নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জেটিতে রাখা অপর জাহাজকে ধাক্কা

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১১ নভেম্বর , ২০১৬ সময় ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

অল্পের জন্য রক্ষা পেল দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কর্ণফুলী চ্যানেলটি। শুক্রবার (১১ নভেম্বর) সকাল ছয়টার দিকে বহির্নোঙর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটিতে আনার সময় সিমেন্ট ক্লিংকারবাহী ‘এমভি সামির’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জেটিতে রাখা ‘এমভি গাজী’কে ধাক্কা দেয়। এর ফলে এমভি গাজী জেটিছাড়া হয়ে বন্দর চ্যানেলের মাঝবরাবর চলে যায়। এর ফলে তিন ঘণ্টা বহির্নোঙর থেকে জাহাজ জেটিতে আনা যায়নি।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এমভি সামিরকে জেটিতে আনার সময় বন্দরের ভ্যাসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমের (ভিটিএমআইএস) নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে মূল চ্যানেল বরাবর জাহাজ চালানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয় ক্যাপ্টেনকে। এরপর জাহাজটি বাম দিকে আনার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নেভাল জেটির অদূরে সিমেন্ট ক্লিংকার জেটিতে রাখা এমভি গাজীকে ধাক্কা দেয়। ফলে গাজী কর্ণফুলীতে নির্মাণাধীন একটি স্থাপনায় সজোরে ধাক্কা খেয়ে মাঝনদীতে চলে আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, বিদেশ থেকে সিমেন্ট ক্লিংকার বা খোলা পণ্য আনার পর বড় জাহাজ হলে বহির্নোঙরে অপেক্ষাকৃত ছোট জাহাজে খালাস করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটি, ক্লিংকার জেটি, রিভারমুরিং (আরএম) জেটিতে বহির্নোঙর থেকে জাহাজ আনা হয় জোয়ারের সময়। এক্ষেত্রে কর্ণফুলী নদীর জাহাজ চলাচলের পথটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় কোনো জাহাজ দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে ডুবে গেলে বন্দরে জাহাজ আনা-নেওয়া কার্যত বন্ধই হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বন্দর কর্তৃপক্ষ বহির্নোঙর থেকে জাহাজ আনার সময় বন্দরের নিজস্ব ক্যাপ্টেন এবং টাগ বোট ব্যবহার করে।

বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম জানান, কুয়াশার কারণে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়। বর্তমানে জাহাজ দুটি দুর্ঘটনাস্থলের কাছে দুটি জেটিতে (সাইলো ও রুবি) বেঁধে রাখা হয়েছে। বন্দর চ্যানেল নিরাপদ রয়েছে।