পর্যটকদের ভিন্ন জগতের হাতছানি দেয় গাঙচিল

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৭ ডিসেম্বর , ২০১৮ সময় ০২:০০ অপরাহ্ণ

দূরে বহু দূরে গাঙচিল
উড়ে উড়ে কাকে খুঁজে বেরায় ?
অসীম শূন্যতায়, যেখানে আকাশ নীল…

নদীর বুকে গাঙচিল থাকবে। এটি বাংলার প্রকৃতির একটি অংশ। এই গাঙচিলের দেখা মেলে বাংলার প্রায় প্রতিটি নদীতে। তবে বাংলা আর আরাকানের মাঝে বয়ে যাওয়া নাফ নদীতে গাঙচিল যেন আমাদেরকে বলে দেয় অন্য রকমের এক ভালো লাগার কথা।

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যেতে জাহাজের বাইরে রেলিঙয়ে দাঁড়ালেই দেখা যায় ঝাঁকে ঝাঁকে গাঙচিল। জাহাজের সামনে-পেছনে ছুটে আসছে একেবারে মাঝ সমুদ্র পর্যন্ত। আবার সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথেও মাঝ সমুদ্র পর্যন্ত এসব গাঙচিল ছুটে আসে জাহাজের সঙ্গে সঙ্গে। এ যেন আত্মীয়-স্বজনকে বাড়িতে সম্ভাষণ জানানো আর বিদায়ের একটি চমৎকার মুহূর্ত। কেউ কেউ এই সম্ভাষণের প্রতিদানে চড়া দামে জাহাজ থেকে চিপস কিনে তাদেরকে খেতে দিচ্ছে। খাবার পেয়ে সম্ভাষণ জানাতে আসা কিংবা বিদায় জানাতে আসা মেজবান গাঙচিলদের আনন্দ তখন আর দেখে কে! এ কারণে সময়ে সময়ে গাঙচিলগুলো উড়তে উড়তে চলে আসে একেবারে হাতের নাগালে।

নাফ নদী পাড় হতে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যেতে কিংবা সেন্টমার্টিন থেকে আসতে সকাল-বিকেলের সূর্যের আলোয় চিক চিক করে নাফ নদীর পানি। নীল রঙের পানির সেই নদীর বুক চিরে চলছে ‘কেয়ারি ক্রুস’। মন মাতানো ঢেউ। ঢেউয়ের খানিক উপরেই সাদা-কালো গাঙচিলের ঝাঁক। দু’চারটি নয়, শত শত গাঙচিল উড়ছে ডানা মেলে। শত মানুষের চোখ সেই গাঙচিলের ডানায়।

নাফনদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে গাঙচিলের উড়াউড়ি, নদীর ঢেউ আর বিকেলের নদীর দৃশ্য যে কাউকে কবি হতে বাধ্য করে।

গাঙচিলগুলো উড়ছে নৌযানের গতিতে, নৌযানেরই দিকে। সেগুলো পানিতে বসছে, আবার ডানা মেলে উড়ছে, কখনও কখনও কাছেও আসছে।

সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথেও সূর্যাস্ত পর্যন্ত নাফ নদীর বুকে দেখা সেই দৃশ্যের কোনো তুলনা হয় না। খাবারের সন্ধানে নদীর বুকে ঢেউয়ে ঢেউয়ে উড়ে আসা এসব গাঙচিল খাবার পাওয়া যাক আর না যাক জাহাজের গতির সঙ্গে উড়ে চলাই যেন এদের আনন্দ। এসব গাঙচিলেরও রয়েছে আনন্দ-বেদনা। তবে তারা সব সময়ে যেমন বেদনাকে লুকিয়ে সুখকে ভাগ করে নেয় সামান্য একটি চিপসের টুকরো। তেমনি আমাদেরও উচিত নিজের দুঃখকে লুকিয়ে সুখকে ভাগাভাগি করে নেওয়া। তবেই পাওয়া যাবে অফুরন্ত আনন্দ আর বেদনাহীন জীবন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাসুদের মতে, গাঙচিল(Seagull) হলো নদীর উপর উড়ে বেড়ায় এমন চিলবিশেষ। গাঙচিল আকৃতিতে মাঝারি থেকে বড় হয়ে থাকে। রং হয় ধূসর বা সাদা; মাঝে মাঝে মাথা ও পাখায় কালো ছোপ দেখা যায়। গাঙচিলের ডাক বেশ কর্কশ। এদের পাগুলো বেশ লম্বা হয়ে থাকে। ডানা লম্বা ও শক্তিশালী। হাঁসের মতো পায়ের পাতা জোড়া। এই কারণে জলে সহজেই সাঁতার কাটতে পারে।

