নোবেল বিক্রি করে দেবেন লজ্জিত বিজ্ঞানী!

প্রকাশ:| সোমবার, ১ ডিসেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

বংশগতির মূলসূত্র ডি-অক্সি রাইবো নিউক্লিক এসিডের (ডিএনএ) গঠন বর্ণনার জন্য যৌথভাবে নোবেল জেতেন মার্কিন বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন ও ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিক। কয়েক বছর আগে বর্ণবাদী মন্তব্য করায় বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হস ওয়াটসন। এই বিজ্ঞানী এখন সামাজিকভাবে রীতিমতো একঘরে। তাই স্বাভাবিক জনজীবনে ফিরে আসার প্রয়াসে নিজের আবিষ্কারের জন্য পাওয়া সেরা পুরস্কারটি বিক্রি করতে যাচ্ছেন তিনি।

ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিকের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় ডিএনএর দ্বৈত সর্পিল (ডাবল হেলিক্স) গঠন আবিষ্কার করেন জেমস ওয়াটসন। এর স্বীকৃত স্বরূপ ১৯৬২ সালে যৌথভাবে তাদের নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।

২০০৭ সালে সানডে টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াটসন বলেছিলেন, ‘কালো মানুষদের সাদাদের মতো বুদ্ধিমত্তা নেই।’

বর্ণবাদী এই মন্তব্যের পরপরই তাকে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বোর্ড অব কোম্পানি থেকে পদচ্যুত করা হয়। একইসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে তার লেকচার দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। রীতিমতো একঘরে হয়ে পড়েন জেমস।

সম্প্রতি ফিন্যানসিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জেমস বলেন, ‘আমার অস্তিত্ব কেউই যেন চাইছিল না।’

সাংবাদিকরা তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে দাবি করে এই বিজ্ঞানী বলেন, ‘আমি আসলে তাদের কাছে (সাংবাদিকদের) ক্ষমা চাইছি। তারা যে লিখেছিল, আমি আফ্রিকার লোকদের জন্য উদ্বিগ্ন। কারণ তাদের বুদ্ধির মাত্রা নাকি কম। তবে তাদের (সাংবাদিকদের) এ কাজটি করা উচিৎ হয়নি।’

একই সঙ্গে নিজেকে অসম্প্রদায়িক বলেও দাবি করেন তিনি।

ড. ওয়াটসন বলেন, ‘নোবেল বিক্রির অর্থের বড় অংশ ক্যামব্রিজের ক্ল্যারি কলেজসহ যেসব প্রতিষ্ঠানে তিনি সহযোগী হিসেবে রয়েছেন তাদের অনুদান হিসেবে দেবেন।’

বিতর্কিত সেই মন্তব্য নিলামে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না এ ব্যাপারে নোবেল পদক নিলামকারী ফ্রান্সিস ওয়াহলগ্রেন বলেন, ‘এটি নিলামে কোনো প্রভাব ফেলবে না। ইতিহাসে এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যারা ভুল করেছিলেন, তাদের আবিষ্কার মানবীয় সেই ভুলকে ছাপিয়ে গেছে।’

আগামী বৃহস্পতিবার নিলামে উঠতে যাওয়া নোবেল পদকটির আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ১৬ লাখ পাউন্ড।