নোম্যান্স ল্যান্ড থেকে রোহিঙ্গাদের সরে যেতে আবারো মাইকিং

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শনিবার, ১৯ মে , ২০১৮ সময় ০৮:০৮ অপরাহ্ণ

মিয়ানমারের তুমব্রুতে ১৪৪ ধারা জারী

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
মিয়ানমারের তুমব্রুতে ১৪৪ধারা জারী করে সীমান্তের কোনারপাড়া শূণ্যরেখা অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের সরে যেতে আবারো মাইকিং করেছে মিয়ানমারের বিজিপি। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সীমান্তের কাটাতার ঘেঁষে বিজিপি’র টহল জোরদারের পাশাপাশি কয়েক দফা মাইকিং করা হয়েছে। এ সময় মিয়ানমারের বিজিপি নো ম্যান্স ল্যান্ড থেকে রোহিঙ্গাদের সরে গিয়ে বাংলাদেশের অন্যকোন স্থানে আশ্রয় নিতে বলেছে। মাইকিং এর পর থেকে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় গ্রামবাসির মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। ২৫ আগষ্টের পর তুমব্রু শূণ্যরেখায় প্রায় ৮হাজারের অধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আশ্রয় নেওয়ার ফলে বর্তমানে ৫ হাজার রোহিঙ্গা তুমব্রু সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছে। যেখানে কোন মানুষ্য অবস্থানের উপর আর্ন্তজাতিক নিষেধাজ্ঞ বলবৎ রয়েছে। তথাপিও শূণ্যরেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা না পারছে ফিরে যেতে না পারছে সামনে এগুতে । প্রায় সাড়ে ৮মাস ধরে এসব রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার সেনা,বিজিপি ও সেদেশের উগ্রপন্থি রাখাইন জনগোষ্টি বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে বলে সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন নিরব থাকার পর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ আবারো তাদের তাড়ানোর জন্য তৎপর হয়ে মাইকিং করার ফলে জনমনে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চে মিয়ানমার সেনাবাহিনী তুমব্রু সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডের রোহিঙ্গাদের সরাতে একইভাবে মাইকিং করেছিল। সে সময় রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছিল। পরে উভয় দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র উপ-অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহমদ বলছেন, মাইকিং করে মিয়ানমার বিজিপি সদস্যরা বলছে রোহিঙ্গারা যে স্থানে অবস্থান করছে ওই স্থানটি মিয়ানমারের। তাই উক্ত এলাকায় ১৪৪ ধারা জারী করে শূণ্যরেখায় অবস্থিত রোহিঙ্গাদের অন্যত্রে সরে যাওয়ার জন্য বলছে মিয়ানমার। যার ফলে পবিত্র রমযান মাসে রোহিঙ্গাদেরকে আবারো আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সীমান্তে যেকোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য বিজিবিকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। স্থানীয় ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একে জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, সীমান্ত এলাকায় দু’দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পতাকা বৈঠকের পর থেকে সীমান্তের শূণ্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গারা ভাল ছিল। রমযানের শুরুতেই সেদেশের তুমব্রু এলাকায় ১৪৪ধারা জারী করে রোহিঙ্গাদের শূণ্যরেখা থেকে সরে যেতে মাইকিং করাকে কেন্দ্র করে আশ্রিত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় গ্রামবাসির মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।