এরা অনায়াসে আকাশে দীর্ঘক্ষণ উড়তে পারে। হাওয়া থাকলে খুব কমই ডানা সঞ্চালন করে। দু’ চারবার ডানা নেড়ে এরা স্বাচ্ছন্দ্যে আকাশে ঘুরে বেড়াতে পারে। মাছ এদের প্রধান খাদ্য। গাল পাখির ডিম খাদ্য হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই সমাদৃত। শুকনো শেওলা দিয়ে বাসা তৈরি করে তাতে দুটি ও তিনটি ডিম পাড়ে।

গাল পাখির ডিম খাদ্য হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই সমাদৃত। ইউরোপ ও আমেরিকায় হেরিং গাল, কালো মাথা গাল, কমন গাল সুপরিচিত। গ্রেট ব্ল্যাক হেডেড গাল হলো সবচেয়ে বড় আকারে সোনালি ঈগলের মতো। গৃহপালিত পায়রা থেকে গাল পাখি ছোট। আমাদের দেশে এদের দেখা খুবই কম মিলে।

জাহাজে যাওয়ার সময় পর্যটকগণ পাখিদের জাহাজের পিছনে ছুটে চলা খুব উপভোগ করেন। একই সাথে তারা পাখি বিষয়ে অসচেতনতার জন্য করেন নানা রকম ভুল। শখশে অনেকে পাখিদের খেতে দেন চিপস, বিস্কিট, পাউরুটি সহ নানা ধরণের খাদ্যবস্তু। এসব খাদ্য বস্তু মানুষের খাবার হলেও পাখিদের জন্য উপযুক্ত নয়। ফলে পাখি গুলো যেমন তাদের খাদ্যাভাস এ পরিবর্তন আনছে একই সাথে পরিবর্তন বা প্রভাব পড়ছে তাদের প্রজনন ক্ষমতার উপর। বাস্তুতন্ত্রের উপর এর প্রভাব লক্ষনীয়।
শীতের সময় আমাদের দেশে এমন অনেক অতিথি পাখি আসে। তবে এরা শীত চলে গেলেই আবার দূর কোনো দেশে চলে যায়। আর এই শীতের সময়টিতে এসব অতিথি পাখিরা আমাদের পরিবেশকে করে তোলে সৌন্দর্যপূর্ণ। এক কথায় বলা যায় এক অসম্ভব সুন্দর করে তোলে আমাদের প্রকৃতি।

