পটিয়ায় ২০ হাজার নকল ডিমসহ গ্রেফতার-২

প্রকাশ:| রবিবার, ৩০ জুলাই , ২০১৭ সময় ০৯:৫৯ অপরাহ্ণ

পটিয়া প্রতিনিধি:
পটিয়ায় আসল ডিমের ব্যবসার আড়ালে প্লাষ্টিক জাতীয় পদার্থ দিয়ে নকল ডিমের ব্যবসা চালিয়ে আসছে এক ব্যবসায়ী। এই ডিম দেখা গেল পটিয়া পৌর সদরের কামাল বাজারে। এ ধরনের কৃত্রিম বিষাক্ত ডিম বিক্রীর অভিযোগে গতকাল রবিবার তিন ব্যবসায়ীকে আসামী করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেছেন পটিয়া থানা পুলিশ। আসামীরা হলেন, পটিয়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নজরুল ইসলামের পুত্র মোঃ আরমান (২৩), পেকুয়া উপজেলার আবুল কাসেমের পুত্র মোহাম্মদ বেলাল (৩২), রামু উপজেলার মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র নুরুল আবছার (৩২)। তন্মধ্যে আরমান ও বেলালকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করেছে।
শুক্রবার রাতে পটিয়া থানা পুলিশ পৌর সদরের কামাল বাজারের শাহ আমির প্লোট্রি ফার্ম নামের একটি দোকান থেকে এসব নকল ডিম উদ্ধার করে। ওই দিন সন্ধ্যায় পটিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারক (বোয়ালখালী) মোঃ মনির হোসেন দোকান থেকে ১২টি ডিম কিনে বাসায় গিয়ে নুডলুস বানাতে গেলে নকল ডিমের তথ্য ফাঁস হয়। কথায় আছে চোরের দশ দিন গৃহস্থের একদিন। তাই বলে বিচারকের কাছেই নকল ডিম বিক্রি!
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পটিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারক (বোয়ালখালী) মোঃ মনির হোসেন শুক্রবার রাতে পৌর সদরের কামাল বাজার এলাকার একটি দোকান থেকে ১২টি ডিম ক্রয় করেন। সাদা রং এর ডিমগুলো বাসায় নিয়ে তিনি তা দিয়ে নুডলুস বানাতে দেয় পরিবারকে। ডিমগুলো ভেঙ্গে ছেড়ে দিতেই দেখলেন হালকা সাদা রঙের ঘন তরল পদার্থের মধ্যে জাফরানি ও লাল রঙের ছিটেফোঁটায় কি যেন পড়ছে এবং তা প্লাষ্টিকের মত গলে যায়। এতে বিচারকের সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দিলে পটিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ হাজার ডিম উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দোকান মালিকের ছোট ভাই আরমানকে আটক করে। পরে আরমানের তথ্যমতে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার আবুল কাসেমের পুত্র মোহাম্মদ বেলাল (৩২) কে গ্রেফতার করা হয়। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর প্লাষ্টিকের তৈরি নকল ডিম উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় বেশ তোলপাড় চলছে। অনেকে ডিম খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। পুলিশ এখনো নকল ডিমের কারখানার সন্ধান কিংবা মূল হোতাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
দোকানের মালিক মো. আরফাতের জানান, ডিমগুলো কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার এসএইচ পোল্ট্রি এন্ড ফিড নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে পাইকারী কিনেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই প্রতিষ্ঠান থেকে পাইকারী ডিম কিনে পটিয়া কামাল বাজার এলাকার তার ডিমের আড়তে পাইকারী ও খুচরা বিক্রি করে আসছিল। তবে ডিমে ভেজাল আছে কিনা তিনি (দোকানি আরফাত) জানেন না বলে জানান। পুলিশের ধারণা প্লাষ্টিক জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি নকল ডিমগুলো কক্সবাজার থেকে একটি সিন্ডিকেট পটিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারজাত করে আসছিল। সিন্ডিকেটের মূল হোতাকে ধরতে পারলেই নকল ডিম তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যাবে। পটিয়া থানার এএসআই মোঃ মামুন মোস্তফা বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।