পশুর হাটগুলো ধীরে ধীরে জমে উঠছে

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ১১:১৮ অপরাহ্ণ

গরীতে কোরবানি পশুর হাটগুলো ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে। বাজারে আসতে শুরু করেছেন ক্রেতারা। সংখ্যায় কম হলেও শুরু হয়েছে কোরবানি পশু বিক্রি। আজ শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় জমজমাট রয়েছে নগরীর স্থায়ী দুটিসহ ৯টি কোরবানি পশুর হাট। এছাড়া ইজারাবিহীন অলিতে গলিতে ছোট পরিসরে পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের ভীড় ছিলো লক্ষণীয়।

শুক্রবার বিকেলে নগরীর সাগরিকা, বিবিরহাট ও ফতেয়াবাদ (ইজারা বিহীন) কোরবানি পশুর হাট ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। তবে সবগুলো হাটেই কোরবানির পশুর দাম চড়া। কিছু কিছু গরু বিক্রি শুরু হয়েছে। আশানুরুপ গরু আমদানি এখনো হয়নি। তবে বেশির ভাগই দেশী গরু। সব মিলিয়ে বাজারগুলোতে গরুর আমদানি যেমন কম, তেমনি বেচা-বিক্রিও কম।

এবারের ঈদে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৯টি হাটে কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ২টি স্থায়ী এবং ৭টি অস্থায়ী। এছাড়াও জেলার ১৪টি উপজেলার ১২৭ টি স্থায়ী এবং অস্থায়ী হাটে চলছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা।

এদিকে দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে কোরবানীর গরুবাহী ট্রাকে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। উত্তরাঞ্চল থেকে এক ট্রাক গরু চট্টগ্রামের সাগরিকা বাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে ঘাটে ঘটে চাঁদা দিতে হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বিভিন্নস্থানে পুলিশ চেকপোস্টে এসব চাঁদা আদায় হচ্ছে বলে গরু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।

নগরীর সর্ববৃহৎ কোরবানির পশুর হাট সাগরিকা গরু বাজারের বিট মালিক মো. আলী আকবর খাঁন বলেন, ‘ভারতীয় সীমান্তে গরুর আমদানিতে কড়াকড়ির কারণে ভারতীয় গরু আসা বেশ কিছুদিন ধরে কমে গেছে। এর মাঝেও যা পাওয়া গেছে তার সবগুলো এখনো চট্টগ্রাম এসে পৌঁছায়নি। পথে পথে চাঁদাবাজি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে উত্তরাঞ্চল থেকে গরু এসে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শহরের গরু রাখা ও খাবার দেওয়ার ঝামেলায়, কেও এত তাড়াতাড়ি গরু কিনতে চায়না। তাই ক্রেতারা বাজারে আসলেও কিনছে কম। মূলত এখন যারা আসছে তারা সবাই বাজার দেখার জন্য আসছে। বিক্রেতারাও ক্রেতাদের এই সেন্টিম্যান্ট বুঝে বাজারে কম গরু আনছে। কেনা-বেচা শুরু হবে আরো পরে।’

ফতেয়াবাদে কথা হয় চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা গরু বেপারী মোহাম্মদ জাসিমের সাথে। তিনি বলেন,  ‘গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এক ট্রাক গরু নিয়ে বাজারে এসেছেন। আগামী তিনদিনে আরো তিন ট্রাক গরু আসবে।’

তবে তিনি জানান, ভারতীয় নয়, স্থানীয় বাজার থেকে তিনি এ গরু কিনে এখানে এসেছেন। শহরের  চেয়ে ফতেয়াবাদের পাশে প্রবাসী অধ্যুষিত মাদার্শা থাকায় গরুর দাম বেশি পাওয়া যায় বলেও জানান তিনি।

বিবিরহাটের ইজারাদার মোক্তার আহমেদ জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গরু বাজারে

ক্রেতাবিক্রেতা সবার সুবিধার্থে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন বাজার ইজারাদাররা। গরু বাজারে বেপারীদের জন্য পর্যাপ্ত পানি ও টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের জন্য বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ও বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য প্যান্ডেলের ব্যাবস্থা রাখা হয়েছে। ক্রেতারা চাইলে ক্রয়কৃত গরু ডাক্তারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে নিতে পারবেন।

কোরবানির পশুর হাট ইজারাদারদের সাথে এক বৈঠকে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন, অর্থ ও ট্রাফিক) একেএম শহিদুর রহমান জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিটি গরুর বাজারে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ব্যাবস্থা আছে। তাছাড়া মেট্রোপলিটন এলাকায় র‌্যাব, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের টহল দল থাকবে। প্রতিটি গরুর বাজারে জাল নোট সনাক্ত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ হতে সনাক্তকরণ মেশিন রাখা হবে।

এছাড়া মোটাতাজা গরুর নামে ক্রেতারা যাতে প্রতারিত না হন তার জন্য চট্টগ্রামের ১২৭ টি পশুর বাজারের ৫ লাখ পশুর জন্য এবার ২১ টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।