পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ব্যয় চূড়ান্ত

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ১১:১০ অপরাহ্ণ

পাবনার রূপপুরে পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ব্যয় চূড়ান্ত হয়েছে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হচ্ছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা)। মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের দু’টি ইউনিট স্থাপনে কারিগরি ও আর্থিক উভয় সহযোগিতা করছে রাশিয়া। ব্যয়ের ৯০ শতাংশ ঋণ দেবে রাশিয়া। আর এই কেন্দ্রে নতুন প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে দেশটি।

মঙ্গলবার এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মূল কার্যক্রমের অনুস্বাক্ষরও করেছে দুই দেশ। এ চুক্তি সইয়ের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ ৩২টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পন্ন দেশের তালিকায় যুক্ত হলো।

আজ রাজধানীর আগারগাঁও আনবিক শক্তি কমিশনের কার্যালয়ে বাংলাদেশ আনবিক শক্তি কমিশন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব কোম্পানি এটমস্ট্রোএক্সপোর্ট এর মধ্যে এ অনুস্বাক্ষরটি হয়। অনুস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান ও রোসাটমের মহাপরিচালক সার্গেই কিরিয়েনকোসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম ইউনিট ও ২০২৪ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে আসবে। এ কেন্দ্র ৬০ বছর নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এ কেন্দ্রের বিদ্যুতের দাম ৫ থেকে ৬ মার্কিন সেন্ট (চার টাকা থেকে চার টাকা ৮০ পয়সা) হতে পারে।

এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বাংলামেইলকে বলেন, ‘এই অনুস্বাক্ষরের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মূল কাজ শুরু। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে আর কোনো বাধা থাকলো না।’

এদিকে গত ২৭ অক্টোবর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, রূপপুর প্রকল্পের জন্য সাড়ে ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, মূলত প্রকল্প ব্যয় হচ্ছে ১১ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে মূল প্রকল্প ব্যয় ১০. ০৫ বিলিয়ন ডলার। আর বাকি ৯৫ কোটি ডলার অন্যান্য ব্যয়। তবে যেহেতু প্রকল্পের কাজ শুরু হতে আরো সময় লাগবে তাই মুদ্রার অবমূল্যায়নের সম্ভাবনা ধরে সর্বোচ্চ ব্যয় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে।

১১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে রাশিয়া ঋণ দেবে ১০ বিলিয়ন ডলার। এই ঋণের সুদের হার হবে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

এ প্রকল্পের জন্য আগেও বাংলাদেশ রাশিয়ার সঙ্গে ৫০ কোটি ডলারের একটি ঋণ চুক্তি করেছে। এর আওতায় চার ধাপে প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম যেমন- জরিপ, বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা, নকশা প্রণয়ণসহ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ হচ্ছে। এ সংক্রান্ত তিনটি চুক্তিও সই করেছে দুই দেশ।

এদিকে ভিভিআর ১০০০ মডেলের ৪ হাজার মেগাওয়াট কেন্দ্র স্থাপনে তুরস্কের সঙ্গে সম্প্রতি রাশিয়ার চুক্তি হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বাংলাদেশের দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।

এ বিষয়ে পরমাণু শক্তি কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলামেইলকে জানান, রাশিয়া ভিভিআর ১২০০ মডেলের রিঅ্যাক্টর দেবে বাংলাদেশকে। তবে তিনি জানিয়েছেন, এ প্রযুক্তি এখনো কোথাও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়নি। রাশিয়া একে সর্বশেষ প্রযুক্তি হিসেবে অভিহিত করছে। চলতি মাসে এ প্রযুক্তির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রাশিয়াতেও চালু হবে বলে এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ইয়াফেস ওসমান জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

অনুস্বাক্ষরের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে দেখা করেন রাশিয়ান ফেডারেশনের ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক সার্গেই কিরিয়েনকো। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নে নির্ধারিত সময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনিয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় এসভি কিরিয়েনকো প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, সময়সূচি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে জানান, বিদ্যুৎ প্রকল্পটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর বর্জ্য রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেয়া হবে।