সেন্টমার্টিন:
সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত টেকনাফ উপজেলার একটি ইউনিয়ন। এটি একটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এবং এটি বাংলাদেশের সর্ব-দক্ষিণের ইউনিয়ন। এ দ্বীপের অপর নাম নারিকেল জিঞ্জিরা। সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের আয়তন ১৯৭৭ একর (৮ বর্গ কিলোমিটার)। টেকনাফ উপজেলার সর্ব-দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের মাঝে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের অবস্থান। উপজেলা সদর থেকে এ ইউনিয়নের দূরত্ব প্রায় ৪২ কিলোমিটার। এ ইউনিয়নের চতুর্দিকে বঙ্গোপসাগর, তবে উত্তরে টেকনাফ উপজেলার মূল ভূখণ্ডের সাবরাং ইউনিয়ন এবং পূর্বে মায়ানমারের মূল ভূখণ্ডের রাখাইন প্রদেশ অবস্থিত। নয়নাভিরাম সৌন্দর্য অবলোকনের ও ভ্রমণের একটি আকর্ষনীয় পর্যটন এলাকা। প্রতিবছর দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাষু মানুষ বেড়াতে আসে সেন্টমার্টিনে । টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে জাহাজ। আর এই জাহাজে সেন্টমার্টিন যাবার সময় সহসায় চোখে পড়বে ঝাঁকে ঝাঁকে সাদা গাঙচিল। পাখি গুলো যেমন চালাক তেমনি সুন্দর। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন পুরো সমুদ্রপথেই দেখা মিলবে এদের। শুধু সৌন্দর্য নয় সমুদ্র উপকূলের দ্বিতীয় শ্রেনীর খাদক হিসাবে বাস্তুসংস্থানে রয়েছে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা। গাঙচিল ছাড়াও সেন্টমার্টিন উপকুলে সরকারী হিসাব অনুযায়ী থাকার কথা ১২০ প্রজাতির পাখি রযেছে। জাহাজে করে যাওয়ার সময় পাখিদের জাহাজের পিছনে ছুটে চলা খুব উপভোগ করা যায়।

গাঙচিল
গাঙচিল (Seagull) আকৃতিতে মাঝারি থেকে বড় হয়ে থাকে। রঙ হয় ধূসর বা সাদা; মাঝে মাঝে মাথা ও পাখায় কালো ছোপ দেখা যায়। গাঙচিলের ডাক বেশ কর্কশ। এদের পাগুলো বেশ লম্বা হয়ে থাকে। ডানা লম্বা ও শক্তিশালী। হাঁসের মতো পায়ের পাতা জোড়া। এই কারণে জলে সহজেই সাঁতার কাটতে পারে। এরা অনায়াসে আকাশে দীর্ঘক্ষণ উড়তে পারে। হাওয়া থাকলে খুব কমই ডানা সঞ্চালন করে। দু’ চারবার ডানা নেড়ে এরা স্বচ্ছন্দে আকাশে ঘুরে বেড়াতে পারে। মাছ এদের প্রধান খাদ্য। উপকূলের আবর্জনা ঘেঁটে ছোট ছোট পোকামাকড় খায়। এদের বহু প্রজাতি রয়েছে। তাদের অধিকাংশই পরিযায়ী পাখি। এরা বাসা বাঁধে পাথরের খাঁজে। শুকনো শেওলা দিয়ে বাসা তৈরি করে তাতে দুটি ও তিনটি ডিম পাড়ে। গাল পাখির ডিম খাদ্য হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই সমাদৃত। ইউরোপ ও আমেরিকায় হেরিং গাল, কালো মাথা গাল, কমন গাল সুপরিচিত। গ্রেট ব্ল্যাক হেডেড গাল হলো সবচেয়ে বড় আকারে সোনালি ঈগলের মতো। গৃহপালিত পায়রা থেকে গাল পাখি ছোট। আমাদের দেশে এদের দেখা খুবই কম মিলে। এদের প্রধান খাদ্য মাছ, পোকামাকড়, ডিম, বিভিন্ন লতা। এরা অঙ্গুরিঠুঁটো (Ring-billed Gull) নামেও পরিচিত।

সামুদ্রিক পাখি
সামুদ্রিক পাখি হল এমন প্রজাতির পাখি যারা প্রধানত সামুদ্রিক পরিবেশেই নিজেদেরকে মানিয়ে নিয়েছে। সামুদ্রিক পাখিরা জীবনধারা, আচরণ এবং দেহত্ব এই ক্ষেত্রে মারাত্মক রকমের পরিবর্তন, তারা প্রায়ই আকর্ষণীয় অভিসারী বিবর্তন প্রদর্শন করে।

