নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পাহাড়

প্রকাশ:| বুধবার, ১৯ আগস্ট , ২০১৫ সময় ০৮:৪৭ অপরাহ্ণ

প্রকৃতি প্রেমী বাঙালিদের পাহাড় আরও বেশি আকর্ষণ করে। বাংলাদেশে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পাহাড় রয়েছে বেশ। যে দেশে কেবল আছে পাহাড়ের চূড়া, মেঘের দল, বৃষ্টির আনাগোনা আর দূর পাহাড় থেকে বয়ে আসা তীব্র বাতাসের শোঁ শোঁ ধ্বনি!কেওক্রাডংয়ে দুরন্ত পাহাড়ি মেঘ
পাহাড়ে শরৎ মেঘের আনাগোনা
বর্ষায় পাহাড়ের রূপ যেন খাপ খোলা তলোয়ারের মতো। নীল আকাশের নিচে সবুজ ডানাগুলো মেলে ধরে তারা যেন আনন্দে মাতে। পাহাড় দেখতে কাঁধে ব্যাকপ্যাক নিয়ে বেড়িয়ে পড়ার এই তো সময়।

উদ্দেশ্য যদি হয় বান্দরবানের কেওক্রাডং। তাহলে তো কথাই নেই। ঘনঘন বৃষ্টির ঘোর কেটে গেলেও আকাশের কালো মেঘের হাতছানি আপনাকে করবে আন্দোলিত। রুমা উপজেলার উঁচুনিচু পাহাড়ি পথ বেয়ে তীব্র গতিতে ছুটে চলা। খোলা আকাশকে দেখে আপনার আরও কাছের মনে হবে।

অবস্থান: কেওকাড়াডং বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এর উচ্চতা এক হাজার ২৩০ মিটার। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত। এক সময় এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ছিল। যদিও আধুনিক গবেষণায় এই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিং ডং। অবশ্য এখনও অনেক নির্ভরযোগ্য সূত্রে কেওকাড়াডংকে সর্বোচ্চ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা সম্পূর্ণ ভুল।

যেভাবে যাবেন: বিভিন্ন পরিবহনের বাসে ঢাকা/চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি বান্দরবানে যাওয়া যায়। সপ্তাহের প্রতিদিন বান্দরবান থেকে রুমার পযর্ন্ত বাস ছাড়ে। বাসে যেতে হয় রুমা বাজার পযর্ন্ত। তাছাড়া বান্দরবান সদর থেকে সরাসরি রিজার্ভ চাঁদের গাড়ি করেও রুমা বাজারে পৌঁছানো যায়। রুমা থেকে গাইড নিয়ে চাঁদের গাড়িতে অথবা পাঁয়ে হেটে বগালেক যাওয়া যাবে। যাওয়ার পথে রুমা বাজার আর্মি ক্যাম্প এবং রুমা থানাতে রির্পোট করতে হবে। বিকালের নাগাদ বগালকে পৌঁছে রাতটা বগালেকে কাটিয়ে পরদিন সকালে পাঁয়ে হেঁটে কেওক্রাডং পৌঁছানো যায়। সেখানে রাতে থাকার জন্য আছে কটেজ।

রুমা থেকে কেওক্রাডং: রুমাবাজার থেকে চাঁদের গাড়ি করে কেওক্রাডংয়ে যেতে হয়। আপনি যদি বর্ষাকালে যান তবে বগালেক পযর্ন্ত পুরো রাস্তা গাড়ি যাবে না। ১১ কিলোমিটার রাস্তা থেকে বাকি ছয় কিলোমিটার পথ ধরে হেঁটে যেতে হবে। বর্ষার পথ মাড়িয়ে পায়ে হেঁটেই যেতে হবে।কেওক্রাডংয়ে দুরন্ত পাহাড়ি মেঘ
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পাহাড়

আপনি চাইলে বগা লেগেও থাকতে পারেন। ওখানে মনোরম কিছু কটেজ রয়েছে।এখানে রাতে পাহাড়ের অদ্ভুত সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। যদি আকাশে চাঁদের আবির্ভাব থাকে তাহলে তো কোনো কথাই নেই। তার আলোতেই পুরো পথ পরিষ্কার বোঝতে পারবেন। ভরা পূর্ণিমায় পাহাড়গুলো কেবল অদ্ভুতই মনে হবে! আকাশে খচিত হাজারও তারার সঙ্গে পাহাড়ের এমন মিতালী শুধু এখানেই ‍খুঁজে দেখা যায়!

এখানকার সকালবেলার খিচুড়ির স্বাদ আপনার ভ্রমণকে বাড়ি দিবে বহুগুণে। সকালের নাস্তা শেষে আপনি কেওক্রাডংয়ের চূড়ার পথে যাত্রা শুরু করতে পারবেন আনন্দচিত্তে। এ পথে আপনার উঁচুনিচু পাহাড়ি পথে হাঁটার অভিজ্ঞতা হবে। আগে থেকেই থাকলেতো খুবই ভালো।

বর্ষাকাল হলে আপনি বৃষ্টির পর পাহাড় জুড়ে আবার মেঘের স্বর্গ দেখতে পাবেন। যা আপনাকে পৌঁছে দিবে নৈসর্গিকতার কোমল স্পর্শে। সাদা সাদা মেঘের দল পাহাড়ি পাড়াগুলোর চারপাশে আবরণ তৈরি করে রাখে সব সময়। মেঘ আর সবুজের ট্রেইল জুড়ে পাহাড়ের চড়াই উৎড়াই। একপাশে বিশাল শনবন অন্যপাশে গভীর খাদ।

দূর থেকে কেওক্রাডংয়ের চূড়াকে ধোয়াটে মনে হয়। সাদা মেঘে ঢাকা। সেখানে ঝড় হচ্ছে বলে মনে হবে আপনার। হওয়ায় ঝাপটায় দাঁড়ানো দায়। বৃষ্টি–বাতাস-মেঘ সময় সময় দখল নেয় চূড়ার আশপাশ।


আরোও সংবাদ