নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার চায় বিএনপি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৪ মে , ২০১৭ সময় ০৯:৫৩ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কর্মী সভায় ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন

৪ বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সমাবেশ চট্টগ্রাম মাহনগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত হয়। এতে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্তিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মো: নাছির উদ্দীন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার, অধ্যাপক সুকুমার বড়–য়া, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বেগম নূরে আরা ছাপা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন উর রশীদ হারুন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের সঞ্চালনায় কর্মী সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, শামশুল আলম এডভোকেট আব্দুস সাত্তার, মো: মিয়া ভোলা, এম.এ আজিজ, এস.এম সাইফুল, সৈয়দ আজম উদ্দীন, কাজী বেলাল, মো: আলী, হারুন জামান, ইসকান্দার মির্জা মোশারফ হোসেন দিপ্তী, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, শামশুল হক, মনোয়ারা বেগম মনি, আনোয়ার হোসেন লিপু, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, কামরুল ইসলাম, গাজী সিরাজুল্লাহ, বেলায়েত হোসেন বুলু, জেলি চৌধুরী সহ থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্তিত ছিলেন।

প্রধান অথিতির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, এই দেশে গণতন্ত্র নেই। কোন দেশের স্থিতিশীল গণতন্ত্র ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। গণতন্ত্র এখন এই সরকারের বাক্স বন্দি। বিগত এক দলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষের ভোটার অধিকার হরণ করেছে। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারে নাই। বিএনপিকে এই সরকার ভয় পাই। এই সরকার গণতান্ত্রিক নয়। এই সরকার ফ্যাসিস্ট কায়দায় দেশ শাসন করছে। বিএনপি সভা সমাবেশের অনুমতি চাইলে সরকার অনুমতি দেয় না। বিএনপির সেই দল যে দলের প্রধান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। এই সরকার ব্যাংক লুট থেকে জনগণের টাকা লুটেপুড়ে খাচ্ছে। এই সরকার কথায় কথায় ঘুম, খুন ও নির্যাতন নিপীড়ণ চালিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগেই চট্টগ্রামে নির্মমভাবে ছাত্রনেতা নুরুকে হত্যা করা হয়েছে। দেশে আইনের শাসন নেই। তা প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে প্রমাণিত হয়। এই সরকারের সময়ে আবার নতুনকরে জঙ্গীবাদের উত্থান হয়েছে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতেই এই জঙ্গীবাদের উত্থান নাটক সাজিয়েছে। দেশের মানুষের ভোটার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন একটি সহায়ক সরকার দরকার।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামীলীগ বিএনপি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়। তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশে সন্ত্রাস কায়েম করছে। আওয়ামীলীগ সরকারের বৈধতা নাই। সংসদেরও বৈধতা নাই। ৫ই জানুয়ারী মার্কা আর.একটি নির্বাচন এদেশে সম্ভব নই। এটা আওয়ামীলীগ বুঝতে পেরেছে। বিদেশী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো আওয়ামীলীগকে চাপে রেখেছে। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধান বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশেষ অথিতির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, ভারতের সাথে কী চুক্তি হয়েছে তা জনসম্মূখে প্রকাশ করা হোক। বিএনপি যদি চীনের সাথে সামরিক চুক্তিতে দেশের সার্থ বিঘিœত হয় তাহলে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তা আছে। সেগুলোও সরকার প্রকাশ করুক।
বিশেষ অথিতির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার বলেন, বাংলাদেশ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বর্তমান অগনতান্ত্রিক সরকারের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সমগ্র রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস উপেক্ষা করে যারা এই কর্মী সমাবেশকে সফল করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে লড়তে হলে ঐক্য বদ্ধ হতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি প্রমাণ করেছে ঐক্যবদ্ধ হলে যে কোন অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হওয়া যায়। আওয়ামীলীগ পতিত স্বৈরাচার এরশাদের সাথে আতাত করে দেশের প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রকে বিষর্জন দিয়েছে। আজকে দেশের আইনের শাসন নেই, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই, রাষ্ট্র তন্ত্রের উপর ভর করেই দেশ পরিচালনা করছে এই সরকার।
বিশেষ অথিতির বক্তব্যে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন সহজ হবে না। আর একটি প্রহসনের নির্বাচন এদেশে হতে দেওয়া হবেনা।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আবার রাজপথে পিরে যাব। তিনি নেতাকর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানান।