পবিপ্রবি উন্নয়ন ও অগ্রগতির এক যুগ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৩ আগস্ট , ২০১৩ সময় ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

আধুনিক কৃষিবিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে দক্ষ জনশক্তি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০০০ সালে যাত্রা শুরু করে দক্ষিণাঞ্চলের সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার উত্তরে এবং বরিশাল বিভাগীয় শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের ৫ কিলোমিটার পুবে দুমকি উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে ৮৯.৯৭ একর জমির ওপর অবস্থিত পবিপ্রবি ক্যাম্পাস।
বিশ্ববিদ্যালয় হলো যেভাবে : স্থানীয় স্কুলশিক্ষক আলতাফ হোসেনের উদ্যোগে ১৯৭২ সালে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষার দ্বার খুলে দিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘জনতা কলেজ’ নামে একটি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ। দুমকির কৃতীসন্তান, সাবেক মন্ত্রী এম. কেরামত আলী পটুয়াখালী কৃষি কলেজ (জনতা)-এর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮৪ সালে তৎকালীন সরকার কলেজটি জাতীয়করণ করে। ‘৯০-এর দশকে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর প্রাণের দাবি হয়ে ওঠে পটুয়াখালী কৃষি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার। এ লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন পরিষদ। এ পরিষদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৮ সালের ১৫ মার্চ তৎকালীন সরকার পটুয়াখালী কৃষি কলেজকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণের ঘোষণা দেয় এবং ২০০০ সালের ৮ জুলাই পটুয়াখালী কৃষি কলেজের অবকাঠামোতেই পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ২০০১ সালের ১২ জুলাই জাতীয় সংসদে পবিপ্রবি আইন পাস হয়। ২০০২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাস্তব রূপ লাভ করে।
ক্যাম্পাস পরিচিতি : মূল ক্যাম্পাস ৩৮ একর, কৃষি গবেষণা খামার ৩৯ একর ও বহিঃক্যাম্পাস (বাবুগঞ্জ, বরিশাল) ১২.৯৭ একর_ মোট ৮৯.৯৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত দৃষ্টিনন্দন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিশাল মনোরম ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের উত্তর-পশ্চিমাংশে অত্যাধুনিক ছাত্রছাত্রী হল শোভা পায়। এর পাশেই রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং মসজিদের পাশেই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হেলথ কেয়ার সেন্টার। এর উল্টো দিকে গ্রন্থাগার ভবন। একটি প্রশস্ত রাস্তা ক্যাম্পাসের ওপর দিয়ে পুবের পীরতলা থেকে পশ্চিমের পটুয়াখালী-বাউফল মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। এ সড়কের দক্ষিণ দিকে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন। মূল ক্যাম্পাসের পুব দিকে পীরতলা বাজার পেরোলেই ৩৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত কৃষি গবেষণা খামার। আর এখানে রয়েছে ‘সৃজনী বিদ্যানিকেতন’ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক-মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান।
বর্তমান অবস্থা : বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর এ পর্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে এ বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বর্তমানে ৭টি অনুষদে ২ হাজার ৫০০ ছাত্রছাত্রী, ১৯০ জন শিক্ষক, ৯২ জন কর্মকর্তা ও ২৯৬ জন কর্মচারী রয়েছেন। এখানে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি চালু করায় উচ্চতর শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। কেবল কৃষি অনুষদ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও দেশ-জাতির সময়ের চাহিদা পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ে খোলা হয়েছে ব্যবসায় প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা (বিবিএ), কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) অনুষদ, অ্যানিমাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএনএসভিএম) অনুষদ, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ, পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদ এবং খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান অনুষদ।
প্রকৃতিকন্যা ও পর্যটন কেন্দ্র : বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলরের ঐকান্তিক উদ্যোগে ব্যতিক্রমীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সাজাতে ইমাদুল হক প্রিন্স >>
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়নানা ফুলের বাগান তৈরিসহ বনজ, ফলদ এবং ঔষধি বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস লাল-সবুজে ঘেরা আবহমান বাংলার শৈল্পিক কোমলতায় মনোরম পরিবেশে বেষ্টিত। প্রবেশ করলেই দেখা যায় মনোমুগ্ধকর নানান রঙের, গন্ধের ও বর্ণের ফুলে ফুলে বর্ণিল রূপে মাতোয়ারা ক্যাম্পাস। পশু-পাখি এবং হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটকের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পর্যটন কেন্দ্রে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুউচ্চ প্রধান ফটকের ভেতরে প্রবেশ করা মাত্রই দেখা মিলবে লাল কমলের (লেক), দুই ধারে রয়েছে সারি সারি মেহগনি ও নারকেল গাছসহ নানা রকম ফলদ গাছ। বাহারি রঙের ডালিয়া, গাঁদা, গ্লাডুলাস, গোলাপ, ক্যালেন্ডুলা, কসমস, হলিহক, জিনিয়া, বোতামসহ নানা ফুলে সুসজ্জিত রয়েছে প্রশাসনিক ভবনের সামনের ফটক। ঠিক যেন শিল্পীর হাতে অাঁকা ছবি। এ মনোমুগ্ধকর ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ানোর আকর্ষণই অন্যরকম।
ভাইস চ্যান্সেলর ও রেজিস্ট্রারের কথা : সাফল্য ও ঐতিহ্যের ১৩তম বর্ষে পদার্পণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. মো. শামসুদ্দীন ও রেজিস্ট্রার মো. নওয়াব আলী বলেন, ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক এবং এলাকার জনগণের সহযোগিতায় একে একটি আদর্শ ও উন্নতমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজই হচ্ছে জ্ঞান বিতরণ। মানসম্পন্ন প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্যই হলো আমাদের একমাত্র প্রয়াস। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দেশের অন্যতম উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যত দিন থাকব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় সততা, জবাবদিহিতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব। তারা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে নিয়মানুবর্তিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তারা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করে মুক্ত জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের স্বপ্ন। সক্ষম সুদক্ষ গ্রাজুয়েট তৈরি করা, যারা বাংলাদেশের সব ক্ষেত্রে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার ও দেশকে সমৃদ্ধিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ছাত্রছাত্রী-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার সহযোগিতায় এটি দেশের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। সর্বোপরি দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততায় দীক্ষিত হোক এই ক্যাম্পাসের সব ডিজিটাল কার্যক্রম, ধাবিত হোক জাতীয় উন্নয়নের মহাসরণিতে_ এটাই আমাদের কামনা।


আরোও সংবাদ