পরিষদের সভা আইসিডি চুক্তি বাতিল করতেই হবে

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ১১:১৩ অপরাহ্ণ

সংসদীয় কমিটির অযাচিত হস্তক্ষেপ সাইফ পাওয়ারকে রক্ষার অপপ্রয়াস

আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের অনুষ্ঠিত এক সভায় অবিলম্বে অবৈধ সাইফ পাওয়ারের সঙ্গে আইসিডিসহ সকল চুক্তি বাতিলের জন্য আবারও আহবান জানানো হয়েছে। এই চুক্তি বাতিল অবশ্যই করতে হবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে। সভায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সাইফ পাওয়ারের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে বলে দাবী করে মন্ত্রণালয়কে সামগ্রীক দুর্নীতির তদন্ত ও সংসদীয় কমিটিকে অযাচিতভাবে বন্দর কর্মকান্ডে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানানো হয়।
বন্দর রক্ষা পরিষদের আহবায়ক এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংগঠন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় বর্তমান ডিপিএম বাদ দিয়ে টেন্ডার আহবানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং বিষয়টি আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয় বলে উল্লেখ করা হয়। সভায় বন্দরের সামগ্রীক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর দেয়া বৈঠকের প্রস্তাবের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেয়ার পরও অদ্যাবধি এব্যাপারে কোন উদ্যোগ গৃহীত না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অপরদিকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কয়েক সদস্যের মনগড়া কিছু কথা বার্তায় সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, তাদের বক্তব্য প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে সাইফ পাওয়ার টেকের অবৈধ কার্যকলাপ ও দুর্নীতিকে রক্ষা করার অপচেষ্টা বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে।
সভায় উল্লেখ করা হয়, ঢাকা আইসিডি নিয়ে চুক্তি অবৈধ হয়ে যাওয়ার পরও তা অদ্যাবধি বাতিল করা হয়নি। নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল চালুর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত সিদ্ধান্ত এখনো অকার্যকর। বরঞ্চ সংসদীয় কমিটি অযাচিতভাবে বিকল্প সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যা নিন্দনীয়। সভায় উল্লেখ করা হয়, এনসিটির অপারেশন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া বন্দর কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার ভূক্ত। এব্যাপাওে একনেক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে এর নির্মাণ ও পরিচালনার কথা রয়েছে। কিন্তু সংসদীয় কমিটির অবৈধ হস্তক্ষেপে বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এনসিটি অদ্যাবধি চালু করা যায়নি। উপরুন্ত ডিপিএম প্রক্রিয়াকে বছরের পর বছর উৎসাহিত করা হয়েছে। সম্প্রমি ডিপিএম এর পরিবর্তে ওটিএম এর যে সিদ্ধান্ত বন্দর কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে তাতেও অবৈধভাবে নাকগলাতে শুরু করেছে সংসদীয় কমিটি। তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে টেন্ডার ডুকমেন্ট নাকি জনৈক এমপি‘র নেতৃত্বাধীন সংসদীয় সাব কমিটিকে দেখাতে হবে। এধরনের বক্তব্য সংসদীয় রীতি নীতি যেমন বহিঃভূত তেমনি বন্দরের স্বাধীন কার্যক্রমেও হস্তক্ষেপের সমতুল্য। যা কৌশলে অবৈধ সাইফ পাওয়ারটেককে পুনরায় বন্দর কাজে নিয়োজিত করার সামিল। এই অবস্থা কোন অবস্থাতেই হতে দেয়া হবে না। সভায় হুশিয়ারি উচ্চারন করে বলা হয়, বন্দরের অবৈধ কার্যক্রম অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে বন্দর রক্ষা পরিষদ যে আন্দোলন শুরু করেছে তা আগামীতে আরো বেগবান হবে। সাইফ পাওয়ারটেক এখনো বন্দর কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নানা অপকর্ম সম্পন্ন করছে। লুটে নিচ্ছে জনগণের অর্থ। সাইফ পাওয়ারটেক মূলত একজন শ্রমিক সরবরাহকারী ঠিকাদার। তার দাপটে বন্দর কর্মকর্তারা তটস্থ। বন্দর তহবিলের অর্থ অবৈধভাবে লুটে নিয়ে সাইফ পাওয়ার তা স্বার্থান্বেষীদের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারা করছে। সংসদীয় কমিটির সদস্যরার এর বেনিফিসিয়ারিকিনা তা নিয়ে জনমনে প্রম্নের উদ্রেক করেছে। অন্যথায় সাইফের প্রতি সংসদীয় কমিটির এতো মোহ কেন, তা নিয়ে জিজ্ঞাসার সৃস্টি হয়েছে। এর কি উত্তর দেবেন সংসদীয় কমিটির সম্মানিত সদস্যগণ। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিকে অবহিত করার জন্য অতিশীগ্রই সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন, এডভোকেট মোঃ মাহফুজুর রহমান খান, আবদুল আহাদ, মোঃ ওয়াহিদুল্লা সরকার, মহিউদ্দিন দস্তগীর, মোঃ ফিরোজ আহমেদ জাবেদ, মোঃ সেলিম, মোঃ নুরুনবী, মোঃ মনির হোসেন, মোঃ আলি হোসেন, মোঃ রেজাউল করিম, মোঃ জামাল, নুরুছফা ভূঁইয়া, আবুল বশর, মোঃ ছালে জঙ্গি, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ জফুর আলম মজুমদার, মোঃ বোরহান উদ্দিন, মোঃ আলমগীর, মোঃ জসিম, আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।