নির্যাতন, নিষ্ঠুর অত্যাচার ও গুমের বিরদ্ধে জনমত গঠনের দাবি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন , ২০১৪ সময় ০৯:৪৩ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস উপলক্ষে অধিকার’ চট্টগ্রামের উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশে
নির্যাতন, নিষ্ঠুর অত্যাচার ও গুমের বিরদ্ধে জনমত গঠনে দাবি
নির্যাতিতদের পক্ষে আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস উপলক্ষে এইচ আর ডি নেটওয়ার্ক অধিকার’ চট্টগ্রামের উদ্যোগে এক মানববন্ধন ও র্যালী 26ঞ্জুন সকাল ১১টায় নগরীর প্রেসক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।
মানবাধিকার কর্মী আব্দুল্লাহ মজুমদার সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় মানববন্ধন পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ লায়ন মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, রাজনীতিবিদ, কলামিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী লায়ন আলহাজ্ব মুহাম্মদ শওকত আলী নুর, কলামিস্ট ও সংগঠক কামাল উদ্দিন, টিএইচআরবি’র মহাসচিব কামাল পারভেজ, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক কলামিস্ট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যানেল,সাংবাদিক ও কলামিস্ট আলমগীর নুর, মানবাধিকার ফোরাম সা; সম্পাদক এমদাদুল করিম (সৈকত), সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী নুরুল ইসলাম ফারুকী, লেখক আল জাবেরী, অধিকার কর্মী আব্দুল্লাহ মজুমদার, লায়ন মো. হোসেন, মোহাম্মদ রানা, .সাংবাদিক সুজিত কুমার বড়–য়া (শিমুল), বাবুল হোসেন বাবলা বিপ্লব দাশগুপ্ত, পারভীন আক্তার, দিদারুল আলম, ইমরান সোহেল, ফরহাদুল ইসলাম, ছাত্রফোরামের বেলাল হোসাইন ,জহিরুল ইসলাম, সিএম আয়াদুল হক, রাশেদুন্নবী, ইমরানুল হাসান,ইসমাইল হোসেন তুহিন ,ফোরকান উদ্দিন. মো. অলি,মোহাম্মদ রানা, আবদুল মোমেন, বিন্তাজ পিওপল, কামরুল ইসলাম, , বিজিসি ট্রাষ্ট বিশ্বদ্যায়ের ছাত্র জহিরুল ইসলাম জহির, ইমরানুল হাসান আরাফাত, প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মূলপ্রবন্ধ পাঠ করেন অধিকার কর্মী মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, অধিকার চট্টগ্রামের ফোকাল পারসন ওচমান মো. জাহাঙ্গীর স্বাগত বক্তব্যে বলেন , অধিকার নির্যাতন ও গুমের বিরদ্ধে জনমত গঠনে কাজ করে আসছে সেই অপরাধে সরকার অধিকারের কার্যক্রম বন্ধের বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র করছে এমন কি অধিকারের বিভিন্ন ফান্ড ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে । র্যালী ও মানববন্ধন পূর্ব সমাবেশে বক্তারা বলেন, যারা দেশে দেশে নিষ্ঠুর অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাঁদের প্রতি দুনিয়াব্যাপী সংহতি জানাবার দিবস আজ। নির্যাতিতের প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে সংহতি জানাবার এই দিনে আমরাও পৃথিবীর যে কোন দেশে যারা অত্যাচার নির্যাতনসহ নানান নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন তাদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছি। রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নির্যাতন মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় একটি বড় বাধা। অধিকার বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন জারী রাখার লক্ষ্যে সংগ্রামে নিয়োজিত রয়েছে। মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে অধিকার অবিলম্বে নির্যাতন বিরোধী আইনের বাস্তবায়নসহ বাংলাদেশ কর্তৃক অনুস্বাক্ষরিত নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কনভেনশনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সেই সঙ্গে কনভেনশন এগেইনস্ট টর্চার-এর অপশনাল প্রোটোকল অনুমোদনের দাবি জানাচ্ছি। অধিকার জনগণকে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি নির্যাতন বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। মানববন্ধন থেকে নির্যাতন বন্ধে নিম্নলিখিত কয়েকটি সুপারিশ পেশ করা হয়। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে ১. বাংলাদেশের সংবিধান এবং নির্যাতন বিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে অনুস্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসংঘের বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করতে হবে। ২. অবিলম্বে নির্যাতন বিরোধী আইনের বাস্তবায়নসহ নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু বন্ধ করতে হবে। ৩. নির্যাতনকারী নির্যাতন করেও দায়মুক্ত থাকে। দীর্ঘদিন ধরে বহাল এই দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। ৪. মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নির্যাতন বন্ধে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও পৃথক তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান গঠন করতে হবে। ৫. আইন প্রয়োগহারী সংস্থার হেফাজতে নির্যাতন বন্ধ করার জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য কারো ওপর নির্যাতন করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে। ৬. ২০০৩ সালে ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ মামলায় দেয়া সুপ্রিম কোর্টের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। ৭. নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদের কোনভাবেই বাঁধা দেয়া চলবে না।


আরোও সংবাদ