নীল রংয়ের পায়রা

প্রকাশ:| শনিবার, ৯ ডিসেম্বর , ২০১৭ সময় ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

আকাশী নীল রংয়ের পায়রা ‘ভিক্টোরিয়া ক্রাউনড’ দেখতে ভিড় জমিয়েছেন অনেকেই। বিলুপ্তপ্রায় এ পায়রাটির আকার, রং, ঝুঁটি, লেজ সবই আলাদা অন্যান্য পায়রার চেয়ে।

বিভিন্ন জাতের পায়রা, পোষা পাখি এবং পোলট্রি নিয়ে শনিবার চট্টগ্রামে আয়োজিত এক প্রদশনীতে বিরল প্রজাতির এই পায়রাটি স্থান পায়।

চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সাইয়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয় পোষা পাখিদের এ প্রদর্শনী।

এতে শুধু ভিক্টোরিয়ান ক্রাউনডই নয়, রেসার কবুতর ব্লু-বার, মিলিবার, রেজ চেকার যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ম্যাকাউ, বাজেরিগার, রেড লরি, গ্রে প্যারট, ক্রিমসন, মিলি রোজেলার মতো আকর্ষণীয় পাখিও।

সকালে উদ্বোধনের পর প্রদর্শনী দেখতে ভিড় জমান পাখিপ্রেমী বিভিন্ন বয়েসী মানুষ। শুধু ভেটেরিনারি সাইয়েন্সের শিক্ষার্থীরই নয়, নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন এই প্রদর্শনী দেখতে।দর্শকদের বড় অংশই ছিল শিশু; ইট-পাথরের নগরে নানা জাতের পাখি একত্রে দেখতে তাদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
আগ্রাবাদ এলাকার ১২ বছর বয়েসী শিশু আরুবা জানায়, বইয়ে অনেক পাখির ছবি দেখলেও বাস্তবে তা দেখা হয়নি তার।

“এখানে প্রদর্শনীতে এসে অনেক পাখি দেখলাম, তাদের নাম জানলাম। এখানে এসে খুব খুশি লাগছে।”

কদমতলী এলাকা থেকে আসা কিশোর হাসান ঘুরে ঘুরে দেখছিল বিভিন্ন জাতের বিদেশি পায়রা। নানা রংয়ের পাখি, পায়রা যাই দেখছিল, ছবি তুলে রাখছিল সে।

ষোলশহর এলাকার বাসিন্দা শাহীন হোসেন বলেন, “যান্ত্রিক শহরে পাখির তেমন দেখা মেলে না। এ প্রদর্শনীতে এসে নানা জাতের ব্যতিক্রমী বিভিন্ন পাখি দেখাটা সত্যি অন্যরকম।”
এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব এভিয়ান ভেটেরিনারিয়ান, চট্টগ্রাম বার্ড ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম ফেন্সি পিজিওন ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্বদ্যিালয়ের সহায়তায় তৃতীয়বারের মতো এই আয়োজন।

চট্টগ্রাম ফেন্সি পিজিওন ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এ কে চৌধুরী কাশু জানান, প্রায় আড়াইশ রকমের সৌখিন পোষা পায়রা নিয়ে এসেছে এ প্রদর্শনীতে। এদের মধ্যে বিরল প্রজাতির ভিক্টোরিয়া ক্রাউনড যেমন আছে তেমনি লাহোরি, জেকোবিন, ফ্রেঞ্চ মন্টেইন, আর্চ এঞ্জেলও আছে।
আগ্রাবাদের বেপারী পাড়া এলাকায় তাদের সমিতির কার্যালয়। সৌখিন চিন্তা থেকেই এই সংগঠন গড়ে তোলেন তারা।
এই সংগঠনের আরেক সদস্য মোহাম্মদ ফোরকান জানান, ভিক্টোরিয়ান কিং নামের একজোড়া পায়রার দাম প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। এটি আট বছর পর্যন্ত বাঁচে এবং বছরে একটি ডিম দেয়।

“এ জাতের পায়রা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এটি আমরা প্রদর্শনীতে এনেছি।”

প্রদর্শনীর আয়োজক অ্যাসোসিয়েশন অব এভিয়ান ভেটেরিনারিয়ান এর প্রধান নির্বাহী ডা. মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, পোষা পাখির প্রতি মানুষের ভালোবাসা তৈরি করতে প্রথম এ প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় তৃতীয়বারের মতো এ আয়োজন।

তিনি বলেন, “এতে বিভিন্ন প্রাণী ও পোষা পাখির প্রতি মমত্ববোধ তৈরি হয় এবং অনেকে তা লালন পালন করে। পোষা পাখিদের লালন পালনে সচেতনতা তৈরি করাও এ প্রদর্শনীর লক্ষ্য।”
এবারের প্রদর্শনীতে ৩০০ ধরণের পোষা পাখি এবং আড়াইশর ওপরে বিভিন্ন প্রজাতির পায়রা প্রদর্শিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পোষাপাখি ছাড়াও ভেটেরিয়ান মেডিসিনের সাথে যুক্ত বিভিন্ন ওষুধ সংস্থাও তাদের পণ্য নিয়ে এ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে।

দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অ্যধাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ, সিএমপি কমিশনার মো. ইকবাল বাহার, অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুদ্দিন, অধ্যাপক ড. মো. রায়হান ফারুক, অধ্যাপক ড. ভজন চন্দ্র দাশ।