নোয়াপাড়ায় ১১ গম্বুজ বিশিষ্ট ৩৫৭ বছর প্রচীন দৃষ্টি নন্দন মোঘল সম্রাট আলমগীর জামে মসজিদ

প্রকাশ:| রবিবার, ২১ জুলাই , ২০১৩ সময় ১০:৫০ অপরাহ্ণ

নিউজচিটাগাং২৪.কম।।চট্টগ্রামের রাউজানে একটি প্রচীন মোঘল আমলের সম্রাট আলমগীর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ১১ গম্বুজ সম্বলিত একটি মসজিদের রয়েছে। মসজিদউপজেলার নোয়াপাড়া (প্রকাশ শেখপাড়া) গ্রামে এ প্রাচীন মসজিদটি অবস্থিত। দৃষ্টি নন্দন সু-প্রাচিন এ মসজিদটি দেখলে বুঝা যাবেনা না যে এটি কোন প্রাচীন মসজিদ। মসজিদের ১১টি গম্বুজের কারুকাজ দেখে অনেকেই মনে করবে এটি হয়তো অত্যাধুনিক ডিজাইনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আসলে মসজিদটি বয়স ৩৫৭ বছর। এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ০২/০৩/১০৭৭ হিজরী সালে। তৎকালীন সময়ে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন মোঘল সম্রাট আলমগীর।
যার ওয়াক্ফ রেজিঃ নং৭৯৫৭। ওয়াকফতে স্পষ্ট লেখা আছে মোঘল সম্রাট শাহজাহান এর ছেলে বাদশা আলমগীরের (আওরঙ্গজেব) শাসনামলে তার নিদের্শে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১১ গম্বুজের অপূর্ব কলাকৌশলে চুনচুরকির নির্মিত মসজিদটি মোঘল আমলের ঐতিহাসিক স্থাপত্যের একটি অনন্য নিদর্শন।
মসজিদটির সনদ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মসজিদের সমস্ত ব্যয় নির্বাহ করতে এলাকার শাহ জয়নুল আবেদীনকে পুরুষানুক্্রমে ভোগদখল করার জন্য ২৬ দ্রোন জমি তৎকালীন ভারতবর্ষের মোঘল সরকার প্রধান বাদশা আলমগীর কর্তৃক ওয়াক্ফ করা হয়েছিল।
কিন্তু পরবর্তিতে মসজিদের ওয়াকফকৃত জমিগুলোর অনেকাংশ বেদখল হয়ে যায়। বিভিন্ন সময় এলাকার কিছু সার্থেস্বেশী মহল জায়গা গুলো নিজেদের নামে ভোগ দখলে নিয়ে নেয়।
সুদীর্ঘকালের বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি এবং সঠিক তত্ত্বাবধান ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে বর্তমানে মসজিদটির বেহাল দশা। দীর্ঘদিন থেকে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় কমপে¬ক্সটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোন সময় মসজিদ কমপে¬ক্সটি ধসে পড়ার আশংকা রয়েছে। এমতাবস্থায়, মসজিদটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় উপস্থিত মুসলি¬¬¬গণের ভোটে বিগত ৩০/১২/২০১১ ইংরেজি তারিখে ০৭ (সাত) সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠিত হয়। উক্ত কমিটি বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়ের স্মারক পত্র নং-ও:প্র:/চট্ট-২/১৮৯ তারিখ: ১২/০৫/২০১৩ ইং বরাতে ৩ (তিন) বছরের জন্য অনুমোদন লাভ করে। বর্তমানে মসজিদ কমপে¬ক্স ব্যতীত অবশিষ্ট জায়গাজমি বেদখলী অবস্থায় রয়েছে এবং মসজিদের যাবতীয় খরচ নির্বাহের জন্য আয়ের ন্যূনতম কোন উৎসও নেই। ফলশ্র“তিতে, জরুরী ভিত্তিতে মসজিদের সংস্কারের জন্য আর্থিক অনুদান বরাদ্দ ও বেদখলী জায়গাজমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়ে কমিটি কর্তৃক ধর্মমন্ত্রণালয় ও ওয়াক্ফ প্রশাসক বাংলাদেশ,বরাবরে আবেদন করা হয়েছে।