সাধারণত সামুদ্রিক পাখিদের আয়ু অনেক বেশি হয়, এরা প্রজনন করে অনেক পরে, এবং অন্যান্য পাখিদের থেকে কম বাচ্চাদের ধারণ করে। কিন্তু তারা তাদের বাচ্চাদের পিছনে অনেক সময় ব্যয় করে তাদের সেবা-যত্নে। বেশিরভাগ পাখিরাই পাখি কলোনির মধ্যে বাসা বাঁধে। কলোনিতে পাখিদের সংখ্যা কয়েক ডজন থেকে কয়েক মিলিয়ন ডজনও হতে পারে। বেশিরভাগ পাখিই তাদের লম্বা পরিযানের জন্য বিখ্যাত কিছু পথ বিষুবরেখা অতিক্রম করে অথবা কিছু পথ সারা পৃথিবীর জলপথে প্রদক্ষিণ করে এরা পরিযান করে। সামুদ্রিক পাখি খুবই ভাসমান হয়, অথবা তারা সমুদ্রের থেকে অনেক দূরে বছরের অনেক সময় এরা কাটায়।

সামুদ্রিক পাখি এবং মানব জাতি এদের একইসাথে অনেক ইতিহাস আছে। তারা শিকারিদের খাদ্য সরবরাহ করেছে, জেলেদের তাদের মাছ ধরার ভান্ডারে যাবার পথ দেখিয়েছে, এবং নাবিকদেরকে স্থলভূমিতে পৌঁছানোর পথও দেখিয়েছে। এদের অনেক প্রজাতিই মানুষের দ্বারা বিপন্ন এবং সংরক্ষণের প্রচেস্টার অধীনে আছে এটি।

কোন নির্দিষ্ট প্রজাতি বা পরিবার বা গণের অধীনে এই সামুদ্রিক পাখিরা পরে তা এখন স্পষ্ট নয়। দুজন সামুদ্রিক পাখি বিজ্ঞানীর কথায়: “সব সামুদ্রিক পাখিদের একটা সাধারণ চরিত্র হল তারা নোনা জলের খাদ্য গ্রহণ করে, কিন্তু জীববিদ্যার যেকোনো বিবৃতি দিয়েই এটা সত্য; আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নয়। লুন এবং ডুবুরি পাখিরা, যারা লেকে বাসা বাঁধে এবং শীতকালে সমুদ্রে আসে তাদেরকে সাধারণত জলের পাখি হিসেবে ধরা হয়, সামুদ্রিক পাখি হিসেবে নয়। এছাড়াও নানা ধরণের সামুদ্রিক হাঁস যারা অ্যানাটিডি পরিবারের অন্তর্গত তারা প্রচলিত ভাবে তারা সামুদ্রিক পাখির গ্রুপ বা পরিবার থেকে আলাদা। অনেক বক পুরোপুরি সামুদ্রিক হলেও তাদেরকে সামুদ্রিক পাখির পরিবারে ধরা হয় না।

সামুদ্রিক পাখিরা পুরোপুরি একটি সঞ্চয়জাত পরিবেশে বসবাস করে তারাই প্রধান জীবাশ্ম নথিভুক্ত করতে একটা বড় অংশ গ্রহণ করে। তারা ক্রিটেসিয়াস যুগে প্রথম এসেছিল বলে মনে করা হয়, যা হেস্পারোনিথিস যুগের আগে। এই যুগে তারা লুন ও ডুবুরি পাখিদের মতোন সমুদ্রে ডাইভ দিয়ে শিকার ধরত (তাদের পায়ের মাধ্যমে জলের তলায় গিয়ে) কিন্তু ঠোঁটে ভর্তি ধারালো দাঁত ছিল।