নোয়াখালী-৬ আসনের বিদ্রোহীপ্রার্থীর এক কর্মীসহ৩ জন নিহত

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ১১:০০ অপরাহ্ণ

হাতিয়ায় হামলা-পাল্টা হামলায় নোয়াখালী-৬ আসনের বিদ্রোহীপ্রার্থী আমিরুল ইসলামের এক কর্মীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন।

নোয়াখালীশুক্রবার বিকেলে হাতিয়া উপজেলার নলেরচরে সরকারদলীয় প্রার্থী আয়েশা ফেরদৌস ও বিদ্রোহী প্রার্থী আমিরুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীর নাম মো. ফারুক (৩৫)। তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার রহমতপুর গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে। অপর দুজন হলেন- নুর উদ্দিন (৩৪) ও কালু (৩২)। তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নিহত ফারুক বিদ্রোহী প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আমিরের নির্বাচনী প্রতীক হরিণের পক্ষে প্রচারণার কর্মী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আয়েশা ফেরদৌসের সমর্থক সশস্ত্র ডাকাত বাহিনীর সদস্যরা ফারুককে নলেরচরে দেখতে পেয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এসময় তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে ঘটনাস্থলেই ফারুক নিহত হন। এসময় ফারুকের সঙ্গে থাকা লোকজনও পাল্টা হামলা চালায়। এতে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষের তিনজন গুরুতর আহত হয়।

পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এলাকাবাসী জানান, সরকার দলীয় প্রার্থীর স্বামী সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী তার ডাকাত ও সন্ত্রাসীবাহিনী দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলাঞ্চলসহ পুরো উপজেলায় তাণ্ডব চালিয়ে আসছেন। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপকূলের সব ডাকাত ও তার নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীকে তিনি একত্রিত করেছেন। তারা দ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিপক্ষের প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে।

বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের দাবি, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আয়েশা ফেরদৌসের সমর্থকরা ফারুককে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের অভিযোগ, ফারুক নিজেই একজন ডাকাত সদস্য। গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়েছে।

এ ব্যাপারে হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ ওয়ালী উল্যাহ বলেন, ‘দস্যুতা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও দলের শৃঙ্খলা বহির্ভূত কাজে জড়িত থাকায় মোহাম্মদ আলীকে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নিজে দলে স্থান করতে না পেয়ে এখন তিনি স্ত্রীকে কার্ড হিসেবে ব্যবহার করে এসব কাজ করছেন। এর দায়ভার তার নিজের। আওয়ামী লীগের নয়।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে রাব্বী বাংলামেইলকে জানান, ফারুকের বিরুদ্ধে থানায় কয়েকটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি পলাতক আসামি। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১ জানুয়ারি হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ বন্দরটিলার বৌবাজারে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীরা হরিণ প্রতীকের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাতে গেলে সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় কর্মীদের এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করা হয়। এছাড়া ১০/১২ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে আহত হন অন্তত ১৬ জন।