পরকীয়া প্রেমের বলি রাজমিস্ত্রী আজিজুল, স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২১ আগস্ট , ২০১৫ সময় ১১:৪৬ অপরাহ্ণ

১৬ আগস্ট কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সদরঘাট থানার পোড়া মসজিদ এলাকা দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হওয়া বোয়ালখালীর বাসিন্দা রাজমিস্ত্রী আজিজুল হকের হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। স্ত্রীর পরকীয় প্রেমের বলি হয়ে স্ত্রীরই পরিকল্পনায় প্রেমিকের হাতে খুন হতে হয়েছে হতভাগা স্বামী আজিজুলকে। এঘটনায় পুলিশ স্ত্রী রেশমা বেগম, প্রেমিক রফিক ও তার বন্ধু সজুনকে গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার দিনভর নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সদরঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মর্জিনা আক্তার মজুর নেতৃত্বে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এরমধ্য দিয়ে ক্লুলেস একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত সময়ের মধ্যেই উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে সদরঘাট থানা পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট সকাল আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে হত্যাকান্ডের শিকার আজিজুল হক ডবলমুরিং থানার মিস্ত্রিপাড়ার রুনার ভাড়া বাসা থেকে রাজ মিস্ত্রির কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে সদরঘাট থানাধীন কদমতলীস্থ বায়তুল জান্নাত মসজিদের (পোড়া মসজিদ) পূর্বপার্শ্বে দি টায়ার হোম দোকানের সামনে রাস্তার উপর দুর্বৃত্তদের আক্রমণের শিকার হন। তিনি ওই স্থানে পৌঁছলে সকাল সাড়ে আটটার দিকে একটি মোটর সাইকেল করে অজ্ঞাতনামা তিন যুবক পায়ে হেটে চলা আজিজুল হককে পিছন দিক থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এসময় গুরুতরভাবে জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মৃত আজিজুল হক। এসময় তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আজিজুলকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। এঘটনায় রাতে মৃত আজিজুল হক এর ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাত তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

সদর ঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মর্জিনা আক্তার মজু জানান, পুলিশ মামলার তদন্তে নেমে প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিশ্বস্ত সোর্সে মাধ্যমে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া সুখবিলাশ এলাকার বাসিন্দা নিহত আজিজুলের স্ত্রী রেশমা বেগমের প্রেমিক রফিক (২৪), ও তার বন্ধু ও হত্যাকান্ডে অংশ নেওয়া কুমিল্লার মুরাদনগরের বাসিন্দা মো.সুজনকে (২২) গ্রেপ্তার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে রফিকের প্রেমিকা নিহত আজিজুল হকের স্ত্রী রেশমা বেগমকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনজনই মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে পরকীয়া প্রেমের কারণে রেশমার পরিকল্পনায় আজিজুল হককে হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন তিনজনই।

পরিদর্শক মজিনা আক্তার আরো জানান, তদন্তকালে গ্রেপ্তার রফিক জানান, মৃত আজিজুল হকের স্ত্রী রেশমা বেগমের পরকীয়া    প্রেমিক রফিক আর গ্রেপ্তার সুজনদু’জনেই বন্ধু। আর এ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হচ্ছে রেশমা বেগম। আর হত্যাকান্ডের দিন মোটর সাইকেল চালিয়ে ছিলেন তাদের আরেক বন্ধু মামুন।

রেশমা বেগমের সাথে রফিকের দীর্ঘ দেড় বছরের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তবে স্বামী আজিজুলের জন্য রেশমা যে ঘর সংসার করছিল বা তাদের সাত বছরের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে সেটিও গোপন রাখে প্রেমিক রফিকের কাছে গোপন রাখে প্রেমিকা রেশমা। এমনকি নিজ স্বামী আজিজুলকে প্রেমিক রফিকের কাছে উত্যক্তকারী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় রেশমা বেগম। রেশমার পরিকল্পনা অনুযায়ী নিহত আজিজুলকে শায়েস্তা করতে প্রেমিক রফিককে  স্বামীর একটি কপি ছবি দিয়ে ছিনিয়েও দেন গ্রেপ্তার রেশমা বেগম।

তারই ধারাবাহিকতায় রফিক দীর্ঘ ২মাস ধরে নিহত আজিজুল হককে হত্যার পরিকল্পনা করে। এই পরিকল্পনায় গ্রেপ্তার সুজনকে সম্পৃক্ত করে তাকে অর্থের লোভ দেখায় এবং হত্যাকান্ড সংঘটিত করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি মোটর সাইকেলেরও ব্যবস্থা করা হয়। একাজে সম্পৃক্ত করা হয় মামুন নামে একজনকে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ১৬ আগস্ট সকাল আনুমানিক সাতটার সময় রফিক তার সহযোগি সুজন ও মোটরসাইকেল চালনাকারী মামুনকে নিয়ে দেওয়াহাটে একত্রিত হয়ে মৃত আজিজুল হককে অনুসরণ করেত থাকে। একপর্যায়ে অনুসরণ করতে করতে সদরঘাট থানাধীন বায়তুল জান্নাত মসজিদের পূর্বপার্শ্বে দি টায়ার হোম দোকানের সামনে রাস্তার উপর পৌঁছলে সকাল সাতটা ১০ মিনিটের দিকে পিছন থেকে প্রেমিকা রফিক মোটর সাইকেলে বসা অবস্থায় ধারালো দা দিয়ে সজোরে আজিজুল হকের মাথার পিছনে কোপ দেয়। এতে আজিজুলকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে দ্রুত উক্ত মোটর সাইকেল যোগে পালিয়ে যায় তিনজনই। পরে নিমতলা নামক স্থানে এসে উক্ত ধারালো দা নর্দমায় ফেলে যে যার মত পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের বিস্তরিত স্বীকার করে দোষ স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তার তিন আসামিরা।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তার রফিক ও সুজনের তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। উক্ত আসামিদের নিয়ে পলাতক আসামী মামুনকে গ্রেপ্তারের জন্য সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানান পরিদর্শক মর্জিনা।