পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি-মিটার নিয়ে লাখ টাকার বানিজ্যে

প্রকাশ:| বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:৩৮ অপরাহ্ণ

বিদ্যুতের খুঁটি

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ও মিটার সরবরাহ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকার বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পেকুয়া পল্লী বিদ্যুত অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে আঁতাত করে স্থানীয় এক শ্রেণীর লোক বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ও মিটার সংযোগের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সুবিধাবাদী চক্র। এভাবে গত কয়েক মাস ধরে পল্লী বিদ্যুত অফিস কেন্দ্রীক গড়ে উঠা সংঘবদ্ধ দালাল চক্র উপজেলার সাত ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় খুঁটি ও মিটার সংযোগের নামে সাধারান লোকজনের কাছ থেকে আদায় করেছেন লাখ লাখ টাকা। আর এসব ঘুষের টাকা পেকুয়া পল্লী বিদ্যুত অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালেরা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অথচ পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপনের জন্য পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষকে কোন ধরনের টাকা গ্রহণ করেন না বলে জানালেন পেকুয়া পল্লী বিদ্যুত অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. কফি উদ্দিন। তিনি জানান, আমাদের পেকুয়া অফিস থেকে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ও মিটার সরবরাহ করা হয়না। কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুতের অফিসের মাধ্যমে খুঁটিগুলো সরবরাহ করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের নতুন ঘোনা ও পেকুয়ার চর গ্রামের জনৈক সাবেক জনপ্রতিনিধি তার এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি সরবরাহের নামে স্থানীয়দের কাছ থেকে আদায় করেছেন প্রায় দুই লাখ টাকা।

পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের নতুন ঘোনা ও পেকুয়ার চর গ্রামের বাসিন্দা জাতীয় শ্রমিক লীগ উজানটিয়া ইউনিয়ন শাখার আহবায়ক মো. গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেছেন, তাদের গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি সরবরাহের নামে জনৈক লোক প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করে উর্দ্ধতন পল্লী বিদ্যুত অফিসের কর্মকর্তাদের প্রদানের নামে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। তিনি এ ঘটনা সুষ্টু তদন্তসহ পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপনের নামে আদায় করা টাকা উদ্ধারের জোর দাবী জানান। শ্রমিক লীগের ওই নেতা আরো অভিযোগ করেছেন, তাদের গ্রামের সম্প্রতি সময়ে প্রায় শতাধিক পল্লী বিদ্যুতের খু^ঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এসব খুঁটি স্থাপনেও স্বজনপ্রীতি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি খুঁটি একশ ফুট দূরে স্থাপনের নিয়ম থাকলেও কোন কোন স্থানে ৫০ফুট দূরত্বে খুঁটি স্থাপন করেছে পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও একই ভাবে পেকুয়া পল্লী বিদ্যুত অফিস কেন্দ্রীক গড়ে উঠা ইলেট্রিশিয়ানদের নামে সংঘবদ্ধ দালাল চক্র উপজেলার মগনামা, রাজাখালী, পেকুয়া ও শিলখালী ইউনিনের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ ওই চক্রটি বিভিন্ন পাড়া মহল্লার বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিলেও উর্দ্ধতন পল্লী বিদ্যুত অফিসের কর্তাবাবুরা কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এরফলে পেকুয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পল্লী বিদ্যুত অফিস কেন্দ্রীক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র।

এ ্ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে পেকুয়া পল্লী বিদ্যুত অফিসের ইনচার্জ মো. কফিল উদ্দিন জানিয়েছেন, তার অফিসের কেউ খুঁটি সরবরাহের নামে লোকজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করেনি। পল্লী বিদ্যুতের খু^টি স্থাপনের জন্য পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের টাকা নেননা। এরপরেও প্রতারক চক্র স্থানীয় লোকজনের কাছ খুঁটি ও মিটার সংযোগের নামে টাকা আদায় করলে সেটা আমাদের এখতিয়ার বহির্ভূত।