পটিয়ায় ড্যান্ডি নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশুরা

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারি , ২০১৭ সময় ০৮:১৬ অপরাহ্ণ

ওরা নেশা খোর!

শফিউল আজম,পটিয়া
বৃহস্পতিবার দুপুর একটা। পটিয়া উপজেলা গেইটের সামনে ৭/৮জন লোকের জটলা পাকানো দেখে সামনে এগিয়ে গেলাম। জটলার মধ্যে উকি মেরে দেখি ৮-১০ বছরের দুইটি শিশু পাশাপাশি বসে কাঁদছে। একজনের পিছমোড়া হাত বাঁধা আর একজনের হাতে একটি চটের ব্যাগ। খবর নিয়ে দেখলাম এরা দুইজনেই ড্যান্ডি বা গাম নামক নেশায় আসক্ত। পেশায় এরা টোকায়। তাদের বসবাস পৌরসদরের তালতলা চৌকিস্থ ভাড়া বাসায়।
অর্থাৎ জুতা ও অন্যান্য জিনিসের জোড়া লাগানোর কাজে ব্যবহৃত গামের পুড়ানো ধোঁয়া দিয়ে এরা নেশা করে থাকে। এরা নেশার টাকা নিয়ে ও নেশার গাম নিয়ে ঝগড়া করে একজন অপরজনকে মেরে ঠোট ফেঁটে দেয়। পরে এলাকার কয়েকজন যুবক তাদের ধরে একজনকে পিছমোড়া করে হাত বেঁধে রাখে। তখন তারা দুইজনেই কাঁদছিল। তাদের কাছে নাম জিজ্ঞাসা করে জানা গেলো একজনের নাম জাহেদ অন্য জনের নাম মুহাজমিন। পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এদের সংখ্যা প্রায় ৩০-৪০জন। এদের অধিকাংশই টোকায় ও ভবঘুরে। বিভিন্ন লোকজন জানান, এরা পটিয়া সরকারী কলেজ মাঠ, রেলওয়ে ষ্টেশন, মুন্সেফ বাজার, তালতলা চৌকি, পৌরসভা ভবনের পেছনে রেল লাইন, ডাকবাংলো এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে। এলাকাবাসী জানান, এসব নেশাখোরদের বেশীরভাগই শিশু হওয়ায় এবং এ নেশার প্রতি পুলিশের তেমন নজর না থাকায় প্রায়সময় এরা নেশা করেও পুলিশের ধরাছোয়ার বাইরে থাকে। দিন দিন আশংখ্যা জনক হারে বেড়েই চলছে ড্যান্ডি বা গাম দিয়ে শিশু নেশাখোরদের সংখ্যা। এরা বিভিন্ন এলাকায় টোকায় কাজের ফাঁকে নির্জন এলাকায় বসে গাম বা ড্যান্ডি নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। শিশু বয়সে এভাবে বিপদজনক নেশায় আসক্ত হওয়ার কারণে বিভিন্ন পেশার শিশুরা এ কাজে জড়িয়ে পড়ার আশংকা করছে সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মুহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ পিপিএম বলেন, পটিয়াতে যে কোন নেশাগ্রস্থ দ্রব্য ও গ্রহণকারীদের ব্যাপারে পুলিশ কঠোর। প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য উদ্ধার ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার ও আটকের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়টি থানায় এর আগে কোন অভিযোগ না আসায় আমরা অবগত ছিলাম না। আগামী দিনগুলোতে সে ব্যাপারে খেয়াল করা হবে।