নূরুল ইসলাম হাশেমীর আহ্বানে ঈদে মিল্লাদুন্নবী (দ) শীর্ষক সেমিনার

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর , ২০১৭ সময় ১০:০০ অপরাহ্ণ

ইমামে আহলে সুন্নাত, সুলতানুল মাশায়েখ আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম হাশেমী (মজিআ)’র আহ্বানে ও সভাপতিত্বে ১২ দিনব্যাপী ৪১ তম ঈদে মিল্লাদুন্নবী (দ) শীর্ষক সেমিনার আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বায়েজিদ জালালাবাদ হাশেমী নগরস্থ দরবারে হাশেমীয়া আলীয়া শরীফে আনজুমানে মুহিব্বানে রসুল(দ:) গাউসিয়া জিলানী কমিটির ব্যাবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে গাউসিয়া হাশেমী কমিটি বাংলাদেশ এর উদ্যোগে শরয়ী ও ঐতিহাসিক বাস্তবতায় ঈদে মিলাদুন্নবীর (দ) গুরুত্ব এবং ১২ দিনব্যাপী সেমিনারের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব শীর্ষক আলোচনা সভা আজ ১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবস্থ ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। দরবারে হাশেমীয়া আলীয়া শরীফের শাহজাদা আল্লামা কাযী মুহাম্মদ আবুল এরফান হাশেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গবেষক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম ছোবহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক আল্লামা মুহাম্মদ নূরুল আবছার। এতে বক্তারা বলেন, প্রিয় নবীর (দ) শুভ জস্মদিনে আনন্দ খুশি উদযাপন করা শরিয়ত সম্মত উত্তম ইবাদত। প্রিয় নবী (দ) নিজেই নিজের জন্মদিন পালন করেন। তাঁর জন্মদিন সোমবার তিনি রোজা রাখতেন। ঈদে মিলাদুন্নবী (দ) উদযাপন করেছেন স্বয়ং আল্লাহ পাক। তাই আজকের আবক্ষয়ের এই দু:সময়ে ঈদে মিলাদুন্নবী(দ) পালনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে জাগতে হবে। সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নবীপ্রেম এবং দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করার ক্ষেত্রে ১২ দিন ব্যাপী ঈদে মিলাদুন্নবী(দ) শীর্ষক সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. মুহাম্মদ মাসুম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ভোগ প্রবণতা দিন দিন বাড়লেও মানুষ কোথাও শান্তি স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছে না। ভোগে শান্তি নেই। ত্যাগেই শান্তি ও মুক্তি আসতে পারে। বাংলাদেশ দূর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে উচ্চশিক্ষিত দুর্নীতিবাজদের কারণে এখানে সাধারণ মানুষের কোনে দায় নেই। তাই আদর্শিত চেতনা ও নৈতিকতার উন্নয়ন ঘটিয়ে জনজীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনার তাগিদ দেন তিনি। প্রবন্ধকার অধ্যাপক মাওলানা নূরুল আবছার বলেন, বর্তমানে অবক্ষয় অস্থিরতা ও হানাহানির এ যুগে ঈদে মিলাদুন্নবীর (দ) সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব অতুলনীয়। এক্ষেত্রে যুুগের দাবি পূরণে এগিয়ে এসেছেন ইমামে আহলে সুন্নাত হুজুর কেবলা (মজিআ)। ১২ দিন ব্যাপী ঈদে মিলাদুন্নবী(দ) সেমিনার অবক্ষয়ের বিপরীতে নৈতিক মূল্যবোধে যুবকদের উজ্জীবিত করেছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আল্লামা হাশেমী ইসলামী মিশনের চেয়ারম্যান সংগঠক কাযী মুহাম্মদ আবুল ফোরকান হাশেমী। বক্তব্যে তিনি ১২ দিন ব্যাপী সেমিনারে সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে শাহজাদা মুফতি আল্লামা কাযী আবুল এরফান হাশেমী বলেন, ইমাম আল্লামা হাশেমীর ১২ দিনব্যাপী সেমিনার একটি মডেল অন্যদের জন্য। তিনি সুন্নিয়তের এই সংস্কৃতি আজ সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আরব দেশেও আজ মিলাদুন্নবী(দ) সাড়ম্বরে উদযাপিত হচ্ছে তিনি উল্লেখ করেন।সংগঠক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নেন মাওলানা কাযী মোদাচ্ছের আহম্মদ হাশেমী, হাজী মুহাম্মদ ইউনুছ কোম্পানী, সাংবাদিক আ ব ম খোরশিদ আলম খান, শাহজাদা কাযী মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন হাশেমী, মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ শাহ এরফান বোখারি, মাওলানা মুহাম্মদ ইদ্রিস আনসারী, গাউসিয়া হাশেমী কমিটি মহানগর শাখার সভাপতি মুহাম্মদ আলী চৌধুরী, মাওলানা ইলিয়াছ আজম নূরী, মাওলানা মনির আহমদ আনোয়ারী, মো: নাজিম উদ্দিন, আশরাফ উদ্দিন হিমেল, হাজী শওকত ওসমান চৌধুরী, মুহাম্মদ নুরুল হুদা, মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মুহাম্মদ ইমরান হোসেইন, আহম্মদ হোসেইন, বদিউর রহমান, কাজী মোহাম্মদ রুকনোজ্জামান, মুহাম্মদ ইসমাইল, আশেকুর রহমান নয়ন, জি, এম, মামুন, মুহাম্মদ জুনায়েদ, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। মিলাদ কিরাম শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ এবং সেমিনারের সফলতা কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহজাদা আল্লামা কাযী আবুল এরফান হাশেমী (মজিআ)।


আরোও সংবাদ