শনিবার জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি

প্রকাশ:| বুধবার, ১৩ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

নেতারা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে
রাতে খালেদা জিয়া কার্যালয়ে যেতে পারেন এই খবরে বুধবার বিকেল থেকেই অনেক নেতা গুলশানের আশপাশে অবস্থান নেন। সন্ধ্যার পর কেউ কেউ বিএনপি প্রধানের কার্যালয়ে ঢুকেও পড়েন। তবে রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়া যখন কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন তখন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন সারির অনেক নেতাও আসেন।খালেদা 2

যদিও এর আগে সম্মিলিত পেশাজীবী ফোরামের ২০ জনের মতো নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে মতবিনিময় করতে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। অন্যদিকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরাও আসেন দলীয় প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে।

এছাড়া খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে আসার ১০ মিনিট পরে আসেন সাংবাদিক শফিক রেহমান।

এ মুহূর্তে কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, শমসের মোবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, তিন মহিলা সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, নিলোফার চৌধুরী মনি, শাম্মি আখতার, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধের প্রজন্মের সভানেত্রী শ্যামা ওবায়েদসহ অঙ্গ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে জে (অব.) মাহবুবুর রহমান আসলেও তিনি কিছুক্ষণ অবস্থান করে চলে যান। তিনি চলে যাওয়ার পর কার্যালয়ে আসেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং আত্মগোপনে থাকা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বিকেলে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে টানা ৭২ ঘণ্টার হরতাল ঘোষণার পর রাতে বিএনপির তিনজন স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ পাঁচ শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার হন। অনেকের বাসায় পুলিশ তল্লাশি চালায়। এমনকি খালেদা জিয়ার বাসার সামনেও অতিরিক্ত পু্লিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর থেকে বেগম জিয়া আর বাসার বাইরে বের হননি। অবশ্য ওই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও পেশার লোকজন তার সঙ্গে দেখা করেন।

আজ বুধবার রাতে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এক বৈঠকে হয়। চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় দলীয় নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে আগামী শনিবার জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

বৈঠক শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, পরবর্তী কর্মসূচি ১৮-দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতাদের নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও পুলিশের আগ্রাসী ভূমিকা সংলাপের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। সরকারের মন্ত্রীরা যা বলছেন, তাতে সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি সরকারের মন্ত্রীরা পদত্যাগ নিয়ে জাতির সঙ্গে তামাশা করছেন। যখন জাতি উদ্বিগ্ন তখন তারা হাতিরঝিলে আতশবাজির উত্সব করছে। এর মাধ্যমে জাতির সঙ্গে বিদ্রুপ করা হয়েছে।’