয় পাবনার পাকশীতে। ব্রিটিশ আমলেই কয়েকশ’ একর জমির ওপর রোপণ করা পাকশী রেলওয়ের রয়েছে কয়েক হাজার বিভিন্ন জাতির গাছ, যেগুলোর বয়স এখন ১০০ বছরের মতো। দীর্ঘদিন ধরে একটি চোরচক্র এ গাছগুলো কাটলেও রেলওয়ে কিংবা পুলিশ প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এ চোরচক্রের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় তরিকুল ইসলাম ভাদু ও মোঃ বাদল হোসেন। বাদলের নিজস্ব কাঠ চেরাই মিলও (স’মিল) আছে। ওই স’মিলেই তারা গাছগুলো বিক্রি করে। কথা বলতে তরিকুল ইসলাম ভাদুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাব্বুল বলেন, ভাদু পাকশী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। তবে বর্তমানে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত। তিনি বলেন, যারা এ ধরনের কাজে জড়িত, তারা কেউ আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির নয়। তারা সুযোগ সন্ধানী একটি চোরের দল। বিভিন্ন দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম ও চুরি করে বেড়ায়। প্রশাসন ও পুলিশের অবহেলার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মানিকুজ্জামান এবং পাকশী বিভাগীয় রেলের মুখ্য প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার তা অস্বীকার করেন। প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার বলেন, সম্প্রতি দুটি গাছ কাটার ঘটনায় রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি মামলা করা হয়েছে। এখানে তো প্রচুর গাছ। জনবল সঙ্কটের কারণে রক্ষণাবেক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে আমাদের পক্ষে। তবে গাছ চুরির বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পুলিশ কর্মকর্তা মানিকুজ্জামান বলেন, আমি নিজেই কয়েকটি গাছ রাতের অাঁধারে উদ্ধার করে রেল কর্তৃপক্ষকে দিয়েছি। এক কথায় বলা চলে এ হাজার হাজার গাছ আমিই ঠেকিয়ে রেখেছি। তিনি জানান, সম্প্রতি বাবুপাড়ায় একটি গাছ কাটার সময় স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে রেল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী থানার ওসি বিমান কুমার দাস জানান, রেলের এসব গাছ কাটার ঘটনায় ভাদু ও বাদল জড়িত বলে স্থানীয়রা পুলিশে বিভিন্ন সময় মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছে। তিনি আরও বলেন, কারও নাম উল্লেখ করে রেলওয়ে মামলা না করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।


আরোও সংবাদ