পটিয়ায় ভেসেছে ৪ শতাধিক পুকুরের কোটি টাকার মাছ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন , ২০১৭ সময় ০৯:৪৫ অপরাহ্ণ

শ্রীমতিখালের ফের ভাঙ্গন

শফিউল আজম, পটিয়া॥
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ৪ শতাধিক পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এখনো উপজেলার ২২ ইউনিয়নের মধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পানির নীচে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় ভারীবর্ষণের পানি নামতে শুরু করেছে। যার কারণে শ্রীমতিখালে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এদিকে ভাটিখাইনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে কোন সরকারী ত্রাণ সামগ্রী পৌছেনি। তবে পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ভাটিখাইন ও শোভনদন্ডী এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী পৌছে দিয়েছেন। দুইদিনের ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরএলাকার গ্রামীণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে। মোজাফরাবাদে শহীদ স্মৃতি সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাস্তাঘাট ও ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরী শুরু করেছে।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে নিম্মচাপের প্রভাবে গত সপ্তাহে দুই দিনের বৃষ্টিতে পটিয়া উপজেলা ও পৌরএলাকার ৪ শতাধিক পুকুরের কোটি কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। কচুয়াই ইউনিয়নের এ.কে হ্যাচারীর ১২টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। উপজেলার ভাটিখাইন, কাশিয়াস, আশিয়া, আলমদারপাড়া, কেলিশহর, বড়লিয়া, জঙ্গলখাইন, ছনহরা ইউনিয়নে। বাইপাসের ঠিকাদারের অবহেলায় শ্রীমাই খালের ভাটিখাইন স্ট্রিল ব্রিজ এলাকায় ১৩ দিনের ব্যবধানে পুনরায় সোমবার সকালে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে। ভাটিখাইন এলাকার ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বখতেয়ার উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগ নেতারা। এছাড়া উপজেলার ভাটিখাইন, হাইদগাঁও, কেলিশহর, ছনহরাসহ বিভিন্ন জায়গায় পানিতে ভেসে গেছে ৪ শতাধিক পুকুরের মাছ। এতে মৎস্য ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার ক্ষতি সাধিক হয়েছে।
সরেজিমন ঘুরে দেখা গেছে, গত রবিবার ও সোমবারের সারাদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার শ্রীমাই খালের ভাটিখাইন এলাকায় পুনরায় ভেঙে পটিয়া পৌরসভা এলাকা, ভাটিখাইন, ছনহরা, আলমদার পাড়াসহ আশ পাশের ৩ হাজার পরিবার পানির মধ্যে বসবাস করছে। তাছাড়া পৌর সদরের ৪নং ওয়ার্ডের মাঝের ঘাটা, শীলপাড়া, সাজ রেজিস্ট্রার বাড়ি এলাকা, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের গোবিন্দার খিল, আন্তর্জাতিক ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় আল জামেয়া আল ইসলামীয়া মাদ্রাসা ও উপজেলার হাইদগাঁও, কচুয়াই, শোভনদন্ডী, হাবিলাসদ্বীপ, কোলাগাঁও, জিরি, কুসুমপুরাসহ উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিভিন্ন এলাকার ৪ শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। প্রতিদিন এলাকার লোকজন খাল, বিল ও রাস্তা থেকে মাছ ধরতে দেখা গেছে। পৌরসভার কাউন্সিলর গোফরান রানা জানিয়েছেন, বাইপাসে পর্যাপ্ত পরিমান কালভার্ট না থাকায় পানি নিস্কাশন হচ্ছে না। যার কারণে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে পটিয়ার সাংসদ সামশুল হক চৌধুরীকে অবহিত করেছেন। তিনি (এমপি) আশ্বাস দিয়েছেন পানি নিস্কাশনের জন্য বাইপাসে আরো ৩টি অতিরিক্ত কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।
ভাটিখাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বখতেয়ার উদ্দিন বলেন, বাইপাসের ঠিকাদারের অবহেলায় ১৩ দিনের ব্যবধানে শ্রীমাই খালে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে। এলাকার লোকজন বাড়ি-ঘর ছেড়ে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ ৪শ লোকের জন্য খিচুরি ও ইফতারীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এলাকাবাসী সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এছাড়াও পৌরসদরের প্রতিটি ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট ডুবে গিয়ে জন চলাচল দূভ্র্োেগর সৃষ্ঠি হয়। বেশিভাগ পৌর সভার ৩নং ওয়ার্ড সুচক্রদন্ডী রামকৃষ্ণমিশন রোড, আদালত রোড, সাংবাদিক জালাল উদ্দিন সড়ক, আমিরভান্ডার রেলগেইট সড়ক, গুয়াদন্ডী এলাকা, ৯ নং ওযার্ডে আমিরভান্ডার মল্ল বাড়ি এলাকা, নতুন থানার হাট, রেলস্টেশন, ৮ নং ওযার্ড আল জামিয়া মাদ্রাসা, ১নং ওয়ার্ড আল্লাই ওখরা, ২ নং ওয়ার্ড পল্লী মঙ্গল সড়ক, ৪নং ওয়ার্ড গাজীর বাড়ি, বাকখালি সড়ক গত দুদিনের ভারি বর্ষনে পানি জমে গিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

পটিয়া বাইপাস সড়ক প্রকল্পের সমন্বয়কারী ও দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল মিয়া বলেছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির পানির কারনে শ্রীমতি খালের পানিও বেড়ে যায়। যার কারনে বাইপাস সড়কের জন্য নির্মিতব্য সেতুর দু পাশে পানি ঢুকে গেছে। নির্মাণ শেষে সেতুর দু পাশের বাঁধ মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়া হবে। সেতু নির্মাণ কাজের ধীরগতির যে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা তা সঠিক নয়। সেতুটি নির্মাণ কাজের যে সময় দেয়া হয়েছে তা এখনো শেষ হয়নি।
পটিয়া ও কর্ণফুলী মিলে ২২টি ইউনিয়নেই বিভিন্ন হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন ও পুকুরে মাছ চাষ করা হয়। এ উপজেলায় মোট ১০ হাজার ৫০০ পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে আবাদি পুকুরের সংখ্যা ৮ হাজার ৪০০। অনাবাদি পুকুর রয়েছে ২ হাজার ১০০টি। চলতি বছর ৩ হাজার ৫৫৮টি পুকুরে পোনা উৎপাদন করা হয়েছে। বাকিগুলোয় রুই, কাতল, কার্ফু, মৃগল, সরপুঁটি, তেলাপিয়া, ব্রিগেডসহ বিভিন্ন মাছের চাষ করা হয়েছে। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে প্রায় ৩ হাজার পুকুর ডুবে গেছে। এতে মত্স্যচাষীদের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার পোনা ব্যবসায়ী মো. হেলাল বলেন, ‘তিনি এ বছর ছয়টি পুকুরে পোনা ও চারটিতে মাছ চাষ করছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। টানা বৃষ্টিতে আমার ১০টি পুকুর ডুবে পোনা ও মাছ ভেসে গেছে।