নূর হোসেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সাতজনের ১১টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল

প্রকাশ:| সোমবার, ৫ মে , ২০১৪ সময় ০৭:৪৯ অপরাহ্ণ

শটগাননারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাত হত্যা মামলার আসামি কাউন্সিলর নূর হোসেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সাতজনের ১১টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আজ সোমবার আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হয় বলে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিয়া।

গত দুই বছরে আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর লাইসেন্স দেয় সরকার। এর মধ্যে সাতটি শটগান, দুটি পিস্তল, একটি রাইফেল ও একটি রিভলবার রয়েছে। এগুলোর একটি রাইফেল ও একটি পিস্তলের লাইসেন্স আছে নূর হোসেনের নামে। গতকাল রোববার আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানায় নিহত নজরুলের পরিবার।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, এসব অস্ত্রের মধ্যে ২০১২ সালে একটি রাইফেল ও একটি শটগানের লাইসেন্স দেওয়া হয়। বাকি সব অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয় ২০১৩ সালে। নিয়ম অনুযায়ী শটগানের লাইসেন্স দেন জেলা প্রশাসক। পিস্তল ও রিভলবারের লাইসেন্স জেলা প্রশাসকের সুপারিশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়। এসব অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার সময় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ছিলেন মনোজ কান্তি বড়াল। সম্প্রতি কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজন অপহরণ ও হত্যার পর মনোজ কান্তি বড়ালকে প্রত্যাহার করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।

নিহত কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও তাঁর শ্বশুর শহীদুল ইসলাম এসব অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবি, নূর হোসেন ও তাঁর অনুসারীদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল এবং তাঁদের গ্রেপ্তার করলেই সাত হত্যার রহস্য উন্মোচন হবে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র জানায়, নূর হোসেন ২০১২ সালে ২২ বোরের একটি রাইফেলের লাইসেন্স পান। পরের বছর তিনি একটি পিস্তলের লাইসেন্স পান। পলাতক হওয়ার আগ পর্যন্ত এ দুটি অস্ত্র সব সময় তাঁর গাড়িবহরে থাকত। নূর হোসেনের ভাই মো. নূরুউদ্দিন মিয়া গত বছরের শুরুতে একটি শটগানের লাইসেন্স পান। নূর হোসেনের ভাতিজা ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল একটি শটগানের লাইসেন্স পান ২০১২ সালে। গত বছর পান একটি পিস্তলের লাইসেন্স।

নূর হোসেনের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচিত মো. শাহজাহান (পিতা-মৃত ইদ্রিস আলী, নয়াআঁটি, সিদ্ধিরগঞ্জ), দেহরক্ষী আলী মোহাম্মদ (পিতা-মৃত আবদুল হক, শিমরাইল, টেকপাড়া), সানাউল্লাহ (পিতা-মৃত জয়নাল আবেদীন, শিমরাইল) ও জামালউদ্দিন (পিতা-সিদ্দিকুর রহমান, মিজমিজি বাতেনপাড়া) গত বছর একটি করে শটগানের লাইসেন্স পান।

নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ও সিদ্ধিরগঞ্জ কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি মো. আরিফুল হক হাসান গত বছর একটি শটগান ও একটি রিভলবারের লাইসেন্স পান।