পরিস্থিতির শিকার সংবাদ সম্মেলনে টিপু

প্রকাশ:| বুধবার, ২২ জুলাই , ২০১৫ সময় ০৯:১৩ অপরাহ্ণ

খুন-মারামারিতে জড়িত থাকার সব অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি আলমগীর টিপু বলেছেন, তিনি পরিস্থিতির শিকার।

কেন্দ্রীয় কমিটির কমিটি ঘোষণার দুদিন পর বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন তিনি, যাকে নিয়ে ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে লেখালেখি হয়েছে।

নতুন সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজনকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে কোন্দলে জর্জর ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটানোর ঘোষণা দেন টিপু।

ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মারামারির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছিলেন টিপু। এছাড়া নগরীর সিআরবিতে দরপত্র নিয়ে সংঘর্ষে জোড়া খুনের ঘটনায় পুলিশের করা মামলার অন্যতম আসামি তিনি।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এক বছর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি বিলুপ্তির পর গত রোববার টিপুকে সভাপতি ও সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আসার পর ছাত্রত্ব না থাকা, জোড়া খুনের আসামি হওয়া এবং ক্যাম্পাসে কোন্দলে জড়িত থাকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন টিপু।

তবে প্রতিটি ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের এই নেতা।

জোড়া খুনের বিষয়ে টিপু বলেন, “ওই দিন সাংগঠনিক কাজে পলোগ্রাউন্ড এলাকায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লিমন ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। ওই সময় পুলিশ গিয়ে আমাদের ধরে নিয়ে আসে।

“পরে থানায় গিয়ে জানতে পারলাম সিআরবিতে জোড়া খুন হয়েছে এবং থানায় আমাকে সে মামলায় আসামি করা হয়।”

২০১৩ সালের ২৪ জুন নগরীর সিআরবিতে দরপত্র নিয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম লিমনের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে যুবলীগকর্মী সাজু পালিত ও আরমান হোসেন নামে এক শিশু নিহত হয়।

সেদিন ছাত্রলীগ নেতা লিমনের পক্ষে টিপু ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের দাবি। তিনি তখন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। লিমন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন। পরে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

২০০৮ সালের জুলাই মাসের মারামারির পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে টিপু বলেন, “সে মরামারিতে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। জুনিয়র ভাইয়েরা মারামারি করেছিল। কিন্তু আমি সেখানে সিনিয়র থাকায় আমাকে জড়ানো হয়েছে।”

২০০৮ সালের জুলাই মাসে ফতেয়াবাদ রেল স্টেশন এলাকায় শাটল ট্রেনে সংগঠিত সংঘর্ষের সময় টিপু দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের ছাত্রত্ব আছে দাবি করে টিপু বলেন, “আমি নিয়মিতভাবে অনার্স শেষ করেছি। মাস্টার্স পরীক্ষা শারীরিক অসুস্থতার কারণে ড্রপ দিয়েছি। এবছর নতুন করে পরীক্ষায় বসব।”

শাটল ট্রেনের বগিগুলোতে ছাত্রলীগকর্মীদের বিভিন্ন দল-উপদল হয়ে সংঘর্ষের বিষয়ে টিপু বলেন, ট্রেনের ‘বগির রাজনীতির সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। বগির কোনো কোন্দলের দায়ভার ছাত্রলীগ নেবে না।

তবে ছাত্রলীগের অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে এবং তাদের অনেকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে স্বীকার করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুজন বলেন, “শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক রাজনীতিকে নতুন কমিটি উৎসাহিত করবে না এবং এব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হবে।”

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের পাশাপাশি সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত হলে তা কঠোরভাবে দমনেরও ঘোষণা দেন নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

টিপু চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে সুজনের পরিচিতি চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে।

“তবে এবার আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের মারামারি হবে না,” বলেন টিপু।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাহেদ সরোয়ার উপস্থিত ছিলেন।