পটিয়ায় ভূমি অফিসে অনৈতিক কর্মকান্ডে প্রশাসনে তোলপাড় !

প্রকাশ:| রবিবার, ১৫ জানুয়ারি , ২০১৭ সময় ০৬:১৪ অপরাহ্ণ

 
পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন পটিয়ার সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবনে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকান্ডের ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্ঠি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ভূমি অফিসের এসিল্যান্ডের কথিত পিএস জিয়াউদ্দীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা থাকলেও অদৃশ্য কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা প্রশাসন। হাতেনাতে ধরা পড়ার পরও এসিল্যান্ড কথিত পিএসকে বাঁচানোর জন্য চেষ্ঠা করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুদ্দোজার সরকারি বাস ভবনে গত ৩ জানুয়ারী সকালে এসিল্যান্ডের ব্যক্তিগত সহকারী জিয়া উদ্দীন বাবলু এক যুবতীর সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার বিষয়টি উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই দেখতে পান বলে অফিসের নাইট গার্ড আসাদ জানিয়েছেন।
বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পটিয়া থানা পুলিশের কাছে জানাজানি হওয়ার পর প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্ঠি হয় এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক চক্র অপচেষ্ঠা চালায়। যার কারণে সারা পটিয়ার মানুষ জানির পরও কোনো মিডিয়ায় আসেনি। ঘটনার দিন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি বদরুদ্দোজা ও ভুমি অফিসের নাজির কামরুল ইসলাম, কানুগো আবদুস ছাত্তারকে স্থানীয়রা জানালে অফিসের স্টাফ জিয়াউদ্দীনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে ছিলেন। ভূমি অফিসে আসার জন্য নিষেধ ও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা থাকলেও ভূমি অফিসের স্টাফ জিয়াউদ্দীন বাবলু ঘটনার প্রায় দুই সাপ্তাহ পার হয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বহাল তবিয়তে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়। ভূমি অফিস সূত্রে জানায় ভুমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাত রান্না করার জন্য গত ২০১২ সালের দিকে অস্থায়ী ভিত্তিতে সামান্য বেতনে নিয়োগ পান পটিয়া উপজেলার খরনা কইশ্যা পাড়া এলাকার আবদুল খালেকের পুত্র জিয়াউদ্দীন বাবলু। জিয়া উদ্দীনকে দিয়ে একটি জালিয়তি চক্র বিভিন্ন কাজ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। কিছুদিন ভূমি অফিসের স্টাফদের ভাত রান্না করার পর ভূমি এসিল্যান্ডের কার্যালয়ে কাজ শুরু করেন জিয়া। বনে যান সহকারী কমিশনার ভুমির ব্যক্তিগত সহকারী। জড়িয়ে পড়েন ব্যাপক অনিয়ম দূণীতিতে। এসিল্যান্ডের অফিসের চাবিও তার হাতে থাকায় বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময়ে ফাইল গায়েব, প্রতিপক্ষের সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এত তরফা রায় নিয়ে দেয়া, এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া নামজারী খতিয়ান সৃষ্ঠি করে দেয়া, নামজারী খতিয়ান বাতিল করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্ণতির অভিযোগ রয়েছে জিয়ার বিরুদ্ধে। এছাড়াও জিয়াউদ্দীন বাবলু পটিয়া উপজেলার সাবেক এসিল্যান্ড ও বর্তমান আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গৌতম বাড়ৈ পটিয়ায় থাকা অবস্থায় এসিল্যান্ডের বাস ভবনে একটি যুবতী মেয়েসহ হাতে নাতে ধরা পড়েন। এর আগেও একাধিক বার তার সরকারী বাসভবনে বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবতী মহিলাদের এনে ব্যবসা ও নিজে এ অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছিল। এসময় সাবেক এসিল্যান্ড জিয়াউদ্দীনকে অফিসে ঢুকা নিষেজ্ঞা জারি করেছিলেন বলে স্থানীয়রা জানায়। এ প্রসঙ্গে পটিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুদ্দোজা প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে বলেন বিষয়টি মিমাংসা হয়ে গেছে, জিয়া আমার অফিসের স্টাফ না, সে আমার বাসায় বাজার করে এবং বাসায় থাকেন তবে থানায় মাধ্যমে মিমাংষা হয়ে গেছে, পুলিশ তাদের বিয়ে করে দিয়েছে এখন সমাধান হয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে আমি কেন ব্যবস্থা নেব সে তো আমার অফিসের কেউ না, তবে আমিও সাংবাদিক ছিলাম, পটিয়ার সাংবাদিকেরা বিষয়টি নিয়ে তো কোনো নিউজ করেনি আপনি কেন করবেন এতদিন পর।
এ প্রসঙ্গে পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী টিপু বলেন, সরকারী বাস ভবনে একটি মেয়ে ধর্ষনের শিকার হয়েছে বলে শুনেছি তবে বিষয়টি পুরোপুরি জানি না। তবে ঘটনায় যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
এ প্রসঙ্গে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাশেম বলেন, আমাকে এত বড় একটা ঘটনা কেউ জানায়নি তবে কি কারণে ভূমি অফিসের স্টাফরা জানায়নি সেটা আমি খতিয়ে দেখছি। ঘটনাটি ঘটে থাকলে তদন্ত করে আমি অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব।