পর্যটকদের নিরাপত্তায়কড়াকড়ি আরোপ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৯ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ০৬:৩৮ অপরাহ্ণ

অপহৃতদের উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত
বান্দরবান প্রতিনিধি॥
বান্দরবানের সীমান্তবর্তী রাঙামাটির সিদ্ধুপাড়া থেকে অপহৃতদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। অপহৃত ঢাকার দুই পর্যটক জাকির হোসেন মুন্না এবং আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের দুজন স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইড মাংসাই ম্রো’র ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অপহৃত পর্যটকেরা প্রায়ই বান্দরবান ভ্রমনে আসতেন এবং স্থানীয় ম্রো যুবকও মুন্না’র ঢাকাস্থ বাড়িতে গিয়েছেন কয়েকবার। মুন্না’র ব্যবসা এবং মাংসাই ম্রো’র সঙ্গে সর্ম্পকের কথা জানতে তাদের ঘনিষ্ঠজনেরাও। রাইক্ষ্যংপুকুর পাড়ার বাসিন্দারের আতিতিয়তা এবং বন্ধুর প্রতি অগাদ বিশ্বাস থেকেই নিরাপত্তা বাহিনীর নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে ভ্রমনের উদ্দেশ্যে অরক্ষিত সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করা’কে নিখোঁজ হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে যৌথবাহিনী। আজ শুক্রবার দুপুরে দেড়টার সময় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দেখা করতে যাওয়া অপহৃতদের স্বজনদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মীদের কথাগুলো জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। অপহৃত দুই পর্যটকের বন্ধু স্থানীয় যুবক মাংসাই ম্রো’র বড়ভাই কার্বারী প্রাচিং ম্রো’র সঙ্গে অপহরণকারীদের যোগসূত্র রয়েছে এমন অভিযোগও উড়িয়ে দেয়া যায়না। কার্বারী প্রাচিং ম্রো’সহ স্থানীয়দের উপরও যৌথ বাহিনীর নজরদারী রয়েছে বলে দাবী করেছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি’র বান্দরবানের সেক্টর কমান্ডার অলিউর রহমান বলেন, অপহৃত দুই পর্যটক এবং তাদের স্থানীয় নিখোঁজ বন্ধু’র সন্ধানে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশের যৌথ বাহিনীর ৭টি পেট্টোল টিম অভিযান চালাচ্ছে। সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান ভ্রমনে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আগমন রয়েছে এখানে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিবন্ধিত ট্যুরিস্ট গাইড ছাড়া পর্যটকেরা কোথাও ভ্রমনে যেতে পারবেনা। আর পর্যটকদের নাম ঠিকানা এবং দর্শণীয় স্থান কোথায় কোথায় যাবেন বিষয়গুলো স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পগুলোতে লিখিতভাবে জানাতে হবে। তাহলে পর্যটকদের চলাচল ঝুকিপূর্ণ হবেনা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, দেশী-বিদেশী পর্যটকের আগমন বাড়লে সম্মৃদ্ধ হবে এ অঞ্চল। পর্যটকেরা যদি নিরাপদে এবং বিনা বাঁধায় সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে, তাহলে এখানে দেশী-বিদেশী পর্যটকের আগমন আরো বাড়বে। বিকশিত হবে পর্যটন শিল্প। এ অঞ্চলের পর্যটনের উন্নয়নে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আন্তরিক বাহিনীগুলো।
এদিকে বান্দরবানের দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমনে পর্যটকদের আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। পর্যটকেরা নিরাপদে বান্দরবানের আকর্ষণীয় স্থানগুলো ঘুরে বেড়াতে পারবেন। বান্দরবানের আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, দেশে দুজন বিদেশী নাগরিক হত্যা এবং রাঙামাটি সীমান্তে দুজন পর্যটক অপহরণের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তবে যে কোনো স্থানে হত্যা এবং অপহরণের ঘটনা ঘটলে অঞ্চলগুলোতে পর্যটকের আগমন কমে যায় এটিই স্বাভাবিক। বিচ্ছিন্ন দুটি ঘটনায় বান্দরবানেও পর্যটকদের আগমন কমেছে। বিশেষত বিদেশী পর্যটকদের বেশকয়েকটি বুকিং বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস ঘটনাগুলো শান্তিপ্রিয় বান্দরবানের পর্যটন শিল্পে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো তেমন প্রভাব ফেলতে পারবেনা। কারণ সম্প্রীতির জেলা হিসেবে বান্দরবানের খ্যাতি রয়েছে বিদেশেও।
অপহৃত পর্যটকের বন্ধু আরাফাত ইসলাম রাসেল এবং আব্দুর রউব বলেন, অপহৃতদের মুক্তিপন বাবদ অপহরণকারীরা ৫০ লক্ষ টাকা দাবী করেছে খবরটি কার্বারী প্রাচিং ম্রো’ আমাদের জানিয়েছেন। কিন্তু মুক্তিপনের খবরটি নির্ভরযোগ্য মনে হয়নি। কারণ অপহরণকারীদের এবং অপহৃতদের সঙ্গে আমাদের সরাসরি কোনো কথা হয়নি। বিভিন্ন মাধ্যম হয়ে মুক্তিপনের কথাগুলো অপহৃতদের পরিবারের কাছে পৌছেছে। অপহৃতদের আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে কথা বলে অপহৃতদের খোঁজে আমরা ঢাকা থেকে বান্দরবান এসেছি। প্রেসক্লাবে স্থানীয় মিডিয়া কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি। এখানকার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গেও দেখা করেছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে অপহৃতদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্ঠা চলছে।