পর্যটকদের নজর কাড়বে হোটেল সী পার্ল

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

সি পার্ল হোটেল নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বলা হয় বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারকে। এ সৌন্দর্যের অপার আধার ধারণ করে আছে ইনানী সৈকত। যারা কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন, তাদের আকর্ষণের অন্যতম স্থান ইনানীও। কিন্তু ইনানীতে থাকার কোন মানসম্মত হোটেল-রিসোর্ট না থাকায় পর্যটকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হত।

কক্সবাজারের মূল সৈকত থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে একদিকে সাগর, আরেকদিকে পাহাড়-নদী, অপার সৌন্দর্য ইনানীর বুকে পর্যটকদের থাকার বিড়ম্বনার দিন শেষ হয়ে গেছে। গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচতারকা হোটেল সি পার্ল।

ইনানি সমুদ্রসৈকতের কোল ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচতারকা এ হোটেল। হোটেলের কক্ষ থেকে বঙ্গোপসাগরের দিগন্ত বিস্তৃত উত্তাল ঢেউ, সুনীল আকাশ উপভোগ করা যাবে মন ভরে। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বিশেষ এ সুযোগ করে দিচ্ছে দেশের বৃহত্তম পাঁচ তারকা হোটেল সি পার্ল।

মাত্র নয় হাজার টাকায় ফাইভ স্টার হোটেলের রুমে একসঙ্গে চারজন থাকা যাবে, একই খরচে সকালের নাস্তাও মিলবে। এই ধরনের রুমে রয়েছে দু’টি টয়লেট, খাবার প্লেট, গ্লাস, চামচ, রান্নার চুলা থেকে শুরু করে কিচেনের সকল সরঞ্জাম। হোটেলটির অবস্থান কক্সবাজারের ইনানি সমুদ্র সৈকতের সঙ্গে লাগোয়া।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ হোটেলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

এসময় তিনি বলেন, ক্রীড়াক্ষেত্রের মতই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পও বিশ্ববাসীর নজর কাড়বে। কক্সবাজারে এ পাঁচতারকা মানের হোটেল বিশ্বের পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়াবে। পর্যটক আকৃষ্ট হবেন। দেশের পর্যটন শিল্পে ভাবমূর্তি বাড়ানোর প্রথম পদক্ষেপ হল হোটেল সি পার্ল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফারুক খান, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি, সাইমুম সরওয়ার কমল ও আশেকউল্লাহ রফিক, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, এফবিসিসিআই’র পরিচালক মনোয়ারা হাকিম আলী ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত আলী শিকদার উপস্থিত ছিলেন।

সি পার্লের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে নেদারল্যান্ডের বিখ্যাত চেইন হোটেল রয়েল টিউলিপ। ১৫ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত এই হোটেলে রয়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৪৯৬টি রুম। এসব রুমে রাতযাপন করতে পারবে ৬’শর মত পর্যটক। রয়েছে বড় দুইটি সুইমিং পুল, থাই স্পা, নিজস্ব ব্যবস্থাপনার সমুদ্রসৈকত, ফিটনেস সেন্টার, শিশুদের জন্য থ্রিডি ভিডিও গেইমস। রয়েছে অত্যাধুনিক আটটি ভিন্ন স্বাদের রেস্টুরেন্টও। ১০ হাজার বর্গফুটের একটি ব্যাংকুয়েট হলও রয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক যে কোন সম্মেলন আয়োজন করা যাবে অনায়াসে।

হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল হক শামীম জানান, কক্সবাজারের প্রথম এই ফাইভ স্টার চেইন হোটেল। আট থেকে নয় লাখ টাকায় এই চেইন হোটেলের মেম্বারশিপ পেতে পারবেন যে কেউ। বিনিময়ে ২০০টি দেশের আড়াই হাজার হোটেল ও রিসোর্টে বছরে সাতদিন বিনা খরচে থাকতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তদের জন্য সি পার্ল নির্মাণ করা হয়েছে। হোটেলের সেবা, রেস্টুরেন্টের খাবারের মান ও শিশুদের বিনোদনের বিষয়টিকেই আমরা অগ্রাধিকার দেব।

প্রায় ছয়’শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ হোটেলের মালিকপক্ষ চার’শ কোটি টাকার জোগান দিয়েছে। বাকি দুই’শ কোটি টাকার জোগান দিয়েছে প্রাইম ব্যাংকের নেতৃত্বে নয়টি ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হল, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, এনসিসি, এমটিবি, পূবালী, ওয়ান ব্যাংক, কমার্স ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ কামাল খান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিনিয়োগ ঝুঁকি থাকার পরও আমরা আশাবাদী এই হোটেলের ভবিষ্যত নিয়ে। কারণ ৩৫ শতাংশ কক্ষ প্রতিদিন বুকিং থাকলেই আয়-ব্যয় সমান সমান থাকবে। এর থেকে বেশি বুকিং হলে হোটেলটির লাভ হবে। আমরা আশা করছি আগামী সাড়ে সাত বছরের মধ্যেই হোটেলে বিনিয়োগকৃত টাকা উঠে আসবে। ’

পাঁচ লাখ বর্গফুটের বিশাল এই হোটেলে বর্তমানে ১৪০টি কক্ষ থাকার উপযোগী। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৫ দিনে ৫০টি করে বাকি সব কক্ষ থাকার উপযোগী করে তোলা হবে।

নিউজচিটাগাং২৪/