পর্যটন বিকাশে চাই মহাপরিকল্পনা

প্রকাশ:| বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর , ২০১৭ সময় ০১:২২ অপরাহ্ণ

প্রথম আলো থেকে:: কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটনশিল্প বিকাশের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এই দুটি এলাকার মতো সৌন্দর্য বিশ্বের আর কোনো দেশে নেই। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় এসব এলাকার পর্যটন স্থানগুলোর উন্নয়ন করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কক্সবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে প্রথম আলো আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে কক্সবাজার-২ আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক একথা বলেন।
কক্সবাজার পর্যটনশিল্পের বিকাশে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে এই সাংসদ বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইন সম্প্রসারণ করারও প্রক্রিয়া চলছে।
‘পর্যটনের বিকাশ: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন কক্সবাজারের প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আবদুল কুদ্দুস। বৈঠকে কক্সবাজারের বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক জাফর আলম বলেন, কক্সবাজার হচ্ছে দেশের আয়না। এর প্রতিচ্ছবির মাধ্যমে দেশ সারা বিশ্বে পরিচিত হবে। কক্সবাজার এখন যে অবস্থায় আছে, সেই অবস্থায় রেখে এই পর্যটন এলাকাকে সাজানো প্রয়োজন।
কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ফজলুল করিম চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারের উন্নয়ন করতে হলে পরিবেশকে সংরক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়া মিয়ানমারের অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা এখানকার পাহাড় ধ্বংস করে জনবসতি গড়ে তুলেছে। বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাধান করতে হবে।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র সরওয়ার কামাল বলেন, অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ণ হয়েছে। কক্সবাজারের উন্নয়নে ডিটেইল মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। তবে এক বছরের মধ্যে একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করার কাজ চলছে। প্লট টু প্লট পরিকল্পনা নেওয়া না হলে এই শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। কক্সবাজারের উন্নয়নে সব রাজনৈতিক দলকে মতৈক্যে পৌঁছাতে হবে।
বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলার সহকারী পুলিশ সুপার ছত্রধর ত্রিপুরা, কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার, কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আবু তাহের চৌধুরী, কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আয়াছুর রহমান, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কক্সবাজার জেলার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী, কক্সবাজার জেলার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম, কবি শামীম আকতার প্রমুখ।
কক্সবাজারের ১২০ কিলোমিটার সৈকতের মধ্যে মাত্র তিন কিলোমিটার পর্যটন এলাকা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি এলাকা অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। পুরো কক্সবাজারকে ঘিরে বহুমাত্রিক পর্যটনশিল্প গড়ে তুলতে হবে। সবকিছু করতে হবে পরিবেশবান্ধবভাবে। পর্যটন শহরের অধিকাংশ নলকূপের পানি লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও দিন দিন নেমে যাচ্ছে। সৈকতের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বহুতল ভবন তৈরি করে ঘিঞ্জি শহরে পরিণত করা হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতাদের অদূরদর্শিতার কারণে পর্যটনশিল্পের বিকাশ হচ্ছে না—বক্তাদের কথা থেকে এসব অভিমত বেরিয়ে আসে।


আরোও সংবাদ