পটিয়ায় বিএনপির কর্মী সভায় সংঘর্ষ-ভাংচুর মামলায় ১৭০ জনের জামিন

প্রকাশ:| সোমবার, ১৫ মে , ২০১৭ সময় ১০:২১ অপরাহ্ণ

পটিয়া প্রতিনিধি॥
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কর্মী সভায় পটিয়ায় সংঘর্ষ ও অর্ধ শতাধিক গাড়ী ভাংচুর করার ঘটনায় পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী টিপুসহ ১৭০জনকে মাননীয় হাইকোর্ট জামিন নিয়েছেন। সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও এএসএম বশির উল্লাহর গঠিত যৌথ বেঞ্চ দুই দিনে বিএনপির ১৭০জন নেতাকর্মীকে দুইদিনে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন। তার মধ্যে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এনামুল হক এনামের অনুসারী ৩০ জন ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী মোঃ শাহজাহান জুয়েলের অনুসারী ১৪০জন। মামলার চার্জশীট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে বিএনপির এসব নেতাকর্মীকে জামিন দেওয়া হয়েছে। মাননীয় হাইকোর্টে বিএনপির পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ব্যারিষ্টার খন্দকার মাহবুব উদ্দিন খোকন, এডভোকেট মুজিবুর রহমান, এরশাদুর রহমান রিটু।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ জেলা বিএনপির কর্মী সভা গত ৩ মে পটিয়া উপজেলা সদরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজন করা হয়। বেলা ২টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীরা মিছিলসহকারে কর্মী সভায় যোগ দেন। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম মিছিল নিয়ে কর্মী সভায় ঢুকার সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পটিয়ার সাবেক এমপি গাজী মোঃ শাহজাহান জুয়েলের অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ওই সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহা সড়কে অর্ধ শতাধিক গাড়ী ভাংচুর করা হয়। পটিয়া থানার এসআই ছৈয়দ মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী টিপুকে প্রধান আসামী করে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, বিএনপি নেতা রেজাউল করিম নেছার, হাইদগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুচ মিয়া, খলিলুর রহমান বাবু, তৌহিদুল আলম, মফজল আহমদ, উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আবুল হোসেন বাবুল, জিরি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফিরোজ, পৌরসভা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান পেয়ারু, ফজলুল কাদের জুলুসহ দেড় হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তার মধ্যে ১৮৮ জন এহাজারনামীয় আসামী রয়েছে।
পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় উপজেলা ও পৌরসভার নেতাকর্মীকে মাননীয় হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন। বিনা কারণে দলীয় নেতাকর্মীকে হয়রানি না করতে তিনি পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।