‘নৌমন্ত্রীর হুমকির সমুচিত জবাব দেয়া হবে’

প্রকাশ:| সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ১১:১৭ অপরাহ্ণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বন্দি করার নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের হুমকির সমুচিত জবাব দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও সদস্য সচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল। খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশেই তার কার্যালয় নৌমন্ত্রী ঘেরাও করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। আজ রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো মির্জা আব্বাসের প্রেস সচিব জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর স্বাক্ষরিত যৌথ এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তারা। নৌমন্ত্রীর ঘেরাওয়ের নিন্দা জানিয়ে মির্জা আব্বাস ও সোহেল বলেন, সরকারের নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ভাড়াটে কিছু লোকজন হাজির করে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় ঘেরাও করতে চেয়েছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা মনে করি, সরকারের ওপরের মহলের নির্দেশে নৌমন্ত্রীর এই কর্মসূচি চরম উস্কানিমূলক। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশে কার্যালয় ঘেরাওয়ের চেষ্টা হয়েছে। শাহজাহান খান ঘেরাও কর্মসূচির নামে বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করার ঢাকা মহানগর বিএনপিহুমকি দিয়ে চরম দুঃসাহস দেখিয়েছেন। শিগগিরই গণতন্ত্রকামী জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তার এই হুমকির সমুচিত জবাব দেবে। তারা বলেন, গণআন্দোলনে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে দখলদার সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে টার্গেট করেছে। তারা রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহারের মাধ্যমে গুলশান কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ, টেলিফোন লাইন, ডিস লাইন কেটে দিয়ে খালেদা জিয়াকে নেতাকর্মী থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছে। এখন কার্যালয়ে খাবার প্রবেশেও বাধা দেয়া হচ্ছে। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থিত নেতা ও স্টাফদের খাবার প্রবেশে বাধা দিয়ে সরকার যে ঘৃণ্য কাজ করছেন, তা কোন সভ্য সমাজে হতে পারে না। তারা বলেন, সরকার জানে না, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীর সঙ্গে এই বিমাতাসুলভ আচরণ তাদেরকে কোন অন্ধকার পথে নিয়ে যাচ্ছে। জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে পুলিশি প্রটোকল, অস্ত্র, গুলি কোন কিছুই কাজে আসবে না। অবিলম্বে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে খাবার প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা তুলে নেয়ার দাবি জানান তারা। উভয় নেতা বলেন, বিএনপি পেট্রোল বোমার এই ঘৃণ্য রাজনীতি কোনদিনই করেনি, আগামীতেও করবেও না। স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সরকারই বোমার রাজনীতি করছে। হরতাল-অবরোধ চলাকালে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ককটেল ও পেট্রোল বোমাসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। এতেই প্রমাণিত হয়, কারা নাশকতার সঙ্গে জড়িত। নেতৃদ্বয় বলেন, প্রধানমন্ত্রী আন্দোলন দমনের নামে দেশজুড়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিয়েছেন। গুম, খুন, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনই সরকারের কোন সফলতা নেই। দেশের নাগরিকদের এভাবে রক্ত ঝরিয়ে প্রধানমন্ত্রী কী অর্জন করতে চান, আমরা তা জানতে চাই। বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য ঢাকা মহানগরের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান মির্জা আব্বাস ও হাবিব উন নবী খান সোহেল ।