নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের প্রস্তাব এরশাদের

প্রকাশ:| বুধবার, ২ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

 হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন ক্ষমতাসীন মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।

বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এই প্রস্তাবের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

এতে বর্তমানের আসনভিত্তিক নির্বাচনের পরিবর্তে ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টনের প্রস্তাব দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ।

এসময় বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যদি নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী হতো, তাহলে নিশ্চিন্তে ভোট করা যেত। কিন্তু এই কমিশনের ওপর ভরসা করা যায় না। তাদের ওপর কারও আস্থা নেই।”

জাপা চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশ নেওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, ‘যদি নির্বাচন হয় এবং সব দল অংশ নেয় তাহলে জাতীয় পার্টিও ওই নির্বাচনে অংশ নেবে।”

নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারে প্রস্তাব তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয।

এরশাদ তার প্রস্তাবে বলেছেন, জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে সব রাজনৈতিক দল সামর্থ্য অনুসারে প্রার্থী মনোনীত করে নির্বাচন কমিশনে একটি তালিকা জমা দেবে। তালিকার সঙ্গে সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা থাকবে। একই প্রার্থী একাধিক দলের তালিকায় থাকলে তার প্রার্থিতা বাতিল হবে। সব দল নির্ধারিত কোটা অনুসারে (সাধারণ ৫০ শতাংশ, মহিলা ৩০ শতাংশ, সংখ্যালঘু ১০ শতাংশ, পেশাজীবী ১০ শতাংশ হারে) প্রার্থী তালিকা তৈরি করবে।

এরশাদের প্রস্তাব- ভোটার সরাসরি প্রার্থীকে নয়, দলকে ভোট দেবে। সব দল প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদে আসনের সদস্য পাবে। কোনো দল ন্যূনতম এক শতাংশ ভোট পেলেও তারা তিনজন সদস্য পাবে। ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পেলে ৪টি আসন লাভ করবে। অবশিষ্ট ভগ্নাংশের যোগফলের সুবিধা সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত দল ভোগ করবে। কোনো কারণে সংসদে পদ শূন্য হলে উপ-নির্বাচনের প্রয়োজন হবে না। দল নতুন সদস্য মনোনয়ন দেবে।

তবে এরশাদ এই প্রস্তাব এখনই সংসদে তুলবেন না। তিনি জানিয়েছেন, এর পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য কাজ করবেন।

প্রস্তাবের কারণ ব্যাখ্যা করে এরশাদ বলেন, “এ পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন হবে না। একটি স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশনই যথেষ্ট।”

নির্বাচনে বড় দুই দলের পেশীশক্তির ব্যবহারে হানাহানি হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার হলে পেশীশক্তির ব্যবহার বন্ধ হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমেদ, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব এবিএম রহুল আমিন হাওলাদার এমপি, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংগঠন জানিপপ’র চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ প্রমুখ।