নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব সর্বনাশা: বিএনপি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই , ২০১৩ সময় ০৪:৪২ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী ও তার মনোনীত ২০ ব্যাক্তিকে স্ব স্ব পদে অধিষ্ঠিত রেখে রাষ্ট্রীয় পরিচয় ও নিরাপত্তা নিয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ Bnp-Ec-sm20130711060544ও দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেয়ার সুযোগ দিয়ে নির্বাচন কমিশনের আনীত সংশোধনী প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের এ পদক্ষেপ অপরিণামদর্শী ও সর্বনাশা। নির্বাচন কমিশনকে বৈষম্যমূলক, অসাধু ও গর্হিত সংশোধনী প্রস্তাব প্রণয়ন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নজরুল বলেন, ‘সরকারের প্রতি অনুগত্য প্রকাশ করেই নির্বাচন কমিশন এমন সংশোধনী আনতে চায়। নির্বাচন কমিশন যদি তাদের প্রস্তাব বাতিল না করে তবে ওই সিদ্ধান্ত ইসিকে তীব্র জনরোষের মুখে ঠেলে দিবে। এতে বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো বাড়বে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘সরকারে অনুগত ইসি প্রধানমন্ত্রী ও তার মনোনীত ২০ জন ব্যক্তিকে স্ব স্ব পদে অধিষ্ঠিত করে যে আরপিও সংশোধনীর প্রস্তাব অনুমোদন করতে যাচ্ছে বলে পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, এটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিপন্থী। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের এমন সংশোধনী নিশ্চিত আরেকটি জাতীয় সংকটের জন্ম দেবে। যা গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানকে অনিশ্চিত করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী একটি দলকে নির্বাচনী প্রচারণায় বিশেষ সুযোগ দেয়া হলে অবশ্যই প্রচারণার ক্ষেত্রে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নস্যাৎ করে দেবে। ফলে নির্বাচনের ফল অনিবার্য কারণেই দেশবাসীর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না।’

বিএনপির এই জেষ্ঠ্য নেতা নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের উচিত আরপিও প্রস্তাবিত প্রস্তাব প্রত্যাহার করা। তা যদি না পারেন তাহলে পদত্যাগ করে নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি রক্ষা করুন।’

তিনি বলেন, ‘একটি অসাধু ও উদ্দেশ্যমূলক আইন প্রণয়ন ইসিকে আরো সরকারের অনুগত ও আজ্ঞাবাহক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনোভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।’

সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী একটি দলকে নির্বাচনী প্রচারণায় বিশেষ সুযোগ দেয়া হলে অবশ্যই তা প্রচারণার ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং নস্যাৎ করে দেবে, এতে নির্বাচনের ফলাফল জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের জয়ের কোনো সম্ভাবনা নাই। এটা জেনেই তারা চেষ্টা করছে কীভাবে কারচুপি করে জেতা চায়। সেই চেষ্টার অংশ হিসেবেই ইসি আরপিও সংশোধনীর প্রস্তাব হাতে নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যদিও নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তে আমরা অবাক হইনি। কেননা উত্তর, পূর্ব, পঞ্চিমে একই কথা আওয়ামী লীগকে আর না। সিটি নির্বাচনের ফলই তার প্রমাণ।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, রুহুল কবির রিজভী, যুবদল সভাপতি অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম আযাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার, বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।